মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক
পা থেকে রক্ত ঝরলেও নাচ থামায়নি জাফার

মাইকেল সিনেমার একটি দৃশ্য
বিশ্ব জুড়ে বক্স অফিস কাঁপাচ্ছে অ্যান্টনি ফুকোয়ার নতুন সিনেমা ‘মাইকেল’। সিনেমাটি নিয়ে থেমে নেই বিতর্ক। তবু মুক্তির পর থেকে পরিচালকের ক্যারিয়ারে সবচেয়ে ব্যবসা সফল ছবি বিবেচনা করা হচ্ছে। এর আগে স্টিভ ওয়ান্ডার, টনি ব্র্যাক্সটন, প্রিন্সের মিউজিক ভিডিও বানিয়েছিলেন পরিচালক ফুকোয়া।
তবু সহজ ছিল না এই পথচলা। কিং অব পপ মাইকেল জ্যাকসনকে রূপালী পর্দায় আনতে মুনশিয়ানা লাগে, ধৈর্য তো লাগেই। সিনেমার কিছু দৃশ্য শুট করতে হয় ফের। এতে বেড়েছে খরচ। আবার মাইকেলের জীবনের বিতর্কিত দিকগুলো কীভাবে দেখানো হবে, সেটি নিয়েও ভাবতে হয়েছে গভীরে গিয়ে।
পর্দায় মাইকেলের চরিত্র রূপায়ণ করেছেন অভিনেতা জাফার জ্যাকসন। তিনি মাইকেলের সঙ্গে কথোপকথনের স্মৃতি রোমন্থন করেছেন। সরাসরি দেখা না হলেও ‘রিমেম্বার দ্য টাইম’ গানের শুটিংয়ের জন্য গায়কের সঙ্গে একবার ফোনে কথা হয়েছিল তার। মাইকেলের চরিত্রে অভিনয় করা জাফার তারই আপন ভাতিজা।
শুরুতে চরিত্রটি তিনি পারবেন কি না, এ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন পরিচালক। তবে একটি স্ক্রিন টেস্টে মাইকেল হিসেবে জাফারকে প্রশ্ন করা হলে তিনি এতটাই নিখুঁত উত্তর দেন, উপস্থিত সবার চোখে পানি চলে আসে।
‘দেখলাম, নাচতে নাচতে পা থেকে রক্ত ঝরলেও সে থামছে না। সঙ্গে তার অভিনয়ও ছিল দুর্দান্ত’
শুটিং শেষে বড় বাধার মুখোমুখি হয় সিনেমাটি। শেষের দিকে জর্ডান চ্যান্ডলারের একটি চরিত্র ছিল। কিন্তু আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকায় বিপাকে পড়েন পরিচালক। জর্ডান ছিলেন মাইকেলের বিতর্কিত অধ্যায়ের প্রধান চরিত্র। ১৯৯৩ সালে তিনিই প্রথম মাইকেলের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনেছিলেন। এ ছাড়া ফের শুটিংয়ের জন্য জ্যাকসন এস্টেটকে নতুন করে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ দিতে হয়, ফলে সিনেমার নির্মাণ ব্যয় দাঁড়ায় ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে।
নিজের শৈল্পিক স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করে ফুকুয়া বলেন, ‘মাইকেল’ সিনেমাটির লক্ষ্য কেবল একজন মহাতারকা নয়, বরং একই সঙ্গে একজন জটিল ও সাধারণ মানুষকে তুলে ধরা। মাইকেলের শৈশব, বাবার সঙ্গে তার টানাপড়েনের সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত জগত ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সিনেমায়। মাইকেলের পোষা শিম্পাঞ্জিও আছে এতে।
পরিচালক ফুকুয়া বলেছেন, মাইকেলের অসামান্য মেধা ও পুষে রাখা হীনম্মন্যতা— উভয়ই দেখানোর চেষ্টা করেছেন।
অভিনেতা জাফার নিয়ে তার ভাষ্য, ‘যখন তার ছবি প্রথম দেখি, পুরো চমকে যাই। ইতালি থেকে ফেরার পর আমরা মেকআপ এবং স্ক্রিন টেস্টের আয়োজন করি। জাফারের সঙ্গে ব্রেকফাস্ট করার পর বুঝলাম, সে কতটা ভদ্র এবং মার্জিত; ঠিক যেন মাইকেলের ডিএনএ তার মধ্যে। সে এমনভাবে উত্তর দিচ্ছিল, যেন সে নিজেই মাইকেল।’
নির্মাতা জানতেন, জাফার রাজি হলে সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবে। এরপর তাকে কিছু অ্যাকটিং লেসন করানো হয়। শুরুতে জাফারের অভিনয় দক্ষতা নিয়ে সংশয় ছিল। তবে তিনি মাইকেলের চরিত্রে আপাদমস্তক ডুবে ছিলেন।
‘দেখলাম, নাচতে নাচতে পা থেকে রক্ত ঝরলেও সে থামছে না। সঙ্গে তার অভিনয়ও ছিল দুর্দান্ত।’
মাইকেলের সিক্যুয়েল নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু না বললেও উড়িয়ে দেননি ফুকোয়া।





