আগামীর সময়

এমপিও নীতিমালায় বড় পরিবর্তন

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির লাগবে না শিক্ষা যোগ্যতা

  • ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার বেড়াজালে অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ পদ
  • অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষদের অভিজ্ঞতার মডেলে বড় পরিবর্তন
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির লাগবে না শিক্ষা যোগ্যতা

আগামীর সময় গ্রাফিক্স

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্কুল ও কলেজের শীর্ষ পদে (অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষক) নিয়োগ পেতে এখন থেকে ১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

একইসঙ্গে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হওয়ার ক্ষেত্রে স্নাতক পাসের শর্ত তুলে দিয়ে পুরনো প্রথা ফিরিয়ে আনা হচ্ছে, যার ফলে শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কমিটির নেতৃত্বে আসার পথ পুনরায় সুগম হলো। অর্থ স্ব-শিক্ষিত বা অশিক্ষিত ব্যক্তিরাও এখন কমিটির সভাপতি হতে পারবেন।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে এক সভায় এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরে বিকালে জনবল কাঠামো সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ম্যানেজিং কমিটির সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত শিগগিরই প্রজ্ঞাপন জারি হবে সূত্র জানিয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, অন্তবর্তী সরকার অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) মাধ্যমেই নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু সরকার দলীয় একজন এমপি ও বেসরকারি শিক্ষক নেতারা এর ঘোর বিরোধীতা শুরু করলে সরকার মাঝামাঝি একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যেখানে নিয়োগ এনটিআরসিএ মাধ্যমে হলেও প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠান প্রধান করতে অভিজ্ঞতার শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়। আগে ১২ থেকে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন থাকলেও এখন তা ১৮ বছর করা হয়েছে। কারণ পরীক্ষা মাধ্যমে অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া হলে জুনিয়র এগিয়ে যাবে এমন ধারণা থেকেই অভিজ্ঞতা বাড়ানো হয়েছে।

নতুন শর্তানুযায়ী, কলেজ পর্যায়ে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ পদের জন্য ডিগ্রি কলেজ বা উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে প্রভাষক, জ্যেষ্ঠ প্রভাষক বা সহকারী অধ্যাপক হিসেবে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। সাধারণ বিষয়ের প্রভাষকরাও নির্দিষ্ট শর্তে আবেদনের সুযোগ পাবেন। কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা আলিম-ফাজিল-কামিল মাদরাসার সাধারণ বিষয়ের প্রভাষক বা সহকারী অধ্যাপকরাও এখন থেকে নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতা সাপেক্ষে এসব পদে আবেদনের সুযোগ পাবেন।

স্কুল পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক হতে হলে ২ বছরের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসহ মোট ১৮ বছরের শিক্ষকতা অভিকজ্ঞতা থাকতে হবে। আর সহকারী প্রধান শিক্ষক হতে হলে নিম্ন-মাধ্যমিকের প্রধান বা সহকারী প্রধানদের জন্য ৩ বছরের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসহ ১৮ বছরের শিক্ষকতা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

ম্যানেজিং কমিটিতে ফিরছে পুরনো নিয়ম

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়। গত বছর অন্তবর্তী সরকার সভাপতির ক্ষেত্রে স্নাতক পাসের যে বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়, নতুন নীতিমালায় তা শিথিল করা হচ্ছে। এখন সভাপতির ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার আর কোনো শর্ত থাকছে না। ফলে ২০২৪ সালের আগের নিয়ম বহাল করা হচ্ছে।

এতে আগের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়বে। ম্যানেজিং কমিটিতে বিদ্যুৎসাহী, দাতা ও শিক্ষানুরাগী সদস্য পদ পুনরায় যুক্ত করা হচ্ছে যার মাধ্যমে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির পথ সুগম হলো। তবে সংসদ সদস্যদের আর সরাসরি ক্ষমতা থাকছে না। প্রতিষ্ঠানের প্রধান, ইউএনও বা ডিসির মাধ্যমে পাঠানো তিনজনের তালিকা থেকে একজনকে সভাপতি হিসেবে মনোনীত করবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবোর্ড।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, তরুণ শিক্ষকদের তুলনায় অভিজ্ঞ শিক্ষকদের হাতে প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব থাকলে প্রশাসনিক জটিলতা কমবে। তবে এনটিআরসিএর মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষকরা।

সভায় অংশ নেওয়া একজন অতিরিক্ত সচিব বিষয়টি নিশ্চিত করলেন। ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম স্নাতক হওয়ার নিয়ম আর থাকবে না। ২০২৪ সালের আগের নিয়ম বহাল হবে। সে ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রযোজ্য হবে না। একই সঙ্গে ম্যানেজিং কমিটি নিয়োগে সংসদ সদস্যদের ক্ষমতাও আর থাকছে না।’

    শেয়ার করুন: