বরাবরের মতোই স্পিকার ডেপুটি স্পিকার চূড়ান্তের ভার সংসদ নেতার কাঁধেই

সংগৃহীত ছবি
একানব্বই সাল থেকেই হয়ে উঠেছে রীতি। সংসদ নেতাই ঠিক করছেন স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার। ক্ষমতাসীন সংসদীয় দল বৈঠকে বসেও তাদের খুঁজে বের করতে পারেন না। পরে ভার তুলে দেওয়া হয় সংসদ নেতার হাতে। এবারও তাই হলো। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করার ভার সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ছেড়ে দিয়েছে বিএনপির সংসদীয় দল। সংসদ ভবনে আজ বুধবার সদস্যদের বৈঠকে সংসদ নেতাকে দেওয়া হয় এ দায়িত্ব।
১৯৯১ সালে অভাবিত বিজয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে ১৯৯৬ সালের ভূমিধস বিজয়ে। ২০০১ সালে পুনরায় বড় বিজয়ে সরকারে আসে বিএনপি। এসব নির্বাচনে দায়িত্বে আসার পর কোনো সরকারি দলই বৈঠক করে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে প্রার্থী বাছাই করতে পারে না। দায়িত্ব দেওয়া হয় বিএনপি হলে খালেদা জিয়াকে আর আওয়ামী লীগ হলে শেখ হাসিনাকে। ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত একই ঘটনা।
জাতীয় সংসদের এলডি হলে চলছে সংবাদ সম্মেলন। ব্রিফ করছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। জানালেন, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায়। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের নাম জানা যাবে তখনই।
‘স্পিকারের চেয়ার খালি রেখেই অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হবে। শুরুতেই কোরআন তিলাওয়াত। এরপর সংসদ নেতা সভায় সভাপতিত্ব করার জন্য একজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম প্রস্তাব করবেন। কোনো একজন সংসদ সদস্য তাতে সমর্থন যোগাবেন। যার নাম প্রস্তাব করা হবে তিনিই সভাপতিত্ব করবেন’— ব্রিফিংয়ে চিফ হুইপ।
নূরুল ইসলামের সংযোজন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ আগামীকাল সংসদে উপস্থাপন করা হবে। সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ে বৈঠকেই গঠন করা হবে একটি বিশেষ কমিটি। সরকারি দলের পাশাপাশি কমিটিতে থাকবেন বিরোধী দলের সদস্যরাও।
ডেপুটি স্পিকার পদ নিয়ে বিরোধী দলের অবস্থান প্রসঙ্গে চিফ হুইপের বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত উদারতা দেখিয়ে বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পিকার পদ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে কোনো পজিটিভ রেসপন্স আসেনি। রেসপন্স পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা।
সংসদ ভবনে সংসদীয় বৈঠকে বসেন বিরোধীদলীয় এমপিরাও। এরপর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কারের বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা ডেপুটি স্পিকারের পদ গ্রহণ করবেন না।
তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন সংসদ অধিবেশনে আগে জুলাই সনদ, সংস্কার প্রস্তাব এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে হবে।
তার মতে, ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের বিষয়টি এই মুহূর্তে প্রাসঙ্গিক নয় বরং এটি জুলাই সনদের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতাদের আলোচনার মাধ্যমেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

