আগামীর সময়

দুনিয়াজুড়ে বাড়তে পারে পরমাণু অস্ত্রের মালিক হওয়ার প্রতিযোগিতা

দুনিয়াজুড়ে বাড়তে পারে পরমাণু অস্ত্রের মালিক হওয়ার প্রতিযোগিতা

প্রতীকী ছবি

ইরান পরমাণু অস্ত্রের মালিক হলে কি আমেরিকা-ইসরায়েল দেশটিতে হামলা করার সাহস পেত— কান পাতলেই সর্বত্র এই প্রশ্ন শোনা যাচ্ছে। এই প্রশ্নের উত্তরও মিলছে সহসা। আর তা হচ্ছে, ভুলেও ইরানে হামলা করত না আমেরিকা-ইসরায়েল।

অর্থাৎ এই পারমাণবিক অস্ত্র যে, দেশের সার্বভৌমত্বের রক্ষাকবচ তা আবার দুনিয়াজুড়ে পরিষ্কার হয়ে গেল। এই ‘সত্য’ বা ‘বাস্তবতা’ যখন ছড়িয়ে পড়ছে, তখন আশঙ্কার বিষয় হলো— বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পরমাণু অস্ত্র হাতে পাওয়ার এক নির্লজ্জ প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যেতে পারে।

সেই কথাটাই শোনা গেছে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের মুখে। মঙ্গলবার তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানের বিরুদ্ধে শুরু করা যুদ্ধের ফলে ইরান এবং তার আরব প্রতিবেশী উভয়কেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের জন্য উৎসাহিত করতে পারে।

এর কারণ হিসেবে একটি তিক্ত সত্য সামনে এনেছেন ল্যাভরভ। তা হচ্ছে— আমেরিকা তাদের উপর আক্রমণ করে না যাদের পারমাণবিক বোমা আছে।

তার বক্তব্যের প্রাসঙ্গিকতা খুঁজতে গিয়ে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে দেশটির পরমাণু অস্ত্র ধ্বংস নিয়ে বৈঠকে বসেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও পারমাণবিক ছাড়ের বিষয়ে সমঝোতা না হওয়ায় আলোচনাগুলো ভেস্তে যায়।

আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পরও উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক কোনো পদক্ষেপ নেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। অর্থাৎ পরমাণু অস্ত্র পিয়ংইয়ংকে যুক্তরাষ্ট্রের হাত থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছে।

অন্যদিকে ঠিকই ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর একমাত্র কারণ তেহরানের হাতে ‘মহামূল্যবান’ এই অস্ত্রটি না থাকা। ইরান যদিও বারবার বলেছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহার করা হয় এবং তারা অস্ত্র তৈরিতে ইচ্ছুক নয়। তবু আমেরিকা-ইসরায়েল দেশটিতে হামলা চালিয়েছে।

এই পরিস্থিতি চোখে আঙুল দিয়ে একটা বিষয় স্পষ্ট করে, তা হচ্ছে—পরমাণু অস্ত্র হলেই পরাশক্তির আগ্রাসন থেকে রক্ষা মিলবে।

এই অবস্থায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ পরাশক্তিগুলোর হামলার হাত থেকে নিজেদের রক্ষায় পরমাণু অস্ত্রের প্রতিযোগিতায় মেতে উঠতে পারে।

বর্তমানে পরমাণু অস্ত্রের মালিক দেশগুলোসহ বিশ্বের ৩০টির বেশি দেশ পরমাণু প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে। এসবের যে কোনো দেশ পরমাণু অস্ত্র তৈরির দিকে ঝুঁকতে পারে। এর বাইরেও কোনো কোনো দেশ নতুন করে যুক্ত হতে পারে এই প্রতিযোগিতায়।

সম্ভাব্য কয়েকটি দেশের কথা ধরা হলে তার মধ্যে থাকবে— সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ইত্যাদি।

এরমধ্যে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সুপার পাওয়ার হওয়ার দৌঁড়ে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। কারণ ইরানের সঙ্গে রয়েছে তাদের শত্রুতা। ফলে দেশ দুটি নিজেদের নিরাপত্তার জন্য পরমাণু অস্ত্রের মালিক হতে চাইতে পারে।

নানা রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে থাকা তুরস্কও ইসরায়েল, রাশিয়া এবং পশ্চিমাদের হাত থেকে নিজেদের নিরাপদ রাখতে পরমাণু অস্ত্রকে করতে পারে পাখির চোখ।

অন্যদিকে চীন ও উত্তর কোরিয়ার আকস্মিক হামলা থেকে বাঁচতে পরমাণু অস্ত্রের মালিক হতে চাইতে পারে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া।

কারণ দেশগুলো দেখছে, দেশের সার্বভৌমত্বের রক্ষায় নিজেদের কাছে পরমাণু অস্ত্র রাখার কোনো বিকল্প নেই।

বি.দ্র. বর্তমানে পরমাণু অস্ত্রের মালিক নয়টি দেশ। পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটি অনুযায়ী পাঁচ দেশ পারমাণবিক অস্ত্রধারী হিসেবে স্বীকৃত।


    শেয়ার করুন: