আজ ভারত যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি
দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভারত যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম ভারত সফরে যাচ্ছেন মন্ত্রী। এই সফরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জোর দেওয়া হতে পারে চারটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে। এগুলো মধ্যে রয়েছে— জ্বালানি সহযোগিতা, ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন, গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়ন এবং সীমান্ত পরিস্থিতি। একই সঙ্গে দুদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পূর্ণ মাত্রায় স্বাভাবিক করার বিষয়টিও এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য।
সফরসূচি অনুযায়ী, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রতিনিধি দলে থাকছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের দুই পরিচালক।
কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ড. খলিলুর রহমানের দুই দিনের সফরকে নতুন সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক পুনঃস্থাপন ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সফর হিসেবে দেখা হচ্ছে। ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ বা সম্পর্কের বরফ গলাতে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, করা হচ্ছে এমন ধারণা।
দিল্লির হায়দারাবাদ হাউসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন ড. খলিলুর রহমান। এ ছাড়া ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. অজিত দোভালের সঙ্গেও তার বৈঠকের কথা রয়েছে, জানিয়েছে কূটনৈতিক সম্পর্কে যুক্ত কর্তাব্যক্তিরা।
বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনরায় স্বাভাবিক করতে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে আলোচনা করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর সঙ্গে ৫০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ নিয়ে হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য প্রথম ভারত সফরের বিষয়টিও এই আলোচনায় স্থান পেতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। একইসঙ্গে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ২০২৬-২৭-এর সভাপতি পদের জন্য বাংলাদেশ নমিনেশন দিয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে। তিনি এ ক্ষেত্রে ভারতের সহায়তা চাইতে পারেন- এমনটিই জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযোগ প্রকল্প (কানেক্টিভিটি), সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং চলমান দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে দুই দেশের মধ্যে।
অন্যদিকে এটি একটি নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের সংলাপ হলেও বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্নে এই বৈঠকের গুরুত্ব অপরিসীম বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএনআই।
সফরের দ্বিতীয় দিন আগামীকাল ৮ এপ্রিল সকালে দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনে বিভিন্ন দেশের অনাবাসিক দূতাবাস প্রধানদের সঙ্গে সকালে বৈঠকে মিলিত হবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ভারত সফর শেষে বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর এয়ার মরিশাসের একই উড়োজাহাজে করে মরিশাসে পোর্ট লুইসে অনুষ্ঠেয় ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্সে যোগ দিবেন। ৯ এপ্রিল সকাল আটটায় বাণিজ্যিক বিমানের ফ্লাইটটি পোর্ট লুইসের উদ্দেশে দিল্লি ছাড়বে।
এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দিল্লিতে যাওয়ার আগের দিন সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলের পাশাপাশি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকশেষে হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘ভারত সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে নিজেরও যাওয়া হচ্ছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসছিলেন, সেটাকে কাজে লাগিয়ে একটা শুভেচ্ছার মনোভাব দেখানো, তারপর তাদেরকে ধন্যবাদ জানানোর জন্য।’



