জুবায়ের-মুসাদ্দিক আটক নয়, পুরোনো ভিডিও ছড়িয়ে বিভ্রান্তি

ছবিঃ আগামীর সময়
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে- রমনা জোনের ডিসি মাসুদ আলমের নেতৃত্বে রাতে সমন্বয়ক এবি জুবায়ের ও মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদকে আটক করা হয়েছে।
তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভাইরাল এই দাবিটি সঠিক নয়। ভিডিওটি সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার নয়; বরং এটি এক মাসেরও বেশি পুরোনো এবং ভিন্ন একটি ঘটনার দৃশ্য।
নিজেদের বাংলাদেশি অনলাইন নিউজ পোর্টাল দাবি করা “মাদারল্যান্ড টুয়েন্টিফোর” নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে গত ১০ মার্চ ৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা হয়, “ডিসি মাসুদ এর নেতৃত্বে রাতে সমন্বয়ক জুবায়ের ও মোসাদ্দেক আটক”।
ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এখন পর্যন্ত এটি ১১০০ বারের বেশি শেয়ার হয়েছে এবং সাড়ে ৭ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। একই ভিডিও তাদের ইউটিউব চ্যানেলেও আপলোড করা হয়েছে।
পাশাপাশি বিভিন্ন ফেসবুক প্রোফাইল ও পেজ থেকেও একই দাবি ছড়ানো হয়েছে। কোথাও কোথাও ভিডিওটি শেয়ার করে ব্যবহারকারীরা লিখেছেন, “ঘটনা কি আসলেই সত্যি! জোবায়ের ও মোসাদ্দেক দুজন’কে আটক করেছে ডিসি মাসুদ” (বানান অপরিবর্তিত)।
ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করতে কিফ্রেম সার্চ করা হলে গত ৬ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একাধিক গণমাধ্যমের ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। এসব প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ভিডিওর সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওটির দৃশ্য পুরোপুরি মিলে যায়।
দৈনিক সকালবেলা পত্রিকার ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ১ মিনিট ১১ সেকেন্ডের একটি প্রতিবেদনের প্রথম ৩০ সেকেন্ডই কেটে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে। একই ভিডিও নিউজ এবিসি-তেও পাওয়া যায়।
ভিডিওতে দেখা যায়, রমনা জোনের ডিসি মাসুদ আলমের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নেতা এবি জুবায়ের ও মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ উপস্থিত আছেন।
এ ঘটনার বিষয়ে কিওয়ার্ড সার্চে একাধিক সংবাদ প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এসব প্রতিবেদনে জানা যায়, ৬ ফেব্রুয়ারি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনকে ঘিরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়।
সেই সময় পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ এবং সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে যান। ভাইরাল ভিডিওতে মূলত সেই আলোচনার দৃশ্যই দেখা যায়।
সুতারং, ডিসি মাসুদের নেতৃত্বে জুবায়ের ও মুসাদ্দিককে আটক করা হয়েছে—এমন দাবিটি সঠিক নয়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ৬ ফেব্রুয়ারির একটি পুরোনো ঘটনার ভিডিও, যেখানে তাদের পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করতে দেখা যায়।
উল্লেখ্য, এর আগেও এআই দিয়ে তৈরি ছবি ব্যবহার করে ডাকসুর এই দুই নেতাকে আটক করা হয়েছে- এমন দাবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল।

