আগামীর সময়

সার রপ্তানি সীমিত করেছে চীন, নতুন সংকটে বিশ্ব

সার রপ্তানি সীমিত করেছে চীন, নতুন সংকটে বিশ্ব

ছবিঃ রয়টার্স

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর পর থেকে সংকটে থাকা সারের বাজারে নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে চীন। নিজ দেশের কৃষকদের চাহিদা মেটাতে সার রপ্তানি সীমিত করেছে বেইজিং। ফলে ইতিমধ্যেই চাপে থাকা বিশ্ববাজার আরও সংকটে পড়তে যাচ্ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলার পর প্রথম ধাক্কা লাগে জ্বালানি তেলের বাজারে। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য নানা উদ্যোগ স্বত্বেও বাড়ছে তেলের দাম। তবে সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সার রপ্তানিও বন্ধ হয়ে গেছে সেই সংবাদ উপেক্ষিত থেকেছে। সমুদ্রপথে বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সার হরমুজ প্রণালি দিয়ে রপ্তানি হয়। অন্যদিকে চীন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সার রপ্তানিকারক দেশ। গত বছর দেশটি ১৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের সার রপ্তানি করেছে। নতুন করে দেশটির সার রপ্তানিতে বিধিনিষেধ ইতিমধ্যে চাপে থাকা বাজারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

রয়টার্স জানাচ্ছে, মার্চের মাঝামাঝি সময়ে বেইজিং নাইট্রোজেন-পটাশিয়াম মিশ্র সার এবং কিছু ফসফেটজাত সার রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। বার্তা সংস্থাটি জানাচ্ছে, ইউরিয়ার ওপর আগে থেকেই বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা ও রপ্তানি কোটার পাশাপাশি বর্তমানে খুব অল্প কিছু সার— বিশেষ করে অ্যামোনিয়াম সালফেট রপ্তানি করছে চীন। এতে গত বছর চীন যে পরিমাণ সার রপ্তানি করেছিল, এবার তার অর্ধেক থেকে তিন-চতুর্থাংশ কমে গেছে। রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, এই পরিমাণ সর্বোচ্চ ৪ কোটি মেট্রিক টন পর্যন্ত হতে পারে।

বিএমআইয়ের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ম্যাথিউ বিগিন বলছেন, এই ধারা নতুন নয়; বৈশ্বিক সংকটের সময় চীন বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর বদলে বরং সীমিত করে। তার ভাষ্য, চীন খাদ্যনিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং অভ্যন্তরীণ বাজারকে দামের অস্থিরতা থেকে সুরক্ষিত রাখতে চাইছে।

    শেয়ার করুন: