ঈদযাত্রায় অব্যবস্থাপনা
সড়কমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন কিনা জানতে চাইলেন এমপি মিলন

সংগৃহীত ছবি
এবারের ঈদ যাত্রা স্বস্তিমূলক ছিল সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের এমন বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন ঢাকা-১২ আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য (এমপি) সাইফুল আলম মিলন।
‘আর কত লোক মারা গেলে তিনি (সড়ক পরিবহন মন্ত্রী) অস্বস্তিবোধ করবেন?’ সড়ক মন্ত্রী পদত্যাগ করবেন কিনা এমন প্রশ্নও তোলেন এই সংসদ সদস্য।
আজ সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ‘পয়েন্ট অব অর্ডারে’ দাঁড়িয়ে এমন প্রশ্ন তোলেন সাইফুল আলম মিলন।
‘গতকালকে (রোববার) সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ঈদযাত্রা সম্পর্কে বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেছেন ঈদযাত্রা স্বস্তি ছিল। কিন্তু ঈদযাত্রার স্বস্তিটা আপনাদের সামনে বলতে চাই। তিনি বলেন, বিআরটিএ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ঈদ যাত্রায় ১৭০জন মারা গেছে। যাত্রীকল্যাণ সমিতির প্রতিবেদন অনুযায়ী ৩৭০ জন। এরপর আমরা দেখলাম দৌলতদিয়ায় একটা আস্ত বাস পানির নিচে চলে গেল। আমাদের সড়কমন্ত্রী বললো স্বস্তির যাত্রা ছিল। আমার প্রশ্ন হল— আর কত লোক মারা গেলে তিনি অস্বস্তিবোধ করবেন?—বলছিলেন সাইফুল আলম।
এর আগে গত রোববার সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঈদযাত্রা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি স্বস্তিদায়ক হয়েছে বলে দাবি করেন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
এদিকে ইরান-ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের চেয়ে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেশি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।
আজ সোমবার (৩০ মার্চ) ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পরিসংখ্যান তুলে ধরতে গিয়ে এই তথ্য জানালেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব।
‘গত ১৫ দিনে যুদ্ধের হতাহত বিশ্লেষণ করলে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি।’
দুর্ঘটনার তথ্য তুলে ধরে মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলছিলেন, এবারের ঈদুল ফিতরে দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে ৩৭৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন ৩৯৪ জন। আর আহত হয়েছেন এক হাজার ২৮৮ জন। এর মধ্যে শুধু সড়কেই ৩৪৬টি দুর্ঘটনায় ৩৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ৪৩ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩০ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২২ শতাংশ সংঘটিত হয়েছে সংযোগ সড়কে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর পর্যালোচনা করে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল। রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরেন সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঈদ উপলক্ষে যাত্রা শুরুর দিন ১৪ মার্চ থেকে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরার দিন ২৮ মার্চ পর্যন্ত ১৫ দিনে ৩৪৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত ও এক হাজার ৪৬ জন আহত হয়েছেন। ২০২৫ সালের ঈদুল ফিতরে ৩১৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২২ জন নিহত ও ৮২৬ জন আহত হন। বিগত বছরের সঙ্গে তুলনা করলে এবারের ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ, প্রাণহানি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ ও আহত বেড়েছে ২১ শতাংশ।

