সিপিডির সেমিনারে ব্যবসায়ীরা
বিনিয়োগ বাড়াতে জ্বালানি ও অর্থায়ন নিশ্চিত জরুরি

সংগৃহীত ছবি
নতুন সরকার বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে চায়। এজন্য সবার আগে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং স্বল্পসুদে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। বর্তমানে গ্যাসের সংযোগ পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়। আর ব্যাংকে ঋণ মিলছে না। অনেক চেষ্টা তদবিরের পর ঋণের ব্যবস্থা হলেও যে উচ্চহারে সুদ নেওয়া হয়, তা দিয়ে ব্যবসায় টিকে থাকা সম্ভব নয়। আর এই দুই সমস্যার সমাধান না করে বিনিয়োগ বাড়ানোর চিন্তা উচ্চাবিলাসী।
বুধবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) এবং ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে এসব কথা বলছিলেন ব্যবসায়ীরা। সেমিনারের বিষয় ছিল: ‘উন্নয়নে নজর: স্বল্প ও মধ্যমেয়াদে নবনির্বাচিত সরকারের অগ্রাধিকার’।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়) রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। ‘শিগগিরই রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন আসবে। বর্তমান সরকারের অর্থনীতির প্রধান লক্ষ্য গতানুগতিক ভোগভিত্তিক প্রবৃদ্ধি থেকে সরে এসে বিনিয়োগভিত্তিক টেকসই অর্থনৈতিক মডেল গড়ে তোলা। আর বিনিয়োগে অর্থায়নের জন্য সরকার পুঁজিবাজারকে গুরুত্ব দেবে’, সেমিনারে বলছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
অনুষ্ঠানে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। বক্তব্য রাখেন ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের (আইসিসিবি) ভাইস প্রেসিডেন্ট এ কে আজাদ, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস এসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) প্রেসিডেন্ট শওকত আজিজ রাসেল, পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারম্যান ড. সাদিক আহমেদ, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথোরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ঢাকা চেম্বার অব কমার্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট শামস মাহমুদ এবং ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম প্রমুখ।
বক্তারা বলছিলেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করা ছাড়া অর্থনীতির পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। অর্থনীতির প্রয়োজন বুঝে আগামী অর্থ বছরের বাজেট করার পরামর্শ দেন তারা।
উৎপাদন, বিনিয়োগ ও ব্যবসার প্রসারে রাজস্ব নীতিতে আমূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে জানিয়ে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলছিলেন, ‘২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। করের ভিত্তি বাড়াতে ‘এলটিইউ’ (বৃহৎ করদাতা ইউনিট) নির্ভরতা কমিয়ে কর সংস্কৃতির বিস্তার ঘটানোর চিন্তা করা হচ্ছে।’
উপদেষ্টা জানান, সরকারকে জনগণ যে ম্যান্ডেট দিয়েছে, তার মূলভিত্তি পাঁচটি। এরমধ্যে রয়েছে— রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার, বৈষম্যহীন আর্থসামাজিক উন্নয়ন, ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনরুদ্ধার এবং সমতাভিত্তিক উন্নয়ন।
‘২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ঋণের যে পাহাড় গড়ে উঠেছে, তা অর্থনীতিকে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ফেলেছে। এই সংকট উত্তরণে সরকার অপচয় রোধ এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তনের ওপর জোর দিচ্ছে। ‘সামাজিক সুরক্ষায় স্বচ্ছতা আনতে আমরা ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান কার্ড’ ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছি, যা ডিজিটাল অবকাঠামোর মাধ্যমে সহায়তার ক্ষেত্রে অপচয় কমাতে সাহায্য করবে’, বলছিলেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
