আগামীর সময়

সংসদে বঙ্গবন্ধুর উদাহরণ টানলেন প্রধানমন্ত্রী

সংসদে বঙ্গবন্ধুর উদাহরণ টানলেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: ফোকাস বাংলা

নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সব আন্দোলন-সংগ্রামের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তব্য শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্মরণ করেন তার প্রয়াত মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে। এরপর কথা বলেন দেশ পরিচালনায় বিএনপি সরকারের ভূমিকা কেমন হবে- তা নিয়ে।

বক্তব্যের শেষদিকে সংসদে সভাপতির নাম প্রস্তাব দিতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদাহরণ টানেন সরকারপ্রধান ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান।

সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে সংসদ অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সময়ে সরকার ও বিরোধী দলের  সংসদ সংদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাকে অভিনন্দন জানান।

সংসদ সচিবালায়ের সচিব কানিজ মাওলা কার্যক্রমের সূচনা করেন। তারপর বেলা ১১টা ৫ মিনিটে কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অধিবেশন। এরপর সূচনা বক্তব্য রাখেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তারেক রহমান বললেন, এই সংসদের মধ্য দিয়ে দেশে কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হলো।

‘ফ্যাসিবাদের নির্মমতার শিকার অসংখ্য মানুষের কান্না আর হাজারও প্রাণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা একটি দায়বদ্ধ সংসদ পেয়েছি। যারা গুম, খুন এবং আয়নাঘরের মতো বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের সাহসিকতাতেই আজ দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে’- মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর।

‘আমি দলীয়ভাবে নির্বাচিত হলেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এই সংসদে সমগ্র দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু একটি সার্বভৌম, নিরাপদ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রশ্নে আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ থাকতে পারে না। প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সব সংসদ সদস্যের সহযোগিতা কামনা করছি’- স্পষ্ট করলেন সংসদ নেতা।

বর্তমান সংসদের বিশেষ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন প্রধানমন্ত্রী।

‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট জনরোষে সাবেক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারদের কাউকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তারা হয় কারাগারে, না হয় পলাতক।’

এই সংকটকালে অধিবেশনে সভাপতিত্বের প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি টানলেন ১৯৭৩ সালের উদাহরণ।

‘এমন পরিস্থিতিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সভাপতিত্ব করার জন্য আজ আমি প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও পাঁচবারের সংসদ সদস্য  ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করছি... আমাদের সংসদীয় রীতিনীতির ইতিহাসে এ ধরনের পরিপ্রেক্ষিত নজিরবিহীন নয়।’

‘১৯৭৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান ওই সংসদে মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের নাম প্রস্তাব করেছিলেন। তার সভাপতিত্বে বাংলাদেশের প্রথম সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছিল।’

সভাপতিত্ব করার জন্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাবে পূর্ণ সমর্থন জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিরোধী দলের পক্ষে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরও এতে সমর্থন জানান।

বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছিল ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ। ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৩টিতে জয়লাভ করেছিল আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান করে গঠন হয়েছিল সরকার।

তেজগাঁওয়ে অবস্থিত তখনকার জাতীয় সংসদ ভবনে ওই সংসদের প্রথম অধিবেশন বসেছিল ৭ এপ্রিল।

    শেয়ার করুন: