আদালতে মামুন খালেদ
‘তারেক রহমানের জামিনে সরাসরি ভূমিকা রেখেছি’

সংগৃহীত ছবি
‘এক-এগারোর সময় কুমিল্লায় কর্মরত ছিলাম। সে সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জামিনের বিষয়ে সরাসরি ভূমিকা পালন করেছি’—আদালতে বলছিলেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লে. জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ।
রিমান্ড শুনানিকালে অনুমতি নিয়ে বিচারকের কাছে এ দাবি করেন সাবেক এই ডিজিএফআই প্রধান।
আয়নাঘর প্রসঙ্গে শেখ মামুন দাবি করেন—‘তার মেয়াদে কোনো অভিযোগ ছিল না এবং এ বিষয়ে একাধিকবার অংশ নিয়েছেন শুনানিতে।’
‘নজরুল সাহেব নামে একজনের ১৫০০ কোটি টাকা উদ্ধারের দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছিল, আমি শুধু সেই উদ্ধার প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলাম। এছাড়া মামলার ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে ছিলাম না এবং দীর্ঘ সময় ধরে সিভিলিয়ান হিসেবে জীবনযাপন করেছি— জলসিঁড়ি প্রকল্প বিষয়ে বলেছেন শেখ মামুন।
‘আসামি মামুন খালেদ এক-এগারোর অন্যতম কুশীলব ছিলেন। পরবর্তীকালে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনতে সহযোগিতা করায় পুরস্কারস্বরূপ তাকে ডিজিএফআই প্রধান করা হয়। তার আমলেই আয়নাঘর তৈরি করে সাধারণ মানুষকে নির্যাতন ও পুড়িয়ে মারার মতো অপরাধ করা হয়েছে’— রিমান্ড শুনানিতে বলছিলেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী।
অভিযোগ করে পিপি আরও বলেছেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সেনানিবাসের বাসা থেকে এক কাপড়ে বের করে দেওয়ার নেপথ্যে ছিলেন এই মামুন খালেদ। তার নির্দেশেই গত ১৯ জুলাই মিরপুরে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়, যাতে দেলোয়ার নামে এক ব্যক্তি নিহত হন।’
এছাড়া জলসিড়ি প্রকল্পের কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথাও তোলেন পিপি। যে-কারণে ইতোমধ্যে আদালত তার স্ত্রীসহ বিদেশযাত্রা নিষেধাজ্ঞা দেন বলে জানান ওমর ফারুক ফারুকী।
শেখ মামুন খালেদের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন ও নজরুল ইসলাম রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিন আবেদন করেন। তারা দাবি করেন— মামলার এজাহারে মামুন খালেদের নাম নেই এবং ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। ২০১৬ সালে তিনি অবসরে গিয়েছেন এবং একজন পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে তিনি শুধু দায়িত্ব পালন করেছেন। খালেদা জিয়ার বাসা উচ্ছেদের সময় তিনি ‘অন ডিউটি’ কর্মকর্তা হিসেবে সরকারি আদেশ পালন করেছিলেন মাত্র।
শুনানি শেষে ডিজিএফআই সাবেক মহাপরিচালক লে. জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকালে রাজধানীর মিরপুর মডেল থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় এই আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছিদ্দিক আজাদ।
এর আগে শেখ মামুন খালেদের সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক কফিল উদ্দিন। এরপরিপ্রেক্ষিতে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
তার আগে বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর ডিওএইচএস এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে শেখ মামুন খালেদকে।

