আগামীর সময়

রেললাইনে সবসময়ই ১৪৪ ধারা, কাটা পড়লে উল্টো দণ্ড!

রেললাইনে সবসময়ই ১৪৪ ধারা, কাটা পড়লে উল্টো দণ্ড!

গ্রাফিক্স: আগামীর সময়

একটি বাসের জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়া যে পাঁচটি পরিবারের আজীবনের কান্নার কারণ হয়ে দাঁড়াবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। জীবিকার তাগিদে দেশের উত্তরের জনপদ গাইবান্ধা থেকে কর্মস্থলে ফেরার পথে মুহূর্তের অসতর্কতায় সব শেষ। গত ২৭ মার্চ রাতে টাঙ্গাইলে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে প্রাণ গেল একই গ্রামের পাঁচজনের, যাদের মধ্যে রয়েছে নিষ্পাপ শিশু ও নারী। পরদিন সকালে যখন এই খবর গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের ধাপেরহাট ইউনিয়নের নিজপাড়া গ্রামে পৌঁছায়, তখন আকাশ-বাতাস বিদীর্ণ করে ওঠে স্বজনদের আহাজারি।

ব্যক্তি, গবাদিপশু, যানবাহন কাটা পড়লে দায় নেই রেলের | উল্টো ক্ষতিগ্রস্তদেরই জরিমানা কিংবা দণ্ডের খড়গ

ঘটনাটি ঘটে রাত ৮টার দিকে কালিহাতী উপজেলার ধলাটেঙ্গর এলাকায়। গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর থেকে একটি বাস ভাড়া করে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের পথে রওনা হয়েছিলেন একদল পোশাকশ্রমিক। যাদের প্রায় সবাই কর্মরত ছিলেন মির্জাপুরের গোড়াই এলাকার একটি পোশাক কারখানায়। কিন্তু ধলাটেঙ্গর পৌঁছাতেই বাসটির জ্বালানি তেল শেষ হয়ে যায়। চালক ও সহকারী তেল সংগ্রহের জন্য যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দিয়ে পাম্পে চলে যান।

দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার ক্লান্তি কাটাতে এবং খোলা বাতাসের আশায় কয়েকজন যাত্রী পাশের রেললাইনে গিয়ে বসেন। তারা ঘুণাক্ষরেও বুঝে উঠতে পারেননি যে, ‘জমদূত’ হয়ে ধেয়ে আসছে ‘সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস’। রাতের অন্ধকারে ট্রেনের গতিবেগ বুঝতে না পেরে মুহূর্তের মধ্যেই ট্রেনের নিচে কাটা পড়েন পাঁচজন। ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় পাঁচটি শরীর। রেলওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অন্ধকারে রেললাইনে বসে থাকাই এই দুর্ঘটনার মূল কারণ।

একই পরিবারের তিনজনসহ গ্রামের পাঁচজন মানুষকে হারিয়ে এখনো শোকাচ্ছন্ন নিজপাড়া গ্রাম। এই দুর্ঘটনা আবারও চোখে আঙুল তুলে দেখিয়ে দিল রেলপথের নিরাপত্তাহীনতাকে। বাসের জ্বালানি মাঝপথে ফুরিয়ে যাওয়া পরিবহন মালিকপক্ষের চরম অব্যবস্থাপনার প্রমাণ। অন্যদিকে, রেললাইনের পাশে অনিরাপদভাবে অবস্থান করা যাত্রীদের অসতর্কতাকেও দায়ী করছেন অনেকে। তবে কারণ যাই হোক, অভাবের তাড়নায় জীবিকার খোঁজে গ্রাম ছেড়ে শহরে ছোটা এই মানুষগুলোর জীবনের মূল্য শেষ পর্যন্ত ঝরল রেলের ট্র্যাকে। যে মানুষগুলো রঙিন স্বপ্নের আশায় কর্মস্থলে ফিরছিলেন, তারা একদিন পার হতে না হতেই নিজপাড়া গ্রামের বাড়িতে ফিরলেন সাদা কাফনে মোড়ানো নিথর দেহ হয়ে।

