আগামীর সময়

ইরান যুদ্ধে মোহাম্মদ বিন সালমানের ভয় কোথায়?

ইরান যুদ্ধে মোহাম্মদ বিন সালমানের ভয় কোথায়?

সংগৃহীত ছবি

ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই একগুচ্ছ দেশ মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েলসহ সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইন— পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থান লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। একইসঙ্গে ইরাক, ওমান এবং জর্ডানেও আঘাত হেনেছে। অন্যদিকে ইসরায়েল লেবাননে বিমান হামলার পাশাপশি স্থলবাহিনী পাঠিয়েছে। কারণ তারা তেহরান ঘনিষ্ঠ হিজবুল্লাহকে নির্মূল করতে চায়।

এবারের মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত আগের ১২ দিনের যুদ্ধের চেয়ে ভিন্ন। এই যুদ্ধে সৌদিতে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনায় আঘাত হেনেছে ইরান। তাতে সংকট আগের চেয়ে তীব্র হয়েছে। এমনকি আরামকোর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘাতে দেশটির যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালামান বা  এমবিএসের ভয়টা ঠিক কোথায়?

এ বিষয়ে ব্লুমবার্গে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির নিয়ার ইস্টার্ন স্টাডিজের অধ্যাপক বার্নার্ড হায়কেল। তার আসন্ন ‘দ্য রিয়েলম: এমবিএস অ্যান্ড দ্য ট্রান্সফরমেশন অব সৌদি অ্যারাবিয়া' বইতে সমসাময়িক সৌদি আরব ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে নিয়ে লিখেছেন। লেবাননে জন্ম নেওয়া হায়কেলের মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে ব্যক্তিগত সংযোগও রয়েছে।

‘হামলা দেখে আমি অবাক হইনি। শুধু অবাক হয়েছি এটি কত দ্রুত ঘটল। কারণ ইরানিরা তখনও মার্কিন সমকক্ষদের সঙ্গে আলোচনা করছিল,’ বর্ণনা করছিলেন হায়কেল।

উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের মধ্যে (বিশেষ করে সৌদি যুবরাজ) এমন কথা প্রচলিত ছিল যে ইসরায়েল আজ হোক বা কাল আক্রমণ করবেই। তারা গত জুনে ইরানের বেশিরভাগ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অকেজো করে দিয়েছিল। এটি ছিল পুরো সিস্টেম ধ্বংস ও শাসনব্যবস্থা উৎখাতের সুযোগ।

তবে হামলার সময় নির্ধারণ ও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করলেন এই বিশ্লেষক। ‘আমার মনে হয় আক্রমণ করার সিদ্ধান্তটি প্রাথমিকভাবে ইসরায়েলিদের ছিল।’

এই বিশ্লেষক মনে করেন তেহরানের কাছে থাকা দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো গত জুনের ১২ দিনের যুদ্ধে মারাত্মকভাবে ধ্বংস হয়েছে। সম্প্রতি হামলা চালাতে ওরা যেগুলো ব্যবহার করেছে তা অক্ষত থাকা স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের বিশাল ভাণ্ডার।

হায়কেল এই যুদ্ধকে ইসলাম ও ইতিহাসের লেন্স দিয়ে ব্যাখ্যা করতেই স্বাচ্ছন্দবোধ করেন। তার মতে আধুনিক রাষ্ট্র ও ধর্মীয় আদর্শের সংস্কৃতির ভিত্তিতেই এই সংঘাত।

‘আমি মধ্যপ্রাচ্যকে দুটি গোষ্ঠী বা দুটি আদর্শে বিভক্ত দেখি। বিশ্বকে দেখার দুটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি। একদিকে আপনার কাছে আছে 'স্ট্যাটাস কো' বা স্থিতাবস্থা বজায় রাখা শক্তি; যারা মূলত তাদের দেশের উন্নয়ন চায়। তারা অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার জন্য শান্তি ও স্থিতিশীলতা চায়। এর মধ্যে রয়েছে সৌদি, মিসর, জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।’

আরেকটি গ্রুপ আছে যারা 'রিভিশনিস্ট' বা সংশোধনবাদী। তারা মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র নতুন করে আঁকতে চায়। তারা ক্ষমতার গতি পরিবর্তন করতে চায়। আশ্চর্যজনকভাবে এর মধ্যে ইরান ও ইসরায়েলি কট্টর ডানপন্থী— উভয়ই অন্তর্ভুক্ত, যোগ করেন হায়কেল।

ইরানিরা চায় ইসরায়েলের ধ্বংস। সেইসাথে যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক প্রভাব থেকে বিতাড়িত করতে চায়। ইসরায়েলের ডানপন্থীরাও তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক এজেন্ডা অনুযায়ী মধ্যপ্রাচ্যকে নতুন করে সাজাতে চায়। ইসরায়েলিরা ঠিক তাই করার চেষ্টা করছে। ইরানি শাসনব্যবস্থা ধ্বংস করা এবং সেখানে অন্য কিছু প্রতিস্থাপন করা অথবা বিশৃঙ্খলা তৈরি করা। মূল ভয়টা এখানেই।

কোনোভাবে যদি ৯ কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার ইরানকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করা হয় তবে তা প্রতিবেশীদের জন্য বিপর্যয়কর পরিস্থিতির জন্ম দেবে, আশঙ্কার কথা জানালেন হায়কেল।

তবে ইরানকে আধুনিক রাষ্ট্র বলেই আখ্যা দিয়েছেন হায়কেল। ‘যেহেতু এর প্রধান একজন আলেম তাই এটি একটি ধর্মতন্ত্র। কিন্তু আপনি যদি ইরানের আদর্শ বা স্টেটের দিকে তাকান, তবে দেখবেন এটি বিভিন্ন ধারার সংমিশ্রণ। এখানে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতা রয়েছে। উপনিবেশবাদ বিরোধিতা আছে। এগুলো আধুনিক মতাদর্শ। এখানে সামাজিক ন্যায়বিচার, কমিউনিজম ও মার্ক্সবাদ থেকে আসা ধারণাগুলো আছে। সেগুলোও আধুনিক। তবে এর পাশাপাশি মধ্যযুগীয় ধর্মতত্ত্বের উপাদানও রয়েছে যা আধুনিক মোড়কে প্যাকেজ করা হয়েছে।’

‘এখানে ইরানি জাতীয়তাবাদও রয়েছে যা আবারও একটি আধুনিক মতাদর্শ, প্রাচীন কোনো বিষয় নয়। সুতরাং ইরানে আপনি যা পাচ্ছেন তা হলো আদর্শগতভাবে একটি সংকর বা হাইব্রিড শাসনব্যবস্থা,’ এগিয়ে গেলেন তিনি।

বর্তমানের এই ব্যবস্থাটি সেই ইসলামী বিপ্লব থেকে শুরু হয়েছে যা ইরানের শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভীকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল। এর আগে ১৯৫৩ সালে তেল শিল্পের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার প্রচেষ্টায় সিআইএ এবং ব্রিটেনের এমআই৬ দ্বারা পরিচালিত একটি অভ্যুত্থানে ইরানের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এখন সাবেক শাহের ছেলে রেজা পাহলভীকে কিছু ইরানি শাসন-পরবর্তী সম্ভাব্য নেতা হিসেবে দেখছেন।

বেশিরভাগ মানুষ ভাবছেন হয় ইরানি শাসনব্যবস্থা টিকে যাবে অথবা যদি তা না টেকে, তবে আরও ভালো কিছু আসবে। এই আশঙ্কাও আছে যে রাষ্ট্রটি ব্যর্থ হতে পারে এবং সেখানে কেবল বিরাজ করতে পারে নৈরাজ্য।

এখানে তিনটি সম্ভাবনা দেখছেন হায়কেল। শাসনব্যবস্থা বর্তমানের মতো টিকে থেকে আরও সংশোধনবাদী হওয়ার সংকল্প করবে, ভেনেজুয়েলা-ধাঁচে শাসনব্যবস্থা থেকে যাবে, কিন্তু নেতৃত্বে নতুন কেউ আসবে যারা কম বিপ্লবী এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে সমঝোতা করতে ইচ্ছুক হবে। অথবা শাসনব্যবস্থার পতন। পতন ঘটলে গৃহযুদ্ধ হতে পারে বলে আশঙ্কা হায়কেলের।

নৃতাত্ত্বিকভাবে ইরানিদের মধ্যে মাত্র ৫০ শতাংশ ফারসি। সেখানে অন্যান্য নৃগোষ্ঠীও রয়েছে— বেলুচ, কুর্দি, আজেরি ও আরব। বাইরের শক্তিগুলো তাদের অস্ত্র সরবরাহ করতে পারে। ফলে অত্যন্ত বিশৃঙ্খল ও দুর্বল কেন্দ্রীয় রাষ্ট্র হতে পারে। তবে সেটি ইরান ও এই অঞ্চলের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে। ইরান একটি বিশাল দেশ এবং এর জনসংখ্যা অত্যন্ত মেধাবী। দেশটিতে তেল ও গ্যাসের বিশাল সম্পদ রয়েছে। ইরানে লিবিয়া-ধাঁচের যুদ্ধ দেখা হবে অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক।

তবে এই শাসন ব্যবস্থা টিকে যাওয়ার পক্ষেই বাজি হায়কেলের। ‘এটি অত্যন্ত কঠোর একটি ব্যবস্থা যাদের পক্ষে এখনও অন্তত ২০ শতাংশ জনগণের সমর্থন রয়েছে এবং ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য তারা হত্যা করতেও দ্বিধা করবে না। গত জানুয়ারিতে হওয়া বিক্ষোভের প্রতিক্রিয়ায় আমরা এটি দেখেছি।’

