আগামীর সময়

বিটিএসের নতুন অ্যালবামে যে চমক থাকছে

বিটিএসের নতুন অ্যালবামে যে চমক থাকছে

বিটিএস সদস্যরা। ছবি: বিটিএস

প্রায় চার বছর পর বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস তাদের পঞ্চম স্টুডিও অ্যালবাম ‘আরিরাং’ প্রকাশ করেছে। এই অ্যালবাম শুধু সংগীত নয়, বরং তাদের শিকড়, পরিচয় এবং ভবিষ্যতের পথচলার গল্প বলেছে। সিউল শহরে দক্ষিণ কোরিয়ার ঐতিহ্যের প্রতীক গ্যংবকগুঙ প্যালেসে অ্যালবামের প্রকাশ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

নেটফ্লিক্স লাইভ স্ট্রিমের মাধ্যমে অ্যালবামটি সরাসরি পরিবেশিত হয়। অ্যালবামের নামকরণ করা হয়েছে কোরিয়ার ঐতিহ্যবাহী লোকগান ‘আরিরাং’ থেকে। গানটি ১৮৯৬ সালে মার্কিন নৃতত্ত্ববিদ অ্যালিস ফ্লেচারের সহায়তায় প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড করা হয়েছিল। এই ঐতিহ্যের ছাপ অ্যালবামের প্রথম গান ‘বডি টু বডি’-তেও প্রতিফলিত হয়েছে।

এছাড়া সংক্ষিপ্ত ট্র্যাক ‘নম্বর ২৯’ এ ব্যবহার করা হয়েছে কিং সিওংদেওকের বিখ্যাত ‘ডিভাইন বেল’ এর সুর, যা দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় সম্পদ হিসেবে স্বীকৃত। এসব উপাদান স্পষ্ট করে দেয় যে, বিশ্বের যে কোনো মঞ্চে থাকুক না কেন, বিটিএস তাদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে সম্মান এবং গর্বের সঙ্গে সামনে নিয়ে যেতে চায়।

সংগীতের দিক থেকে এই অ্যালবামকে তাদের সবচেয়ে পরীক্ষামূলক কাজ হিসেবে ধরা হচ্ছে। অ্যালবামের প্রথম অংশে হিপ-হপের প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়, যা তাদের শুরুর দিনের ধারাকে মনে করিয়ে দেয়। একই সঙ্গে নতুন সাউন্ড ও বিভিন্ন ঘরানায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে।

‘এফওয়াইএ’-তে আছে জার্সি ক্লাব বিট, ‘মেরি গো রাউন্ড’ গানটি রক ঘরানায় প্রভাবিত, আর ‘লাইক অ্যানিমলস’-এ গ্রাঞ্জ স্টাইল লক্ষ্য করা যায়, যা আগে তাদের সংগীতে দেখা যায়নি।
অ্যালবামের প্রতিটি গানে বিটিএস সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ চোখে পড়ে। দলের সদস্য আরএম, সুগা, জে-হোপ, জিমিন, ভি এবং জংকুক বিভিন্ন গানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

আন্তর্জাতিক প্রযোজক যেমন ডিপলো, রায়ান টেডার, মাইক উইল মেইড-ইট, ফ্লুম, কেভিন পার্কার, এল গুইঞ্চো এবং জেপিইজি মাফিয়াও অ্যালবামে কাজ করেছেন।

অ্যালবামের প্রথম গান ‘বডি টু বডি’-তে কোরিয়ান লোকসঙ্গীতের সুর ও আধুনিক পপ-র‍্যাপের সংমিশ্রণ লক্ষ্য করা যায়। ‘হলিগান’-এ ভিন্নধর্মী র‍্যাপ উপস্থাপন করা হয়েছে। ‘অ্যালিয়েন্স’-এ কোরিয়ানদের ভিন্নতাকে শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছে। ‘এফওয়াইএ’ গানটি পুরোপুরি নতুন গতির ক্লাব বিটে তৈরি, যা তাদের পূর্ববর্তী কাজ থেকে আলাদা। ‘২.০’ গানটি তাদের বিবর্তনের প্রতীক হিসেবে ধরা হচ্ছে।


ইন্টারলুড ‘নম্বর ২৯’ গানটি অ্যালবামের আবেগঘন অংশে প্রবেশের পথ তৈরি করে। এর পরের গান ‘সুইম’ সিন্থ-নির্ভর এবং ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা বহন করছে। এই গানে জীবনের প্রতি ভালোবাসা ও নতুন অধ্যায়ে প্রবেশের আকাঙ্ক্ষা ফুটে উঠেছে।

‘মেরি গো রাউন্ড’-এ রক প্রভাবিত সুর শ্রোতাদের আবেগে ভাসায়, আর ‘নর্মাল’-এ খ্যাতির আড়ালে থাকা ব্যক্তিগত জীবনের বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে। ‘লাইক অ্যানিমলস’-এ গ্রাঞ্জ স্টাইলে স্বাধীনভাবে বাঁচার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে।
‘দে ডোন্ট নো বুট আস’ গানটি স্পষ্টভাবে জানায় যে, তাদের সাফল্য কোনো অনুকরণযোগ্য ফর্মুলার ফল নয়। ‘ওয়ান মোর নাইট’-এ হাউস ও পপের মিশ্রণে ফ্যান্টাসির আকাঙ্ক্ষা ফুটে উঠেছে। ‘প্লিজ’ গানটি আবেগী, যেখানে একসঙ্গে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ পেয়েছে-যা দীর্ঘদিন পর ভক্তদের কাছে ফিরে আসার প্রেক্ষাপটে বিশেষ অর্থবহ।

অ্যালবামের শেষ গান ‘ইনটু দ্য সান’ পুরো প্রকল্পের সারমর্ম বহন করে। এখানে অতীতের অভিজ্ঞতা নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা স্পষ্ট।

প্রায় চার বছর ব্যান্ড থেকে বিরতি নিয়েছিল বিটিএস। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে ব্যান্ডের সাত সদস্য আরএম, জিন, সুগা, জে-হোপ, জিমিন, ভি এবং জংকুক সলো অ্যালবামে নিজেদের সঙ্গীত প্রতিভা দেখিয়েছেন এবং বাধ্যতামূলক সামরিক দায়িত্বও সম্পন্ন করেছেন। একে একে সেনাবাহিনী থেকে ছাড় পাওয়ার পরই তারা একসঙ্গে অ্যালবাম তৈরিতে মনোনিবেশ করেন।

সূত্র: ভ্যারাইটি

    শেয়ার করুন: