আগামীর সময়

প্রথম দিনেই ওয়াকআউট করতে পারে জামায়াত-এনসিপি

প্রথম দিনেই ওয়াকআউট করতে পারে জামায়াত-এনসিপি

ছবিঃ আগামীর সময়

৫৮৩ দিন পর কাল বসছে সংসদ অধিবেশন। খাদে পড়া গণতন্ত্র উদ্ধারের পর কাঙ্খিত সংসদ দেখতে উন্মুখ দেশের মানুষও। তবে শুরুতেই জমজমাট সংসদে বাগড়ার আভাস। ওয়াকআউট করতে পারে জামায়াত-এনসিপি জোট। বিরোধী দলের সভায়ও এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে।

২০২৪ সালের ৬ আগস্ট বিলুপ্ত হয় দ্বাদশ সংসদ। কাল বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাওয়া এই অধিবেশন ঘিরে আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গন, প্রশাসনসহ সর্বমহলে। একাধিক সূত্র জানাচ্ছে, কয়েকটি ইস্যুতে উত্তপ্ত হতে যাচ্ছে প্রথম অধিবেশন।

গণভোটে জনগণের রায় বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্রপতি অভিশংসন প্রস্তাব— বিরোধী দলের মূল এজেন্ডায় প্রাধান্য পাবে এই দুই বিষয়। জোটের একাধিক সংসদ সদস্য সূত্রে মিলছে এমন তথ্য। তাছাড়া উচ্চকক্ষ গঠন নিয়েও হতে পারে বড় জটিলতা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে আছে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। প্রথা মেনেই উদ্বোধনী অধিবেশনে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সরকারি দল বিএনপির পক্ষ থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে বিষয়টি। তবে এ নিয়ে শুরু থেকেই ঘোরতর আপত্তি বিরোধী দলের। রাষ্ট্রপতির অভিশংসন ও গ্রেফতার চেয়েছে এনসিপি। বিরোধী জোটের একাধিক সূত্র জানাচ্ছে, রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় সংসদ বর্জন করবে তাদের সংসদ সদস্যরা।

‘ফ্যাসিস্টের দোসর হিসেবে আমরা রাষ্ট্রপতিকে সংসদে দেখতে চাই না। তার ভাষণের জন্যও আমরা প্রস্তুত না। আমরা তার অভিশংসন প্রস্তাব করব’, আগামীর সময়কে বলছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল আমিন।

অন্যদিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ায় বিএনপিকে চাপে রাখতে চাইছে ১১ দলীয় জোট। ‘প্রথম অধিবেশনেই আমরা রাষ্ট্রপতির অভিশংসন ও গণভোট নিয়ে কথা বলব। কেন সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ সরকার দলীয় সদস্যরা নেননি এবং কেন এই পরিষদ গঠন হয়নি তা নিয়ে আমরা প্রশ্ন তুলব। রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় ওয়াকআউট করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে’, ব্যাখ্যা করছিলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১১ দলীয় জোটের এক সংসদ সদস্য।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম মঙ্গলবার মন্তব্য করেছিলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ এই ইলেকশনে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন। সংস্কার বাস্তবায়নে আমরা ১২ মার্চ জাতীয় সংসদে যাচ্ছি। কবে উচ্চকক্ষ হবে, কবে সংবিধান সংস্কার পরিষদ হবে সেই হিসাব নিতে। কোনো ফ্যাসিবাদের দোসরের বক্তব্য শোনার জন্য আমরা সংসদে যাচ্ছি না।’

‘অবিলম্বে এই রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে গ্রেফতার করতে হবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ করে সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। গণভোটের ‘হ্যাঁ’ রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। সংস্কারের পক্ষে, বিচারের পক্ষে আমাদের লড়াই চলমান থাকবে’, যোগ করেন ঢাকা-১১ আসনের এই সংসদ সদস্য।

এদিকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’, সংসদে তার বক্তব্য দেওয়ার অধিকার নেই বলে দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। বুধবার দুপুরে সংসদের বিরোধী দলীয় এমপিদের নিয়ে বৈঠক শেষে এ দাবি তার।

‘আগামীকাল যে সংসদ বসবে, সেখানে আমাদের ভূমিকা কী হওয়া উচিত, বৈঠকে সেই বিষয়ে দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেহেতু অধিকাংশ সংসদ সদস্য নতুন, সংসদের ক্রাইটেরিয়া, ক্যারেক্টার বিষয়ে আমরা কিছু দিক-নির্দেশনা দিয়েছি’, সাংবাদিকদের জানাচ্ছিলেন তিনি।

‘আমরা মনে করি রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেয়ার অধিকার নেই। তিনি স্বৈরাচারের দোসর। বিএনপি কেন তাকে দিয়ে ভাষণ দেওয়াচ্ছে আমরা পরিষ্কার নই। এ বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সেগুলো কাল দেখবেন’, জোর দেন কুমিল্লা-১১ আসনের এই সংসদ সদস্য।

তবে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় সংসদে ভাষণ দেবেন বলে নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

‘জুলাই সনদের সব কিছু ধারণ করা হবে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের অধিবেশন বসবে। এ সংসদেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবে। তাদের শপথ গ্রহণ করাবেন রাষ্ট্রপতি’, দুপুরে সংসদ থেকে বের হয়ে জানাচ্ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই নেতা।

    শেয়ার করুন: