জামায়াত আমির
সংসদ যেন ব্যক্তির চরিত্র হননের কেন্দ্রে পরিণত না হয়

ছবি ভিডিও থেকে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দিলেন বিরোধী দলের নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হয়।
সংসদে নবনির্বাচিত স্পিকারের উদ্দেশে আহ্বান জানালেন বিরোধীদলীয় নেতা। ‘বর্তমান সংসদ কোনো সাধারণ বা গতানুগতিক সংসদ নয়; এটি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি পবিত্র আমানত। এই সংসদ যেন কোনো ব্যক্তির চরিত্র হননের কেন্দ্রে পরিণত না হয়।’
বক্তব্যের শুরুতে ডা. শফিকুর রহমান নবনির্বাচিত স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট কায়সার কামালকে অভিনন্দন জানান। তিনি স্পিকারের দলীয় পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেন। ‘আপনি এখন কোনো দলের নন, আপনি ১৬ কোটি মানুষের অভিভাবক। আমরা আশা করি আপনার কাছে সরকারি ও বিরোধী দল সমান গুরুত্ব পাবে।’
বিগত ৫৫ বছরের সংসদীয় রাজনীতির সীমাবদ্ধতা তুলে ধরলেন বিরোধীদলীয় নেতা। ‘বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতি খুব কম সময়ই কার্যকর ছিল। বেশিরভাগ সময় ফ্যাসিজমের কবলে পড়ে সংসদ ছিল অকার্যকর ও ডামি। অতীতে যারা এই অভিভাবকত্বের চেয়ারে ছিলেন, তারা অনেকেই গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকারের ওপর সুবিচার করতে পারেননি।’
সংসদে উপস্থিত বিপুলসংখ্যক তরুণ সদস্যের বিষয়টিও তুলে ধরলেন শফিকুর রহমান। ‘আমি বয়সে বেশি হলেও সংসদ সদস্য হিসেবে নতুন, তাই আমিও তরুণদের একজন। আমরা চাই প্রবীণ ও অভিজ্ঞদের কাছ থেকে ভালো কিছু শিখতে। অতীতে সংসদে জনকল্যাণের চেয়ে মানুষের চরিত্র হননে বেশি সময় ব্যয় করা হয়েছে। আমি অনুরোধ করব, আপনার নেতৃত্বে এই মন্দ নজিরের অবসান ঘটুক।’
‘জুলাইয়ের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই সংসদের কাছে জনগণের একটাই প্রত্যাশা- ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। আপনি যদি এই সংসদের ওপর ইনসাফ করেন, তবে ১৮ কোটি মানুষের ওপর ইনসাফ করা হবে। রাষ্ট্রের প্রধান তিনটি অঙ্গের মধ্যে এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ,’ যোগ করলেন তিনি।
স্পিকারের নেতৃত্বে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সব অসংগতি ও দুর্বৃত্তপনার অবসান ঘটবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন শফিকুর রহমান। এসময় তিনি সংসদের গঠনমূলক প্রতিটি পদক্ষেপে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

