আগামীর সময়

আন্তর্জাতিক নারী দিবস

প্রয়োজন দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক পরিবর্তন

প্রয়োজন দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক পরিবর্তন

শ্যামা সরকার

পরিবর্তনের শক্তিশালী নেতৃত্ব নারী। নারীর বিচক্ষণতা ও সুদূরপ্রসারী ভাবনা নাড়া দিয়েছে গোটা বিশ্বকে। দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধের মূর্ত প্রতীক নারী। সিদ্ধান্তে অটল ও অবিচল। বিশ্ব অঙ্গনে নারীর প্রতিনিধিত্বকে দেখা হচ্ছে নতুন করে। নারীর ভাবনায় এসেছে এক অলঙ্ঘনীয় পরিবর্তন। ঘরে ও বাইরে সমানতালে কাজ করে যাচ্ছেন ‘দশভূজা নারী’। ‘কর্মই ধর্ম’- এ ব্রত নিয়েই এগিয়ে চলেছেন তারা। আমাদের দেশের নারীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে তাদের দক্ষতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন।

সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নারীরা পরিণত হয়েছে জীবন্ত কণ্ঠস্বরে। যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নারীর সাহসী ভূমিকা প্রশংসার দাবি রাখে। তদুপরি বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তারা। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাই হলো নারী দিবসের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বিশ্বব্যাপী ৮ মার্চ এ দিবসটি পালন করা হয়। বিশেষ করে নারীর প্রতি শ্রদ্ধা, তাদের কাজের স্বীকৃতি, ভালোবাসা প্রকাশের মধ্য দিয়ে পালন করা হয় দিবসটি। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালন করা হয়।


নারী দিবসের প্রতীক বেগুনি রঙ। এ দিবস মূলত বেগুনির সঙ্গে সাদার মিশেল কিংবা শুধুই বেগুনি। নারী দিবসের বেগুনি রং ভেনাসের। যা কিনা নারীরও প্রতীক। কারণ বেগুনি নির্দেশ করে সুবিচার ও মর্যাদার। যা দৃঢ়ভাবে নারীর সমতায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম শেষে বেগুনি রঙ এখন নারীবাদীদের প্রতিবাদের এক অনন্য প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া প্রতিটি দিবসে আলাদা রঙের প্রতীক হওয়ার পেছনেও আছে ভিন্ন ইতিহাস। যেমন: বিশ্ব ‘শান্তি দিবস’ সবুজাভ নীল, বিশ্ব ‘শ্রম দিবস বা মে দিবসে’ লাল, পরিবেশ দিবসে ‘সবুজ রঙ’ ইত্যাদি।
এবারে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে :  ‘Right, Justice, Action, For All Women and Girls’ অর্থাৎ ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার।’


এ প্রতিপাদ্যটি সময়োপযোগী। কারণ নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার রক্ষা কেবল মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি টেকসই উন্নয়ন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের পূর্বশর্ত। আমাদের সমাজে এখনো সহিংসতা, বাল্যবিবাহ, বৈষম্য ও শিক্ষাবঞ্চনার শিকার নারী ও কন্যাশিশুরা। এর জন্য প্রয়োজন সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হলে নারীর আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৭২ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংবিধানের ১৭, ১৯,২৭, ২৮ এবং ২৯ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে জীবনের সব ক্ষেত্রে নারীর সমঅধিকার ও ক্ষমতায়ন এবং নারী ও শিশুর সুরক্ষার মাধ্যমে মর্যাদা সমুন্নত রাখার প্রক্রিয়া শুরু হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধে নির্যাতনের শিকার নারীদের নিয়ে ১৯৭২ সনে ‘বাংলাদেশ নারী পুনর্বাসন বোর্ড’ গঠন করা হয়। ১৯৭৪ সালে এ বোর্ডকে ‘বাংলাদেশ নারী পুনর্বাসন ও কল্যাণ ফাউন্ডেশন’-এ রূপান্তর করা হয়, যা পরবর্তীকালে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরে উন্নীত হয়। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা চালু করা হয়।

