বিশ্বকাপ ফাইনাল
‘অপয়া’ আহমেদাবাদে ভারতের গম্ভীর দর্শন

আহমেদাবাদে হৃদয় ভেঙেছিল ভারতের। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোহিত শর্মার দলকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও আহমেদাবাদে দক্ষিণ আফ্রিকা হারিয়েছে সূর্যকুমার যাদবের দলকে। ‘অপয়া’ হয়ে ওঠা সেই ভেন্যুতে আজ ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি ভারত।
পরিসংখ্যান বলছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডকেও হারাতে পারেনি ভারত! শিরোপা জিততে আজ তাই ইতিহাস বদলাতে হবে। তাদের প্রেরণা হতে পারেন কোচ গৌতম গম্ভীর। ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালে ওয়াংখেড়ে ৯৭ রানের ইনিংসে ভারতের জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন তিনি। ঘরের মাঠে সেটাই সবশেষ বিশ্বকাপ জয় ভারতের।
গৌতম গম্ভীর কখনও ফাইনাল হারেননি। খেলোয়াড় হিসেবে ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে জিতেছিলেন ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এরপর আইিপিএল ফাইনাল জিতেছেন ২০১২, ২০১৪ ও ২০২৪ সালে। জিতেছেন ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ও এশিয়া কাপ ফাইনাল। তাই আজ বিশ্বকাপ ফাইনালেও গম্ভীর দর্শনেই আস্থা সূর্যকুমারের।
ফাইনালের আগে ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব তাই মজা করে বললেন ‘সুযোগ থাকলে তিনি নিজেই প্যাড পরে ব্যাটিংয়ে নামতেন। গম্ভীর এর আগেও ফাইনালে খেলেছেন আর বিশ্বকাপ জিতেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, কোনও প্রতিযোগিতাই একজন বা দুই জনের অবদানে জেতা যায় না। সবার কাছ থেকে সেরাটা বার করে আনতে চান তিনি। ব্যাটিং সবার বাড়তি মনোযোগই গম্ভীরের চাওয়া।”
সংবাদ সম্মেলনে সূর্যকুমার যাদব । ছবি: সংগৃহীত
ব্যক্তিগত মাইলফলক নয়, দল হিসেবেই খেলাটাকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছেন গম্ভীর। তাই কোচের প্রশংসায় সূর্যকুমার বললেন,‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, এই দলে ব্যক্তিগত মাইলফলকের ব্যাপারটা তুলে দিয়েছেন গম্ভীর। আমাদের সবার কাছে ক্রিকেট এখন দলগত খেলা।’
সূর্যকুমার আরও যোগ করলেন,‘আগের ম্যাচে তিলক ৭ বলে ১৮ রান করেছিল। আমরা সেটাকে পঞ্চাশ বা শতরানের মতোই মনে করি। এটাই এই ড্রেসিংরুমের সংস্কৃতি। গম্ভীরের কাছে দলের লক্ষ্যের চেয়ে বড় কিছু নেই। যদি উনি চান আমাদের প্রথম বলে ছয় মারা দরকার, তা হলে আমাদের সেটাই করতে হবে। যদি উনি চান স্বাভাবিক খেলার বদলে পরিস্থিতির কথা ভেবে খেলতে হবে, তা হলে সেটাই করতে হবে। এটাই তার দর্শন।’
ফাইনালে বিলিয়ন ভারতীয়র হৃদয় ভাঙার কথা বলেছিলেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। ২০২৩ বিশ্বকাপের আগে একই হুমকি দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। এ নিয়ে মজাই করলেন সূর্যকুমার,‘এখন তো দেখছি সবাই একই সুরে কথা বলছে। নকলও করছে। নতুন কিছু বল। তবে ওরা ভালো দল, আর আমরাও প্রস্তুত।’
ফাইনালের বাড়তি চাপ নিয়ে সূর্যকুমার বললেন,‘চাপ অবশ্যই থাকবে। এটা অস্বীকারের উপায় নেই। তবে চাপ না থাকলে মজাও নেই। আমরা বিষয়গুলো সহজ রাখতে চাই। যেভাবে এতদিন খেলেছি, সেই ধারাই বজায় রাখতে চাই। চাপ সামলানোর সবচেয়ে বড় উপায় হল শান্ত থাকা। আমরা শান্ত আছি।’

