ববি হাজ্জাজ
অন্যের সংস্কৃতিচর্চায় বাধা দেওয়ার অধিকার কারও নেই

ছবি: আগামীর সময়
সংস্কৃতিচর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বাংলাদেশের সংস্কৃতি তুলে ধরেন বহুমাত্রিক ও দীর্ঘ ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে।
প্রতিমন্ত্রী বললেন, ‘কালচারাল প্র্যাকটিসগুলো (সংস্কৃতিচর্চা) আপনারা কখনোই হারিয়ে যেতে দেবেন না। আপনারা চর্চা করবেন সংস্কৃতির সব অংশই। সংস্কৃতি আপনাদের ভেতরে জীবিত রাখবেন, যেন আমাদের সমাজের ভেতরে সেটা জীবিত থাকে শক্তভাবে।’
আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বললেন এসব কথা। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদ।
ববি হাজ্জাজ বলেছেন, বাংলা নববর্ষ উদযাপন দেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বহিঃপ্রকাশ। তবে একসময় বিভিন্ন মহল থেকে এই ঐতিহ্যের বিরোধিতা করার প্রবণতা দেখা গেছে, যা কাম্য নয়।
তার ভাষ্য, ‘আমরা উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক চর্চা দেখতে চাই, বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি বহুমাত্রিক ও দীর্ঘ ঐতিহ্যের ধারক। কোনো একটি ধারা বা উপাদানকে এককভাবে সংস্কৃতির পরিচয় হিসেবে দাঁড় করানো ঠিক নয়। সংস্কৃতির বিস্তার রয়েছে গান, নাচ, কবিতা—সবকিছুর মধ্যেই।’
অন্যের পছন্দের সাংস্কৃতিকচর্চার প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমার পছন্দ না হলে আমি তা চর্চা করব না, কিন্তু অন্যের চর্চার স্বাধীনতায় বাধা দেওয়ার অধিকার আমার নেই।’
সাংস্কৃতিকচর্চার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী ভাষ্য, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে চর্চা হয়, তার প্রভাব সারা দেশে পড়ে। তাই এখানে মুক্ত চিন্তা ও উন্মুক্ত সংস্কৃতির পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি।’
‘রবীন্দ্রপ্রেমীকে রবীন্দ্রপ্রেমী থাকতে দিন, নজরুলপ্রেমীকে নজরুলপ্রেমী থাকতে দিন। বাউল, হামদ-নাত— অব্যাহত থাকতে হবে সব ধরনের চর্চাই। সফল হতে দেওয়া যাবে না কোনো চর্চা বন্ধ করার চেষ্টা’, বলেছেন তিনি।