ইরানি সমাজে এই শাসনব্যবস্থার শেকড় অনেক গভীরে। সব সমস্যা থাকা সত্ত্বেও তারা স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা বা মৌলিক অবকাঠামোর মতো পরিষেবাগুলো জনগণের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।

আসন্ন বইতে হায়কেল সৌদি আরবের পুরো বিষয় ও যুবরাজ সম্পর্কে বিশদ লিখেছেন। বিশেষ করে ‘ভিশন ২০৩০’ যেখানে দেশটিকে বিনিয়োগকারী এবং পর্যটকদের জন্য একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল ও আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সম্পত্তি মালিকানা ও মদ্যপানের আইন শিথিল করা এবং দেশের শেয়ারবাজারে উদারীকরণের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

‘আমি গত দুই বা তিন বছর ধরে নির্দিষ্টভাবে এই ইস্যুটি নিয়ে মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ও দ্ব্যর্থহীনভাবে জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চান না। তিনি চান না ইসরায়েল তেহরানে আক্রমণ করুক। তিনি এই উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করেছেন। এর প্রমাণ ২০২৩ সালের মার্চ মাসে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা চুক্তিতে, যার মাধ্যমে সৌদি ও ইরানের মধ্যে পুনরায় দূতাবাস চালু হয়েছে,’ জানালেন হায়কেল।

১৯৭৯ সাল থেকে রিয়াদের শাসকদের ভর্ৎসনা করে আসছে তেহরান। তাদের পশ্চিমের 'অবৈধ পুতুল' হিসেবেও দেখে ইসলামিক রিপাবলিক। আয়াতুল্লাহ খোমেনি সৌদি রাজপরিবারের নাম নেওয়ার সময় অত্যন্ত আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করতেন। তাদের তিনি ‘নজদের উট চড়ানো রাখাল’ বলতেন (নজদ হলো সৌদির একটি কেন্দ্রীয় প্রদেশ)। অর্থাৎ তাদের ইতিহাসের পরতে পরতে চরম উত্তেজনা।

এমবিএস বুঝতে পারেন যে, ইরানের কাছে স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের এমন এক ভাণ্ডার রয়েছে যা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করতে সক্ষম। কেবল তার তেল স্থাপনাতেই নয়, বরং পানিশোধন প্ল্যান্ট, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায়। ইরানিরা যদি সৌদির বিরুদ্ধে ‘ঝাঁক বেঁধে’ আক্রমণ শুরু করে, তবে তা ঠেকানোর কোনো কার্যকর উপায় তার কাছে নেই।

হায়কেল জানালেন, আমরা ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে এটি দেখেছি যখন ইরানিরা তাদের অগ্নিনির্বাপক শক্তির এক প্রদর্শনী হিসেবে সৌদি আরবের 'আবকাইক' নামক একটি প্রধান তেল স্থাপনায় হামলা চালায়। এতে স্থাপনাটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাতে মোট উৎপাদনের ৫০ শতাংশ বন্ধ হয়ে যায়।

তাই ইরান কী করতে পারে সে সম্পর্কে এমবিএস অত্যন্ত সতর্ক। তিনি এই যুদ্ধটি চাননি বলেই মত হায়কেলের। তিনি ওয়াশিংটন পোস্টের ‘এমবিএস ইরানে হামলা সমর্থন করছেন’ শিরোনামে প্রকাশিত নিবন্ধটিও সত্যি নয় বলে দাবি করেছেন।

ট্রাম্পকে বেশ কয়েকবার ফোন করেছিলেন এমবিএস। তবে ফোনে তিনি মূলত আক্রমণ না করার অনুরোধই জানিয়েছিলেন বলে দাবি হায়কেলের। ‘এ কথা সত্য যে তিনি (এমবিএস) সতর্ক করেছিলেন। যদি ইরান তাকে আক্রমণ করে, তবে তাকে আত্মরক্ষা করতে হবে এবং ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালাতে হবে। আর আমি মনে করি ঠিক সেটিই ঘটার সম্ভাবনা বেশি। আপনি এখন এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল উভয়ের পক্ষেই সৌদি বিমান বাহিনীকে সম্পৃক্ত হতে দেখবেন।’

এমবিএস একজন জাতীয়তাবাদী নেতা। নিজের জনগণের কাছে তাকে প্রমাণ করতে হবে তিনি দেশকে রক্ষা করতে পারেন। কারণ হামলাগুলো বেসামরিক ও শিল্প লক্ষ্যবস্তুতে করা হয়েছে। তাকে তার প্রতিরোধ ক্ষমতা পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। আর এটি হবে এই যুদ্ধের আরও একটি বিস্তৃতি।

