আগামীর সময়

ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার বাংলাদেশিদের ফেরানো হবে : শামা ওবায়েদ

ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার বাংলাদেশিদের ফেরানো হবে : শামা ওবায়েদ

সংগৃহীত ছবি

গ্রিসে অভিবাসনের প্রত্যাশায় সাগর পাড়ি দিতে যাওয়া ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যুর দায়ভার মানবপাচারকারি চক্রের। দেশে ও প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আইনে তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এ মন্তব্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের। 

ভূমধ্যসাগর থেকে জীবিত উদ্ধার বাংলাদেশিদের ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানালেন তিনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রবিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

শনিবারের ওই ঘটনায় নৌকায় থাকা অন্তত ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ১৮ জন বাংলাদেশি এবং তাদের ১০ জনের বাড়ি সুনামগঞ্জে। 

‘আমরা আমাদের মিশন থেকে যে তথ্যটা পেয়েছি, তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। বেসিক্যালি এই যারা স্মাগলিংটা করে তারা লিবিয়ারও আছে এবং বাংলাদেশেও আছে। আমরা ধারণা করছি, এটা একটা চক্র, যারা সব সময় বিভিন্ন দেশে নাগরিকদের বিপদে ফেলে, তাদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে টাকা-পয়সা দিয়ে তারা নিয়ে যায়।’

ওই নৌকা থেকে জীবিত উদ্ধার যাত্রীদের মধ্যেও অনেক বাংলাদেশি আছেন বলে জানালেন প্রতিমন্ত্রী। 

‘আমরা এখনও বিস্তারিত জানি না। তাদের উদ্ধার করে কিছু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং কিছু তাদের একটা ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। এখন আমাদের দূতাবাস তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করে জানার চেষ্টা করেছে। এখন তারা একটা প্রসেসের মধ্যে ঢুকে গেছে।’

জীবিতদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

‘এখন আমাদের মেইনলি আমাদের এখন ফার্স্ট কাজ হচ্ছে যে বাংলাদেশি আমাদের যারা ওখানে তারা জীবনটা বেঁচে গেছে তাদের অবস্থা কী, তারা ক্যাম্পে কী অবস্থায় আছে তাদের আইডেন্টিফিকেশনটা আমাদের দরকার। প্রথমত আমাদের জানতে হবে যে প্রতিটা আইডেন্টিফিকেশন কারেক্ট নাকি এবং সেটা সত্য নাকি। জানার পরে ক্যাম্পে তাদের ফিরিয়ে আনার। নেক্সট স্টেপ হচ্ছে তাদের ফিরিয়ে আনার।‘

‘এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। এটা থেকে আমাদের প্রতীয়মান হয় যে আমরা কত ভালনারেবল অবস্থায় আছি’- মন্তব্য শামা ওবায়েদের।

‘তারা হয়ত ভেবেছিল এক দিন-দুই দিনে তারা সাগর পার হয়ে যাবে, কিন্তু লেগেছে ছয় থেকে সাত দিন এবং ছয় থেকে সাত দিনের খাবার তাদের সঙ্গে ছিল না, পানি ছিল না, কিছুই ছিল না। অমানবিক অবস্থায় কিছু ওখানে লোকজন জাহাজ যারা মারা গিয়েছিল তাদের ফেলে দেওয়া হয়েছে পানিতে।’

এ সময় মানবপাচার চক্রকে শনাক্তে কঠোর অবস্থানের কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

‘এই যে স্মাগলাররা, তাদের একটা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এখানে হওয়া উচিত এবং মন্ত্রণালয়কে আমি আজকে সকালে বললাম যে এটা আইডেন্টিফাই করা যায় কীভাবে, কারা এটা করছে। এখানে লিবিয়ার লোকজনও আছে, বাংলাদেশের লোকজনও আছে। এটা আইডেন্টিফাই করে তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে... সেটা আন্তর্জাতিক আইনের শাস্তি হোক বা বাংলাদেশি আইনে।’

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে এই তদন্তে কাজ করছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রীর মত- ‘এটা আমি মনে করি লং টার্ম সলিউশন হচ্ছে যে এটা কীভাবে বন্ধ করা যায়, সেটার একটা উপায় আমাদের অবশ্যই বের করতে হবে। কারণ এটা হতে দেওয়া যায় না। এটা কোনোভাবেই সভ্যতার কোনো ডেফিনিশনের মধ্যে এটা পড়ে না।’

    শেয়ার করুন: