আগামীর সময়

বিএনপিকালে নিয়োগ

৮০ কর্মকর্তাকে গ্রেডেশনে নিতে ইসির তালগোল

  • যুগ্ম-সচিব থাকা দুই কর্মকর্তাকে টপকালেন ১৩ উপসচিব
  • ১৯৭০ সালের নীতিমালা অনুসরণ
  • উপেক্ষিত নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারী বিধিমালা
৮০ কর্মকর্তাকে গ্রেডেশনে নিতে ইসির তালগোল

নতুন গ্রেডেশন করতে গিয়ে তালগোল পাকিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দুজন যুগ্ম-সচিবের নাম চলে গেছে ১৩ উপসচিবের পরে! মাঠ পর্যায়ের সর্বোচ্চ দায়িত্বে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা হলেও তাদের ওপর জায়গা করে নিয়েছেন জেলা ও উপজেলার কর্মকর্তা।

২০০৫ সালে বিএনপি সরকারের নিয়োগ দেওয়া ৮০ জনকে গ্রেডেশনে অন্তর্ভুক্ত করতে গিয়ে এ জটিলতার সৃষ্টি করেছে ইসি। পরবর্তীতে অন্তবর্তীকালীন ও আওয়ামী লীগ সরকার তাদের চাকরিচ্যুত করে। এ নিয়ে ওই সময় হয়েছে নানা নাটকীয়তা। চাকরি ফিরে পেয়েছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর উচ্চ আদালতের আদেশে। তাদের অন্তর্ভুক্ত করে পুরো তালিকা সাজানো হয়েছে নতুনভাবে।

৭৩৮ জন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয় গতকাল সোমবার। এই গ্রেডেশন হয়েছে ১৯৭০ সালের জ্যেষ্ঠতার সাধারণ নীতিমালায়। দশ বছর আগের তালিকা বাদ দিয়ে নতুন তালিকা হয়েছে। অভিযোগ, নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারী (জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি) বিধিমালা উপেক্ষার। যে কারণে নাম চলে গেছে জুনিয়রদের পেছনে অনেক সিনিয়রের।

নতুন এ তালিকা নিয়ে ইসিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সংক্ষুব্ধরা মনে করছেন— গ্রেডেশন নিয়ে ইসিতে বিশৃঙ্খল-পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নষ্টের আশঙ্কাও অনেকের।

‘উচ্চ আদালতের আদেশে সদ্য যোগ দেওয়া ৮০ জনের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হয়েছে। তাদের ঢোকাতে গিয়ে পুরো তালিকা নতুন করে করতে হয়েছে’— বলছিলেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

সিনিয়র সচিব যোগ করেন, ‘এক্ষেত্রে যাদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আগে প্রকাশ হয়েছে এবং যারা উচ্চতর পদে যোগ দিয়েছেন, তাদের নাম উপরে উঠে এসেছে।’

১৯৭০ সালের জ্যেষ্ঠতার সাধারণ নীতিমালা বিবেচনায় নিতে হয়েছে কেন? এমন প্রশ্নোত্তরে আখতার আহমেদ বলছিলেন, ২০১৬ সালে প্রকাশিত গ্রেডেশন তালিকায় যারা আগে যোগ দিয়েছেন, তাদেরকে সিনিয়র করে তালিকা করা হয়। ওই তালিকা নিয়ে অনেকের আপত্তি ছিল। এ কারণে বিবেচনায় নিতে হয়েছে ১৯৭০ সালের জ্যেষ্ঠতার সাধারণ নীতিমালাও।

নির্বাচন ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ-২ এর প্রধান মো. মঈন উদ্দীন খান নতুন তালিকার ১৪তম স্থানে। বর্তমানে তিনি যুগ্ম সচিবের চলতি দায়িত্বেও রয়েছেন। আগের তালিকায় তিনি প্রথম স্থানে ছিলেন। তার অধীনে থাকা বেশ কয়েকজন উপ-সচিব নতুন তালিকায় তার চেয়ে ওপরে চলে এসেছেন। একইভাবে নতুন তালিকায় নির্বাচন ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ-১ এর প্রধান মো. আব্দুল হালিম খানের অবস্থান ১৫তম স্থানে। আগের তালিকায় তার অবস্থান দ্বিতীয়।

ইসির কাঠামো অনুযায়ী, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা। নতুন তালিকার ৩০০তম অবস্থানে রয়েছে খুলনা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সল কাদের। তারই অধীনস্থ যশোর সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. কবির উদ্দিনের অবস্থান ২৮৩তম নম্বরে। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ছামিউল আলমের অবস্থান ২৮৯ নম্বরে। ফরিদপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মাহবুব আলম শাহ্ ২৯৯তম অবস্থানে ও রংপুরের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ৩০১তম অবস্থানে রয়েছেন। তাদের অধীনস্থ বেশ কয়েকজন জেলা ও উপজেলা কর্মকর্তা তাদের ওপরে রয়েছেন নতুন তালিকায়।

খসড়া তালিকার সঙ্গে চূড়ান্ত তালিকার অনেক পার্থক্য রয়েছে। খসড়া তালিকার ওপর মতামত নেওয়া হয়। কিন্তু ওই তালিকায় পরিবর্তন আনা হলেও দাবি-আপত্তি নেওয়া হয়নি। চরম গোপনীয়তার মধ্যে তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে— জানালেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

    শেয়ার করুন: