আরেক মামলায় গ্রেপ্তার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অজয়

সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর গুলশান থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অজয় কর খোকনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার শুনানি শেষে তাকে গ্রেপ্তারের আদেশ দেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহের আদালত। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিন আসামি অজয় করকে আদালতে হাজির করে নতুন এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন গুলশান থানার উপপরিদর্শক সিদ্ধার্থ মণ্ডল। এসময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুজ্জোহা সুমন বলেছেন, এই আসামি শেখ হাসিনার অত্যন্ত আস্থাভাজন। তার মতো ছাত্রলীগ নেতাদের ওপর ভর করেই অনুপ্রবেশের পরিকল্পনা করছেন শেখ হাসিনা। এই আসামি সাধারণ কোনো আসামি নন। মামলার সুষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী ওবায়দুল ইসলাম বলেছেন, আসামি ছাত্রলীগ করেছেন, আওয়ামী লীগ করেছেন। কিন্তু তিনি কখনো অন্যায় করেননি। তার বিরুদ্ধে কোথাও কোনো মামলা বা অভিযোগ নেই। জুলাই আন্দোলনেও তিনি শান্তিপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। উভয়পক্ষের শুনানী শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণার পর ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ভাটারা থানাধীন নতুন বাজার এলাকায় চলছিল সরকার পতনের একদফা আন্দোলন। এতে অংশ নিয়েছিলেন মুক্তিগামী হাজার হাজার ছাত্র-জনতা। সেই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় পুলিশ। ওইদিন বেলা দেড়টার দিকে গুলশান থানাধীন নতুন বাজার এলাকা দিয়ে রাস্তা পার হয়ে নিরাপদ স্থানে যাচ্ছিলেন তৌহিদ মিয়া। এসময় আসামিদের ছোড়া গুলিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ৮ আগস্ট ভিকটিম বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা করেছেন তৌহিদ মিয়া।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে অজয় কর খোকনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয় তাকে। এরপর থেকে কারাগারে আটক রয়েছেন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক এ সাধারণ সম্পাদক।