এলডিসি উত্তরণে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা) উত্তরণে বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধি, পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। জ্বালানিখাতের অস্বচ্ছতা নিয়ে তিনি বলছিলেন, ‘এইখাতে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়। এই ভর্তুকি কমিয়ে আনতে ‘রিনেগোশিয়েশন’ এবং ‘সিস্টেম লস’ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
বর্তমানে ব্যাংকখাতে খেলাপি ঋণ মোট ঋণের ৩৬ শতাংশ বলে জানাচ্ছিলেন আইসিসিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট এ কে আজাদ। তার মতে, ‘সরকারি ব্যাংকে খেলাপি ঋণ ইতিমধ্যে ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’
‘হাজার হাজার শিল্পপ্রতিষ্ঠান গ্যাসের অপেক্ষায় থাকলেও সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এতে নতুন বিনিয়োগ স্থবির হয়ে আছে।’
‘বর্তমানে ব্যাংকিংখাতে সরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধির ৩২ দশমিক ১৯ শতাংশ। অর্থাৎ সরকার অনেক বেশি ঋণ নিয়েছে। আর বেসরকারিখাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি মাত্র ৬ শতাংশ। সরকার এভাবে ঋণ নিয়ে দেশ চালালে বেসরকারিখাতে বিনিয়োগে প্রভাব পড়বে এটাই স্বাভাবিক। সরকারের ব্যয়ের ৫৮ শতাংশই বেতন, সুদ ও ভর্তুকিতে ব্যয় হয়। আর গত ৬ মাসে রাজস্ব আদায়ের জন্য সরকার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল, সেখানে ৩৬ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি আছে’, বলছিলেন এই ব্যবসায়ী।
নতুন সরকারকে জ্বালানিখাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান এ কে আজাদ। ‘বর্তমানে জ্বালানি সংকট চরমে। আর এই সংকট না কাটলে নতুন বিনিয়োগ হবে না। আমি নিজে দ্বিগুণ মূল্য দিয়ে সিএনজি থেকে গ্যাস নিয়ে বয়লার চালাচ্ছি। এভাবে শিল্প টিকিয়ে রাখা অসম্ভব’, জ্বালানি সংকটের কারণে দেশীয় শিল্প বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে ইঙ্গিত করে বলছিলেন তিনি।
এ কে আজাদ মনে করেন, বর্তমানে ১০ শতাংশ গ্যাস চোরাই পথে বিতরণ হচ্ছে। তিতাসের এসব চোরাই লাইন একদিকে কাটা হচ্ছে, আবার জোড়া দিচ্ছে। এই চুরি বন্ধ করতে হবে। তিনি সরকারি ব্যয় সংকোচনে অপ্রয়োজনীয় মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর কমিয়ে আনার পাশাপাশি প্রশাসনিক সংস্কারে জোর দেন। একইসঙ্গে বিনিয়োগের জন্য বড় বাধা হিসেবে দেখছেন ঋণের উচ্চসুদকে। প্রতিবেশী এবং প্রতিযোগী দেশগুলোয় ঋণের এই সুদ বাংলাদেশের চেয়ে কম বলেও উল্লেখ করেন।
অপরদিকে ঋণ পুনঃতফসিলের পাশাপাশি পুনঃঅর্থায়নে জোর দেন বিটিএমএ প্রেসিডেন্ট শওকত আজিজ রাসেল।
‘আমি পরিষ্কারভাবে বলছি— এই সরকার নতুন শিল্প ও নতুন কর্মসংস্থান দেখবে না। কারণ বর্তমান বাস্তবতায় নতুন ফ্যাক্টরি করা উচ্চাবিলাসী চিন্তা। বর্তমানে দেশে ৩৫০টি গার্মেন্টস ও ৫০টির বেশি টেক্সটাইল বন্ধ রয়েছে। প্রতিটি টেক্সটাইল মিলে ১ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ আছে। কিন্তু বন্ধ হয়েছে মাত্র ২শ কোটি টাকার জন্য। এসব মিলগুলোর বাপারে পুনঃমূল্যায়ন করতে হবে। ব্যাংকের অর্থায়নে সমস্যার সহজ সমাধান হিসেবে অনেক সময় ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়। কিন্তু পুনঃতফসিলের পাশাপাশি পুনঃঅর্থায়ন করতে হবে’, বলছিলেন তিনি।
ব্যাংকের অসহযোগিতার কারণেই অর্ধেক ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলছিলেন, ‘বিদেশ থেকে এলসি এসেছে। কিন্তু ব্যাংকের অসহযোগিতায় ব্যাক টু ব্যাক এলসি করা যায়নি। পাশাপাশি আনুসঙ্গিক জিনিসপত্র কেনাও সম্ভব হয়নি। এতে কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এসব বিবেচনায় সরকারকে উচ্চাবিলাসী চিন্তা না করে যে সব কারখানা বন্ধ আছে, সেগুলো চালুর উদ্যোগ নিতে হবে।’