শুধু এই একটি দুর্ঘটনাই নয়, অসতর্কতায় রেলপথে মানুষ বা কোনো যানের উঠে পড়ার পর এমন প্রাণহানির খবর মেলে হরহামেশাই। যাতে একসঙ্গে হারাতে হচ্ছে এরচেয়ে আরও বেশি প্রাণ। কালিহাতীর ঘটনার কয়েক দিন আগেই ঈদুল ফিতরের দিন ২১ মার্চ রাতে কুমিল্লায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার লেভেলক্রসিংয়ে ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা লাগে বাসের। ট্রেনটি ইঞ্জিনের মুখে করে বাসটিকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে থামে প্রায় ৭০০ মিটার দূরে। এতে বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে প্রাণ হারান তিন শিশুসহ ১২ জন। গুরুতর আহত হন বাসটির চালকসহ আরও অন্তত ১৫ জন। এ ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদনে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির চালকের অদক্ষতা ও বাস চালকের সঠিক সিদ্ধান্ত না থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ক্রসিংয়ে ওঠার আগে চালকের উচিত ছিল দুপাশ ভালোভাবে খেয়াল করা, সেটা তিনি করেননি। সেখানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে রয়েছে চার লেন রেলওয়ে ওভারপাস। বাসটি মূলত ওভারপাস দিয়ে চলাচলের কথা। চালক সেটি না করে নিচ দিয়ে যাওয়ায় এতগুলো মানুষের প্রাণ গেছে।

অথচ দেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী রেললাইনের দুপাশে ১০ ফুট করে ২০ ফুট এলাকায় দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই জারি থাকে ১৪৪ ধারা।

বাংলাদেশ রেলওয়ে আইনে রয়েছে, এই সীমানার ভেতর কাউকে পাওয়া গেলে তাকে আইনের ১০১ ধারায় গ্রেপ্তার করা যায়। এমনকি এই সীমানার ভেতরে গবাদিপশু চরলে আটক করে তা বিক্রি করে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ারও বিধান রয়েছে। কিন্তু এ আইন প্রতিনিয়তই ভঙ্গ করছেন পথচারীরা বা জনপদের বাসিন্দারা। বাস্তবতা হলো, এ আইনের কথা সাধারণ মানুষ তো দূর, সংশ্লিষ্ট অনেক কর্মকর্তাও যেন ভুলে বসে আছেন। যে কারণে নিত্যই ঘটছে রক্ত ঝরানো সব দুর্ঘটনা।

রেললাইনে বসছে বাজার, ঘেঁষে গড়ে উঠেছে বস্তি বা দোকানপাটের মতো অবৈধ নানান স্থাপনা, চলছে মানুষের আড্ডা। এমনকি দেশ জুড়ে রেলপথের দুপাশ ঘেঁষে গড়ে উঠেছে হাজারো বসতি। কানে ফোন গুঁজে কথা বলা কিংবা রেললাইন ধরে হেঁটে চলাও নিত্তনৈমিত্তিক ঘটনা। যে কারণে প্রায়ই সংবাদপত্রের পাতার শিরোনাম হয় ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যুর খবর। অনেকে আবার পথের দূরত্ব কমাতে সড়ক এড়িয়ে রেললাইনকে হাঁটার পথ হিসেবে ব্যবহার করছেন। লেভেলক্রসিংসহ বিভিন্ন এলাকায় রেললাইনের ওপরে বসে খোশগল্প করার দৃশ্যও মেলে অহরহ। আবার কোথাওবা স্টেশন এলাকায় ওভারব্রিজ থাকলেও কেউ তা ব্যবহার করছেন না। কোনো ভাবনা-চিন্তা ছাড়াই নির্বিঘ্নে রেললাইনের ওপর দিয়েই গন্তব্যে যাচ্ছেন হাজারো মানুষ। রেললাইনে সর্বক্ষণ জারি থাকা ১৪৪ ধারা সম্পর্কে জানেনই না এসব পথচারী। রেললাইন ধরে চলাচল বা বসে থাকা যে নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ, এমন আইন সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা নেই তাদের। রেল কর্তৃপক্ষ বা রেলওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকেও সচেতনতা সৃষ্টিতে নেই দৃশ্যমান জোরালো পদক্ষেপ।

রেললাইনে ১৪৪ ধারা জারি থাকার বিষয়টি জোরালো প্রচারণার মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া জরুরি। শুধু নথিতেই আইন সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না, তার ন্যূনতম প্রয়োগও দরকার। এই ধারার হয় প্রয়োগ, না হয় বাতিল করা হোক। নিরাপদ ট্রেন চলাচলের পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব না হলে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ থেকে আরও দীর্ঘতরই হবে।

রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, ১৮৬১ সালের ৫ নম্বর আইনের ১২ নম্বর ধারা মোতাবেক রেললাইনের দুপাশে ১০ ফুট করে এলাকার মধ্যে রেলের কর্মী ছাড়া সাধারণ মানুষ কিংবা গবাদিপশুর প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই জায়গাটুকুর মধ্যে সব সময়ই জারি থাকে ১৪৪ ধারা। যার ভেতর পাওয়া গেলে আইনের ১০১ ধারায় যে কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়। কিন্তু রেলওয়ে পুলিশ এ আইন প্রয়োগ করেছে, এমন নজির খুঁজে পাওয়া ভার।

লেভেলক্রসিংয়ে কোনো যানের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষের বিষয়ে রেল কর্তাদের ভাষ্য হলো, রেলে যে ব্যারিকেড বা গেট তারা দেন, তা দেওয়া হয় এ কারণে যে ট্র্যাক বা ট্রেনের কোনও ক্ষতি না হয় সেজন্য। ট্রেন ঠিকভাবে চলতে পারে, বাইরে থেকে কোনও কিছু ঢুকে পড়ে যেন রেলপথ বা ট্রেনের ক্ষতি করতে না পারে। ট্রেন যদি নিজের ট্র্যাক রেখে অন্যের বাড়িতে ঢুকে পড়ে তাহলে সেটা ট্রেন দুর্ঘটনা। তার দায়িত্ব রেল নেবে। কিন্তু কোনো যান যদি রেলপথে ঢুকে পড়ে ধাক্কা লাগায় তার দায়িত্ব রেলওয়ের না।

ক্ষতিগ্রস্তদেরই জরিমানা কিংবা দণ্ড

‘থামুন। দেখুন। শুনুন। চলুন।’ - কোনো রেলপথ পার হওয়ার সময় বৈধ লেভেলক্রসিংয়ে চোখে পড়ে টিনের ওপর রঙ দিয়ে লেখা ত্রিকোণ আকৃতির এমন নির্দেশনাফলক। কেবল এই নির্দেশনাফলক ঝুলিয়েই রেলওয়ে তার দায়িত্ব সারছে।

১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থেকে কুষ্টিয়ার জগতি পর্যন্ত চলাচল শুরুর মাধ্যমে বর্তমান বাংলাদেশ অংশে চালু হয় রেলসেবা। তার আগে একই বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে নামে একটি কোম্পানির অধীনে কলকাতা থেকে রানাঘাট পর্যন্ত ট্রেন চলাচলের শুরু। ওই লাইনটি কুষ্টিয়ার জগতি পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হয়েছিল। এরপর ১৮৮৪ সালের ১ জুলাই তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার কোম্পানি নিয়ন্ত্রিত ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়েকে সরকারি নিয়ন্ত্রণে এনে নতুন নাম দেয় ‘ইস্টার্ন বেঙ্গল স্টেট রেলওয়ে’। তারপর ১৮৯০ সালে প্রণীত হয় রেলওয়ে আইন। সেই আইন অনুযায়ী রেলপথ ও এর দুপাশে ১০ ফুট করে ২০ ফুট এলাকায় বছরের ৩৬৫ দিনই দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা জারি থাকে ১৪৪ ধারা। ট্রেন চলাচল শুরুর দিন থেকে সংশ্লিষ্ট রেলপথ পরিত্যক্ত ঘোষণা না করা পর্যন্ত জারি থাকবে এই ১৪৪ ধারা।

অন্যদিকে ২০২১ সালে সংশোধিত রেলওয়ে আইনের ১২১ ধারায় উল্লেখ রয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি স্কোয়াটিং বা পিকেটিংয়ের মাধ্যমে বা রেলপথের ওপর কোনো কিছু রেখে বা টেম্পারিং বা বিচ্ছিন্ন করে বা অন্য কোনোভাবে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে কোনো ট্রেন বা রেলপথে চলাচলকারী কোনো রোলিং স্টক চলাচলে বাধার সৃষ্টি করেন, করান বা করার চেষ্টা করেন তাহলে তিনি অনূর্ধ্ব ছয় মাসের কারাদণ্ড বা অনধিক ১০০০ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

একই আইন বলছে, রেলপথে কোনো ব্যক্তি, কারও গবাদিপশু, যানবাহন বা কোনো কিছু কাটা পড়লে, মারা গেলে কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হলে রেল কর্তৃপক্ষ নয়, বর উল্টো ক্ষতিগ্রস্তদেরই জরিমানা গুনতে কিংবা দণ্ড ভোগ করতে হয়।

এমনকি বিদ্যমান এই আইন অনুযায়ী রেলে কাটা পড়ে কারও মৃত্যু হলে তাকে নিহত বলা যাবে না কোনোভাবেই। আইনের দৃষ্টিতে কেউ হত্যার শিকার হলে তবেই বলা যাবে নিহত। আইনজ্ঞদের মতে, রেললাইনে কাটা পড়ে নিহতের ঘটনার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমে যে ‘ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত’, ‘ট্রেন-বাস সংঘর্ষে নিহত’ কিংবা ‘বাসে ট্রেনের ধাক্কা’র মতো যেসব শিরোনাম আসে তা প্রকৃতপক্ষে ভুল ব্যাখা। কারণ ট্রেন-বাস সংঘর্ষ হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না, অবার ট্রেন কোনো ব্যক্তি ব যানকে ধাক্কা দেয় না। কারণ ট্রেন চলে আইন দ্বারা বিধিবদ্ধ তার নিজস্ব ট্র্যাকে। বরং কোনো ব্যক্তি, প্রাণী বা যান আইন ভেঙে রেললাইনে উঠে পড়ে। আর এর দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা যে যান রেলপথে উঠে পড়ে তার মালিক বা পরিচালনা কর্তৃপক্ষের।
এখন প্রশ্ন হলো- আইনি রক্ষাকবচের সুযোগই কি তবে নিচ্ছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ? এই যে কোনো দায় নেই, আইনের সেই বিধানেরই কি অপব্যবহার করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। কারণ দায় না থাকায় কোনো দুর্ঘটনায়, তা সে দেশ জুড়ে আলোড়ন তোলাই হোক না কেন, রেলওয়ে কিংবা সংশ্লিষ্ট রেল কর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয় না। হয় না কোনো জরিমানাও। আর জননিরাপত্তা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে তাদের উদাসীনতাও যেন ‘বৈধতা’পেয়ে যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে আগামীর সময়ের কথা হয় বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমানের সঙ্গে। তিনি জানালেন, ১৯৪৩ সালের মোটর ভেহিকল আইন অনুযায়ী যেকোনো যানবাহনকে রেল ক্রসিং, তা খোলা হোক আর ব্যারিকেড বা গেটের ব্যবস্থা থাকুক পার হওয়ার সময় চালককে নিজ দায়িত্বে সতর্কভাবে দেখেশুনে পার হতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় যানটির চালকের।

রেলপথে কাটা পড়লে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে উল্টো ক্ষতিগ্রস্তদেরই জরিমানার বিধান প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বলেন, এমনটি হতে পারে। সংশ্লিষ্ট আইন আরও ভালোভাবে দেখে বিস্তারিত জানাতে পারবেন বলে উল্লেখ করেন এই রেল কর্মকর্তা।

তবে আইনে যাই থাকুন না কেন, সবার আগে মানুষের জীবন। পৃথিবীর সব সম্পদের বিনিময়েও একটি প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়া অসম্ভব। রেলক্রসিংয়ে ‘থামুন, দেখুন, শুনুন’—এই তিন শব্দের সাইনবোর্ড লাগিয়েই দায় সারলে চলবে না রেলওয়ের। ১৯ শতকের পুরনো আইনের দোহাই দিয়ে মৃত্যুর মিছিলকে আর দীর্ঘ হতে দেওয়া যায় না। প্রয়োজন জোরালো প্রচারণা। রেললাইনে চলাচল যে একটি অপরাধ এবং মৃত্যুঝুঁকি—সেই বার্তা পৌঁছে দিতে হবে প্রতিটি মানুষের কাছে। নিরাপদ ট্রেন চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারলে কালিহাতীর নিজপাড়া গ্রামের মতো আরও অনেক গ্রামকে বারবার ভারী হতে হবে স্বজনদের আহাজারিতে। জীবিকার খোঁজে গ্রাম ছেড়ে শহরে আসা আর কোনো মানুষকে যেনো সাদা কাফনে মোড়ানো নিথর দেহ হয়ে ফিরতে না হয় ফের সেই নিজ গ্রামেই। এই নিশ্চয়তাটুকু নিশ্চয়ই বহু না পাওয়ার ভিড়েও পাওয়ার অধিকার দেশের আমজনতার।

    শেয়ার করুন: