মিরপুরে ডট বলের মহামারীতে বাংলাদেশ

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের ডট বল ১৬৬টি। ছবি: সংগৃহীত
ডট, ডট, ডট! এই ধুন্ধুমার ক্রিকেটের যুগেও ডট বলের চক্করে আটকা বাংলাদেশ। ওয়ানডেতে সেটি আরও বেশি। গামিনি ডি সিলভা কিউরেটর থাকার সময় মিরপুরের উইকেট ‘ধানক্ষেত’ করে রাখতেন রীতিমতো। ভালো উইকেটের জন্য আকুতি জানাতেন ক্রিকেটাররা।
২০২১ সালে সাকিব আল হাসান রাখঢাক না রেখেই বলেছিলেন, ‘এ রকম উইকেটে কোনো ব্যাটার ১০-১৫টা ম্যাচ খেললে তার ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাবে।’ গামিনি ডি সিলভার বিদায়ের পর টমি হেমিং এসে ভালো উইকেট তৈরি করলেও ডট বলের মহামারী কাটছে না বাংলাদেশের।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের পর বাংলাদেশ মিরপুরে প্রথম ওয়ানডে খেলে গত বছর অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে। তিন ম্যাচের সেই সিরিজের সব ম্যাচ হয়েছিল মিরপুরে। এ বছর মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষেও তিন ম্যাচের সিরিজ মিরপুরেই খেলেছে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেটাও খেলল একই ভেন্যুতে।
তিন সিরিজের সাত ম্যাচে মিরপুরে বাংলাদেশ ডট বল খেলেছে ৯৭৩টি! ইনিংসের অর্ধেকের বেশি ডট বলেই গেছে মেহেদী হাসান মিরাজদের। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২৯১ রানের ইনিংসে ডট বল ছিল ১৬৬টি।
এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচে বাংলাদেশের ডট বল ১৮৩, ১৯৩, ১৫৭টি! ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ৩০০ বলের ইনিংসে বাংলাদেশ ২৯৮ বল খেলেছিল। এর ১৮৩টি ছিল ডট বল। মানে রান করেছে মাত্র ১১৫ বল থেকে।
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সংখ্যাটা বাড়ে আরও ১০টি। শেষ ওয়ানডেতে ১৫৭ ডট বল খেললেও সেটা ইনিংসে ৫০ শতাংশের বেশি।
তুলনায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ডট বল কম ছিল বাংলাদেশের। তিন ম্যাচে সংখ্যাটা ৫৪, ৭৮ আর ১৪২টি। তবে প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান ১১৪ রানে অলআউট হওয়ায় বাংলাদেশ রান তাড়া করে জয় পায় ১৫.১ ওভারে। ৯১ বলের ইনিংসেও ডট ৫৪টি! মানে ৫০ শতাংশের বেশি।
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশ নিজেরাই অলআউট হয়েছিল ১১৪ রানে। ২৩.৩ ওভারের ইনিংসে ডট বল ৭৮টি। তুলনায় শেষ ম্যাচে ৫০ ওভার খেলে ডট বল ১৪২টি। এটা ৫০ শতাংশের কম।
এ নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের সময়ই আক্ষেপ করে তানজিদ হাসান তামিম বলেছিলেন, ‘এই জায়গাটা যদি আমরা একটু ডট বলগুলো কমাতে পারতাম, তাহলে হয়তো আমাদের চাপটা একটু কম হতো। কিন্তু হয় নাই। এটা আমাদের খুঁজে বের করতে হবে যে, কীভাবে ডট বল আরও কম করে খেলাটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। আমাদের খুঁজে বের করতে হবে, আমরা কীভাবে মাঝের ওভারগুলোতে আরও ডট বলের সংখ্যা কমিয়ে খেলাটাকে বড় করতে পারি।’
সেই খোঁজ এখনো চলছে। স্পোর্টিং উইকেট করেও লাভ হচ্ছে না কোনো। সংবাদ সম্মেলনে আসা সাইফ হাসানও মেনে নিলেনে সেটা, ‘পাকিস্তান সিরিজের উইকেট তো আপনারা দেখেছেন, ট্রু উইকেট ছিল। এখানেও উইকেট ভালো ছিল, এমন কোনো একদম খারাপ ছিল না। একটু চ্যালেঞ্জিং ছিল, তবে ওই অজুহাত দিয়ে আসলে বাঁচার কোনো উপায় নেই।’