কিশোরীদের নেতৃত্ব বিকাশ, দেশপ্রেম ও আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে ‘গার্লস গাইড অ্যাসোসিয়েশন’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৮৯ সালে জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ প্রণয়নের আগেই ১৯৭৪ সালে শিশু আইন পাসের মাধ্যমে শিশুর অধিকার ও সার্বিক সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

লিঙ্গ সমতায় বিরাট অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে বিশ্বের ১৪৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ২৪তম স্থানে উঠে এসেছে। আর দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান সবার ওপরে।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ‘গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট-২০২৫’- এ লিঙ্গ সমতায় বাংলাদেশের এই অগ্রগতির চিত্র উঠে এসেছে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভা থেকে ১১ জুন প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।


২০২৪ সালের প্রতিবেদনে বৈশ্বিক লিঙ্গ সমতার সূচকে ১৪৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৯৯তম। গত বছর বার্ষিক এই সূচকে বাংলাদেশের ৪০ ধাপ অবনতি হয়েছিল। ২০২৫ সালের সূচকে বাংলাদেশের ৭৫ ধাপ অগ্রগতি হয়েছে। সূচকে এক বছরে সবচেয়ে বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ।


মূলত চারটি মাপকাঠি অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও সুযোগ, শিক্ষাগত অর্জন, স্বাস্থ্য ও আয়ু, রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন- এর ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়।


এবারের সূচকেও সবার ওপরে রয়েছে আইসল্যান্ড (১ম)। এ নিয়ে দেশটি টানা ১৬ বছর ধরে সূচকের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। সূচকে সবার শেষে রয়েছে পাকিস্তান (১৪৮তম)। ভারতের অবস্থান ১৩১তম। সূচকের শীর্ষ ৫০টি দেশের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়া থেকে শুধু বাংলাদেশই রয়েছে।

প্রত্যেকটি মানুষ তার প্রাপ্য সম্মান, অধিকার থেকে বঞ্চিত হলেই প্রতিবাদ করতে চায়, রুখে দাঁড়ায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে। এই ন্যায্য অধিকার এবং সম্মানের দাবিতে নারী শ্রমিকরা প্রতিবাদ করেন। যা ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বব্যাপী।

নারী দিবস পালনের মূল কারণ হচ্ছে এই দিনে আমেরিকায় ঘটে যাওয়া এক আন্দোলন। ১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ নিউইয়র্কের সুতা কারখানায় কর্মরত নারী শ্রমিকরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হন। বেতন বৈষম্য, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা আর অমানবিক কর্মপরিবেশ- এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে নারীরা একজোট হলে তাদের ওপর কারখানা মালিকরা এবং তাদের মদদপুষ্ট প্রশাসন দমন-পীড়নেই ক্ষান্ত হয়নি, নির্বিচারে চালিয়েছিল গুলি।

১৯০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কের সোশ্যাল ডেমোক্রেট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত নারী সমাবেশে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। এ সময় ১৭টি দেশ থেকে ১০০ জন নারী প্রতিনিধি এ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন।

সম্মেলনে ক্লারা জেটকিন প্রতি বছর ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন। সিদ্ধান্ত হয় ১৯১১ সাল থেকে নারীদের সমঅধিকার দিবস হিসেবে দিনটি পালিত হবে। এ প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে ১৯১৪ সাল থেকে বেশ কয়েকটি দেশে ৮ মার্চ নারী দিবস পালিত হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে ১৯৭১ সালের ৮ মার্চকে নারী দিবস পালন করার সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালনের আহ্বান করে।

বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালন করলেও সহিংসতা ও নির্যাতন থেকে মুক্তি পায়নি নারী। সে কারণে নারীর কর্মপরিধি বা সেবাদান সঙ্কুচিত হয়ে পড়ছে। অফিস ও ঘরের কাজসহ বিভিন্ন ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে, যা নারীদের শারীরিক ও মানসিক অবসাদগ্রস্ততার ঝুঁকিতে ফেলছে।

এর থেকে মুক্তি পেতে ১৯৯৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর, বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত চতুর্থ বিশ্ব নারী সম্মেলনে ঐকমত্যের ভিত্তিতে ১৮৯টি রাষ্ট্র বেইজিং কর্মপরিকল্পনা এবং প্ল্যাটফর্ম ফর অ্যাকশন গ্রহণ করে।

BPFA একটি আন্তর্জাতিকভাবে গৃহীত ঘোষণাপত্র যা নারীর প্রতি সব বৈষম্য বিষয়ক কনভেনশন পুনঃনিশ্চিত করে। CEDAW (‘Convention for the Elimination of all forms of Discrimination Against Women’) বৈশ্বিক নারী আন্দোলনে এক মুখ্য মাইলস্টোন। এটি নারী অধিকারের এক প্রতিচিত্র হিসেবে গৃহীত। যেখানে মানবাধিকার এবং নারী অধিকার, লিঙ্গ সমতা, শান্তি ও নিরাপত্তা এবং দারিদ্র্য দূরীকরণে প্রধান অন্তরায় হিসেবে বৈষম্যকে শনাক্ত করা হয়।

এছাড়া এটি নারীর প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্বকে নিশ্চিত করে। সিডও সনদে ৩০টি ধারা আছে। প্রথম ১৬টি ধারা নারীর প্রতি কত প্রকার বৈষম্য আছে, তা বিশ্লেষণ করে। আর পরের ১৪টি ধারা ব্যাখ্যা করে এ বৈষম্যগুলো কীভাবে বিলোপ করা যায়।


বাংলাদেশ জাতিসংঘ নির্দেশিত ‘সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য’ (এমডিজি) অর্জনে ইতোমধ্যে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশকে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের ‘রোল মডেল’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি বা টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (Sustainable Development Goals) অর্জনের অংশীদারিত্বের পারস্পরিক দায়িত্ব পড়েছে বাংলাদেশসহ জাতিসংঘের সকল সদস্য দেশের ওপর। এর উদ্দেশ্য হলো- বিশ্বের সর্বত্র ও সার্বজনীন কল্যাণ। পরিবর্তনশীল বিশ্বের সমতা ও বৈষম্যহীন উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জন করতে হবে।

এসডিজি-৫ অর্জনে জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বব্যাপী বেশকিছু সূচকে অগ্রগতি হলেও সার্বিকভাবে সূচকে আরও অনেক দূর অগ্রসর হতে হবে। জেন্ডার সমতার প্রান্তিক স্তরে কাঠামোগত বিষয়ে অগ্রগতি সামান্য। এসডিজি-৫ অভীষ্ট অর্জনের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগে অসমতা, অন্যায্য সামাজিক রীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি ও যৌনতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং রাজনীতিতে অপেক্ষাকৃত নারীর অংশগ্রহণ কম।

কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনে নারীদের যেমন জীবনের ঝুঁকি আছে, তেমনি চ্যালেঞ্জও আছে। আর এই চ্যালেঞ্জই নারীর শক্তি, কাজের প্রেরণা। পরিবারেও একজন নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। পরিবারে নারীর বিভিন্ন রূপ। কখনো কন্যা, কখনো স্ত্রী, কখনো জননী। আর এসব ক্ষেত্রেও নারীর ভূমিকা বৈচিত্র্যপূর্ণ।
ঘরের কাজে নারীর পাশাপাশি পুরুষ এগিয়ে আসবে- এ সংস্কৃতি আমাদের সমাজে এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। নারী যতোটা অর্থ উপার্জনে এগিয়ে এসেছে, পরিবারের হাল ধরেছে কিন্তু সেই তুলনায় পুরুষ এগিয়ে আসেনি ঘরের কাজে। এ বৈপরীত্যের জন্য সমাজ দায়ী, নাকি পুরুষের মন-মানসিকতা!
যেখানে নারীর নিজের সিদ্ধান্ত দেয়ার অধিকার নেই, সেখানে হাইকোর্টের একটি যুগান্তকারী রায় বাংলাদেশের সব মাকে স্বস্তি দিয়েছে।

বাংলাদেশে শিক্ষা ক্ষেত্রের সব ধরনের ফরমে এখন থেকে অভিভাবকের ঘরে বাবা ছাড়াও মা অথবা আইনগত অভিভাবকের নাম উল্লেখ করা যাবে। আগে ফরমে শুধু পিতার নাম ব্যবহার করতে হতো। পরে সেখানে মায়ের নাম লেখাও বাধ্যতামূলক করা হয়। আর এখন যে রায় দেওয়া হলো তাতে অভিভাবক হিসেবে শুধু মায়ের নামও উল্লেখ করা যাবে।

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রবণতা বেড়েছে ব্যাপক হারে। নারীরা বিশেষ করে প্রোগ্রাম তৈরি করা, বাণিজ্যিকভাবে মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্টারনেট, ই-মেইল, বায়োডাটা প্রস্তুত করা, গ্রাফিকস, ডিজাইন তৈরি, অনলাইন শপিং, তথ্য আদান-প্রদান, স্বাস্থ্য, কৃষিবিষয়ক তথ্যসেবা দিয়ে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। নিজ নিজ বাড়ি বা বাসার পাশে ছোট ছোট দোকান নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন তারা।


এটি যেমন অর্থনীতির জন্য কল্যাণকর, তেমনি পরিবারের জন্য, সমাজের জন্য সমানভাবে কল্যাণকর। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে ফলে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ সুগম ও সহজলভ্য হয়েছে। এতে এ খাতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও বাড়ছে দিন দিন। প্রয়োজন এ প্রযুক্তিকে টেকসই, সহজলভ্য ও সুলভ করা।


দীর্ঘ পথচলায় পিছিয়ে নেই নারীরা। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, সেনা, নৌ, পুলিশ, বিজিবি, সাহিত্য, শিল্পসহ সর্বোচ্চ বিচারিক কাজেও নারীর অংশগ্রহণ ও সাফল্য এখন লক্ষণীয়। প্রথম নারী উপাচার্য, প্রথম নারী পর্বতারোহী, প্রথম বিজিএমইএ নারী সভাপতি, প্রথম নারী মেজর, প্রথম নারী স্পিকার, প্রথম নারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সব ক্ষেত্রেই নারীর অবস্থান ক্রমশই উজ্জ্বল।

এতোকিছুর পরেও মর্যাদা ও ক্ষমতার ক্ষেত্রে নারীকে অবহেলা ও অবমূল্যায়ন করা হয়। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নারীর অবদানকে খাটো করে দেখা, কৃষিতে প্রচুর অবদান থাকা সত্ত্বেও মর্যাদা না দেয়া, ঘরের কাজের আর্থিক মূল্যায়ন না করা, শিল্পক্ষেত্রের অবদানকে গুরুত্ব না দেয়া, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার- এ অচলায়তন ভেঙে এখনো বের হওয়া সম্ভব হয়নি। বাড়ছে সহিংসতা, এসিড নিক্ষেপ, হত্যা, ধর্ষণ, যৌন হয়রানি। প্রয়োজন দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক পরিবর্তন।

তাই নারী ও কন্যাশিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়তে, তাদের শিক্ষা ও সঠিক দক্ষতায় গড়ে তুলতে এবং ক্ষমতায়নের মাধ্যমে সামাজিক পরিবর্তনের কর্মী হিসবে গড়ে তুলতে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এটি অর্জন করতে হলে আমাদের প্রয়োজন আন্তরিকতা, প্রতিশ্রুতি, স্বচ্ছতা ও দক্ষতা। পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাংলাদেশে নারী সমাজের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, নারী অধিকার রক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন ও সমতা সৃষ্টির জন্য আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব অপরিসীম।

লেখক: কলামিস্ট



    শেয়ার করুন: