খালেদা জিয়ার স্বাধীনতা পদক নিলেন জাইমা রহমান

দাদির হয়ে প্রধানমন্ত্রী বাবার কাছ থেকে স্বাধীনতা পদক নিচ্ছেন জাইমা রহমান। ছবি: সংগৃহীত
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পদক গ্রহণ করেছেন তার নাতনি জাইমা রহমান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে দাদির পদকটি নেন তিনি। ‘স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষাসহ দেশ গঠনে’ সার্বিক অবদানের জন্য পুরস্কারটি পেয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
খালেদা জিয়াসহ ১৫ ব্যক্তি ও পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’। জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে এ বছরের মনোনীতদের পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আয়োজনে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে হয়েছে এ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনি। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান ও খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিচারপতি, তিন বাহিনী প্রধান ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা।
গত ৫ মার্চ চলতি বছরের স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের নাম ঘোষণা করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
এবার খালেদা জিয়াসহ মরণোত্তর এ সম্মাননা পেয়েছেন সাতজন। বাকিরা হলেন— মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল, সাহিত্যে ড. আশরাফ সিদ্দিকী, সমাজসেবায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও মাহেরীন চৌধুরী, সংস্কৃতিতে বশির আহমেদ এবং জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান।
মেজর জলিলের পক্ষে তার মেয়ে সারা জলিল, ড. আশরাফ সিদ্দিকীর পক্ষে তার মেয়ে তাসনিম আরিফা সিদ্দিকী, জাফরুল্লাহ চৌধুরীর পক্ষে তার ছেলে বারীশ হাসান চৌধুরী, মাহেরীন চৌধুরীর পক্ষে তার স্বামী মনসুর হেলাল, বশির আহমেদের পক্ষে তার মেয়ে হুমায়রা বশির এবং কাজী ফজলুর রহমানের পক্ষে তার মেয়ে তাবাসুম শাহনাজ তারেক রহমানের কাছে থেকে গ্রহণ করেন পুরস্কার।
পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে আরও আছেন— বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম, সংস্কৃতিতে এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত), ক্রীড়ায় জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজসেবায় সাইদুল হক, গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক ড. এম এ রহিম, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু)।
অধ্যাপক জহুরুল করিমের পক্ষে পদক গ্রহণ করেন তার ছেলে হারুনুর রশীদ। বাকিরা নিজে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার নেন।
পাঁচ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে— মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চিকিৎসাবিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ, পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), জনসেবায় এসওএস শিশু পল্লী ও গণস্বাস্থ্যকেন্দ্র পাচ্ছে স্বাধীনতা পুরস্কার।
ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল আদনান কবির, ঢাকা মেডিকেল কলেজের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান, এসওএস শিশু পল্লীর ন্যাশনাল ডাইরেক্টর এনামুল হক এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সিনিয়র প্যারামেডিক বিউটি রানী সাহা প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পদক নেন।
স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সরকার এ পুরস্কার দিয়ে আসছে ১৯৭৭ সাল থেকে। পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয় ১৮ ক্যারেট মানের ৫০ গ্রাম স্বর্ণের পদক, পদকের একটি রেপ্লিকা, ৩ লাখ টাকা ও একটি সম্মাননাপত্র।



