হাতে ওয়াকিটকি, কোমরে পিস্তল— অভিযানের নামে চলত ডাকাতি
- র্যাবের হাতে ধরা চক্রের দুই সদস্য

কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে চক্রটির কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি তুলে ধরা হয়
গায়ে র্যাব কিংবা পুলিশের পোশাক, হাতে ওয়াকিটকি, কোমরে গুলিভর্তি বিদেশি পিস্তল। সঙ্গে আরও সাজসরঞ্জাম। রাত নামলেই সড়ক-মহাসড়কে শুরু করে কথিত অভিযান। যাত্রীবাহী বাস থেকে শুরু করে প্রাইভেটকার বা মাইক্রোবাস থামিয়ে শুরু হয় ‘তল্লাশি’। মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নিয়ে যখন তারা নেমে যায়, তখন যাত্রী-আরোহীরা বুঝতে পারেন তাদের সর্বনাশ হয়ে গেছে, হয়েছেন ডাকাতির শিকার।
আজ শনিবার রাজধানীর ডেমরা থেকে ওই ছদ্মবেশী ডাকাত চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। পরে কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে চক্রটির কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন বাহিনীটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী।
ইন্তেখাব জানালেন, সম্প্রতি তারা চক্রটির বিষয়ে বেশ কিছু অভিযোগ পান। সেগুলো আমলে নিয়ে শনিবার ডেমরার আমান মার্কেট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় চক্রটির হোতা মো. আলামিন ওরফে মোটা আলামিনকে। তার থেকে পাওয়া তথ্যের সূত্রে মেন্দিপুর বাজারের হাজী সিএনজি পাম্প এলাকা থেকে আটক হয় মো. রায়হান নামের আরেকজন।
ইন্তেখাবের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আলামিন ও রায়হান স্বীকার করেছে, তারা ডাকাত চক্রের সদস্য। আলামিনের নেতৃত্বে তারা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাস থামিয়ে কখনো র্যাব, কখনো পুলিশের পরিচয়ে ডাকাতি করত।
জিজ্ঞাসাবাদে আলামিন জানিয়েছে, এক সময় ইট-বালু ও মুরগির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলেও বর্তমানে ডাকাতিই তার মূল পেশা। কেরানীগঞ্জ থানায় তার বিরুদ্ধে ডাকাতির মামলা আছে। ২০১৩ সালের ওই মামলার এজাহারে উল্লেখ আছে, তিনি সে সময় র্যাব পরিচয়ে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে লুট করেছিলেন ৭১ লাখ টাকা। ২০১৫ সালের আরেক ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন আলামিন।
সব মিলিয়ে একাধিক থানায় আলামিনের বিরুদ্ধে ডাকাতি, চুরি, অস্ত্রসহ আটটি মামলা রয়েছে বলে তথ্য দিয়েছেন র্যাব কর্মকর্তা ইন্তেখাব।



