ইপিএস বৈচিত্র্য
আয়ের শীর্ষে বহুজাতিক সিমেন্ট কোম্পানি, চাপে দেশি প্রতিষ্ঠান

সংগৃহীত ছবি
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সিমেন্ট খাতের কোম্পানিগুলোর মুনাফায় বড় ধরনের তারতম্য লক্ষ করা যাচ্ছে। কাঁচামালের আন্তর্জাতিক মূল্য বৃদ্ধি, ডলার সংকট এবং তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) রয়েছে চাপে। তবে নিজস্ব ক্লিংকার সুবিধা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনায় হাইডেলবার্গ ও লাফার্জহোলসিমের মতো বহুজাতিক কোম্পানিগুলো আয়ের দিক থেকে রয়েছে এগিয়ে।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সাতটি সিমেন্ট কোম্পানির মধ্যে ছয়টি কোম্পানিই মুনাফায় রয়েছে। কেবল একটি কোম্পানি লোকসান কাটিয়ে মুনাফায় ফিরতে পারেনি। বহুজাতিক কোম্পানি হেইডেলবার্গ ম্যাটেরিয়ালসের গত বছরের বার্ষিক ইপিএস ছিল ৮ টাকা ১৭ পয়সা। গত নয় মাসে ইপিএস হয়েছে ৪ টাকা ১১ পয়সা। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায় এই প্রতিষ্ঠানের আয়ের প্রবণতা স্থিতিশীল রয়েছে।
কনফিডেন্স সিমেন্টের গত বছরের শেয়ার প্রতি আয় ছিল ১১ টাকা ২৩ পয়সা। এ বছরের ছয় মাসের ইপিএস হয়েছে ৭ টাকা ৮৫ পয়সা। এই প্রতিষ্ঠানের আয় ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। বহুজাতিক আরেক প্রতিষ্ঠান লাফার্জহোলসিমের শেয়ার প্রতি আয়েও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ২০২৪ সালের নিরীক্ষিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠানের ইপিএস ছিল ৩ টাকা ২৯ পয়সা। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর ক্লোজিংয়ে এসে আয় হয়েছে ৪ টাকা ৪০ পয়সা।
আয়ের দিক থেকে নিম্নমুখী প্রবণতায় থাকা কোম্পানিগুলো হলো- প্রিমিয়ার সিমেন্ট, মেঘনা সিমেন্ট ও ক্রাউন সিমেন্ট। অন্যদিকে লোকসান কাটিয়ে মুনাফায় ফিরতে পারেনি আরামিট সিমেন্ট কোম্পানি। যদিও তথ্য বিশ্লেষণে শেয়ার প্রতি লোকসান কিছুটা কমেছে বলেই দেখা গেছে।
বাজার সংশ্লিষ্ট এবং বিশ্লেষকদের মতে, সিমেন্ট কোম্পানিগুলোর আয়ের এই পার্থক্যের পেছনে আছে বেশ কিছু কারণ। এর মধ্যে লাফার্জহোলসিমের মতো কোম্পানিগুলোর নিজস্ব ক্লিংকার উৎপাদন সুবিধা থাকায় ডলারের দাম বাড়লেও তাদের উৎপাদন খরচে বড় কোনো প্রভাব পড়েনি। বিপরীতে যারা ক্লিংকার আমদানির ওপর নির্ভরশীল, তাদের মুনাফা ডলারের দাম বাড়ার কারণে সংকুচিত হয়েছে।
প্রিমিয়ার ও ক্রাউন সিমেন্টের মতো কোম্পানিগুলো বড় ধরনের সম্প্রসারণ কাজে ব্যাংক ঋণ ব্যবহার করেছে। বর্তমানে ঋণের সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় তাদের নিট মুনাফা বা ইপিএস কমে গেছে। অন্যদিকে, হাইডেলবার্গ ও লাফার্জের মতো ব্র্যান্ডগুলোর প্রিমিয়াম পজিশনিং এবং মেগা প্রজেক্টে শক্তিশালী সরবরাহের কারণে তাদের আয়ের মার্জিন তুলনামূলক বেশি ছিল।
খাতভিত্তিক ডাটা অনুযায়ী, সিমেন্ট খাতের গড় পি/ই রেশিও বর্তমানে ১২ থেকে ১৪-এর মধ্যে অবস্থান করছে। মৌলভিত্তি সম্পন্ন শেয়ারগুলোর মধ্যে হাইডেলবার্গ ও কনফিডেন্স সিমেন্টের পি/ই রেশিও বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় পর্যায়ে রয়েছে। তবে লোকসানে থাকা এবং উচ্চ ঋণগ্রস্ত কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা রয়েছেন সতর্ক অবস্থানে।
আবাসন খাতের স্থবিরতা কাটলে এবং সরকারি অবকাঠামো প্রকল্পের গতি বাড়লে সামনের দিকে সিমেন্ট খাতের সামগ্রিক ইপিএস আরও উন্নতির দিকে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। তবে ছোট ও মাঝারি কোম্পানিগুলোর জন্য তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