‘এলডিসি উত্তরণে সুবিধা -অসুবিধা দুটিই আছে। যে সব সুবিধার কথা বলা হচ্ছে, তা হলো— বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বাড়বে। ক্রেডিট রেটিংয়ে এগিয়ে থাকবে দেশ। বিদেশি বিনিয়োগ আসবে। কিন্তু বাস্তবে হচ্ছে তার উল্টো। বর্তমানে ব্যাংকগুলো বসে আছে। বিনিয়োগে অর্থায়ন করতে পারছে না। সর্বশেষ তথ্যানুসারে বর্তমানে বিদেশি বিনিয়োগ গত ৫ বছরের সর্বনিম্ন। অর্থাৎ এলডিসি উত্তরণে লক্ষ্যের সঙ্গে মিলছে না। বিপরীতে ক্ষতির তালিকা বিশাল। যেমন বর্তমানে দাতা সংস্থা থেকে সফট ঋণ পাওয়া যায়। কিন্তু দেশ এলডিসি থেকে বের হয়ে গেলে তা বন্ধ হবে। এনজিওদের বিদেশি তহবিল বন্ধ হবে’, বলছিলেন বিটিএমএর এই নেতা।
‘সরকার ১৮০ দিনের কর্মসূচির কথা বলছে। কিন্তু এই সময় ব্যবসায়ীদের জন্য যথেষ্ট নয়। কারণ ‘ব্যবসার জন্য আমরা জমি কেনা থেকে কাজ শুরু করি। এক্ষেত্রে এক জমি চারবার কিনতে হয়। কারণ চারজন মালিক থাকেন। এরপর রড সিমেন্টসহ নির্মাণ কাজ। পরবর্তীতে মেশিনের জন্য ঋণপত্র (এলসি) খুলতে হয়। এরপর ব্যাংক ঋণ, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংযোগ। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান আছে, সেখানে অন্যান্য সব কাজ শেষ করার পর উৎপাদন শুরু করতে গ্যাসের জন্য ৪ থেকে ৫ বছর অপেক্ষা করতে হয়’, ব্যাখ্যা তুলে ধরেন শওকত আজিজ রাসেল।
মূলপ্রবন্ধে বলা হয়, দেশে মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমছে। বিপরীতে মজুরি বৃদ্ধির হার প্রায় স্থবির অবস্থায় রয়েছে। নতুন সরকারের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ।
‘ব্যাংকিংখাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা জরুরি। একইসঙ্গে ঋণ খেলাপি কমিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক অধ্যাদেশ সংশোধনের যে প্রস্তাব রয়েছে, তা বাস্তবায়ন করতে হবে’, এমনই ভাষ্য সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের।
এলডিসি উত্তরণে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রস্তুতি নেওয়া— উল্লেখ করে তিনি বলছিলেন, ‘এসটিএস (স্মুথ ট্রানজেশন স্ট্রাটেজি) বাস্তবায়নে জোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। বাজারে পণ্যের অবাধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।’
‘ব্যাংকগুলোর প্রকৃত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বর্তমানে সম্পদের গুণগতমান যাচাই করা হচ্ছে। এতে খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। তবে গত সেপ্টেম্বরে খেলাপি ঋণ ৩৫.৭ শতাংশে দাঁড়ালেও ডিসেম্বরে নির্বাচনের আগে বিপুল পরিমাণ ঋণ পুনঃতফসিল করায় তা কিছুটা কমেছে’, বলছিলেন ড. ফাহমিদা।
তার পরামর্শ, খেলাপি ঋণ কমানো, পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার ওপর জোর দিতে হবে। কারণ ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে আইনি সংস্কার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত জরুরি।
দেশের বর্তমান মূল্যস্ফীতি একটি ‘সরবরাহজনিত সমস্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি বলছিলেন, ‘মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতি ও রাজস্ব নীতির মধ্যে সমন্বয় এবং বাজার তদারকি জোরদার করতে হবে। বিশেষ করে বাজারে মজুদদারি ও সিন্ডিকেট বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পণ্য সরবরাহ শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে হবে।’
অপরদিকে ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম জানাচ্ছিলেন, ‘কেবল ভালো নীতি গ্রহণ করলেই হবে না, সঠিক বাস্তবায়ন জরুরি। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং অতিরিক্ত দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্রকল্পের সময় ও ব্যয় অনেক বেড়ে যায়, যা সরকারের লক্ষ্য অর্জনে বাধা সৃষ্টি করে।’
তিনি সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা ডিজিটালাইজ করার প্রস্তাব দেন। তার মতে, এটি কেবল আর্থিক লেনদেনে সীমাবদ্ধ না রেখে সামগ্রিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত করলে কাজের দক্ষতা বাড়বে এবং অপচয় কমবে।