‘ইরানি শাসনব্যবস্থার প্রতি কোনো ভালোবাসা নেই সৌদি যুবরাজের। তবে তার প্রধান উদ্বেগ দুর্বল ইরান নয়। বরং এমন একটি ইরান যার কোনো রাষ্ট্র কাঠামো নেই বা একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র যা বিশৃঙ্খলা ও গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হবে,’ আশঙ্কা হায়কেলের।

‘এখানেই সৌদির মতো একটি দেশের দৃষ্টিভঙ্গি ইসরায়েলের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। আর আমি মনে করি এখানেই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইসরায়েলের চেয়ে সৌদির বেশি মিল রয়েছে। ইরানিদের প্রতিবেশী হিসেবে দেখে সৌদিরা। ইরানের বিশৃঙ্খলা সৌদিতেও ছড়িয়ে পড়বে। যেখানে ইসরায়েল ইরান থেকে এক হাজার কিলোমিটার দূরে এবং সেখানে কী ঘটছে তা নিয়ে তারা খুব একটা মাথা ঘামায় না। আমি মনে করি এমবিএস এখন ট্রাম্পকে যা বলবেন তা হলো: আমরা ইরানে বিশৃঙ্খলা চাই না,’ যোগ করলেন তিনি।

সৌদি আরব প্রায় রাতারাতি পৃথিবীর অন্যতম ধনী দেশে পরিণত হয় যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। সৌদি ও ট্রাম্প পরিবারের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক যুক্তরাষ্ট্রে নৈতিক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

হায়কেলের মতে, আরব শেখদের যুক্তরাষ্ট্রের আয়ের উৎস হিসেবে দেখেন ট্রাম্প। তিনি তাদের গুরুতর কৌশলগত মিত্র বা মার্কিন নীতির ওপর প্রভাব বিস্তারকারী হিসেবে দেখেন না। বরং মার্কিন শিল্প ও অর্থনীতির জন্য এক প্রকার 'ক্যাশ কাউ' (নগদ অর্থের উৎস) হিসেবে দেখেন।’

‘অত্যন্ত প্রভাবশালী এক সৌদি নাগরিক আমাকে বলেছিলেন, মার্কিনিরা যদি হোয়াইট হাউসে কোনো বানরকেও নির্বাচিত করে, আমাদের তাকেই পছন্দ করতে হবে। আর ওয়াশিংটনের প্রসঙ্গ আসলে যেকোনো সৌদি নেতার দৃষ্টিভঙ্গি হলো— প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখতেই হবে।’ ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পর্কে মোহাম্মদ বিন সালমান কী ভাবেন— প্রশ্নের জবাবে জানালেন হায়কেল।

এ কারণেই সৌদিরা সবসময়ই দাবি করে এসেছেন, রিয়াদে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত যেন প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত বন্ধু হন, যিনি সরাসরি ফোন তুলে তাকে কল করতে পারেন। তারা তাদের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল, তাদের বিনিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রে এবং তাদের সংস্কৃতিও মার্কিনমুখী।

‘প্রেসিডেন্ট বাইডেন তার শেষ বছরে সৌদিদের সঙ্গে সাত-আটটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছিলেন। সেই সময়ে অত্যন্ত শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। আমি মনে করি এমবিএস সেটির খুব প্রশংসা করেছিলেন,’ বলছিলেন হায়কেল।

এই অঞ্চলে যেকোনো বিশৃঙ্খলা, যেকোনো অস্থিতিশীলতা এমবিএসের ‘ভিশন ২০৩০’-এর জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে না। এ কারণেই তিনি সুদানের যুদ্ধ শেষ করতে আগ্রহী ছিলেন। তিনি ইয়েমেনে স্থিতিশীলতা দেখতেও আগ্রহী। তিনি গাজা যুদ্ধের অবসান চান। তার যে স্বপ্ন রয়েছে তা হলো মধ্যপ্রাচ্যকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আদলে একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত করা। এখানে রিয়াদ হবে কেন্দ্রবিন্দু যা এশিয়াকে আফ্রিকা ও ইউরোপের সঙ্গে নিজেকে সংযুক্ত করবে।

ইরান সংঘাতের কারণে সবকিছুই এখন ঝুঁকিতে। এ কারণেই যুবরাজ চাচ্ছেন এই যুদ্ধ দ্রুত শেষ হোক। অবশ্য এসব প্রকল্পের খরচ মেটানোর জন্য তিনি তেলের উচ্চমূল্যও চান। তেলের দাম সাময়িক বেড়েছে ঠিকই, তবে তা দীর্ঘস্থায়ী নয়।

ব্লুমবার্গ থেকে সংক্ষেপিত

    শেয়ার করুন: