কাবুলে হামলা: রশিদ-নবীদের তোপে পাকিস্তান

আফগানিস্তান-পাকিস্তানের সীমান্ত সংঘর্ষ চলছে গত দুই সপ্তাহ ধরে। সোমবারও দুই দেশের সীমান্তে চলেছে গুলি। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই, আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের এক হাসপাতালে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। হাসপাতাল ভবনটির একটি বড় অংশ এখন ধ্বংসস্তূপ। মারা গেছেন প্রায় ৪০০ জন, আহতও হয়েছেন ২৫০ জনের বেশি।
আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এ ঘটনাকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। পাকিস্তানেরর তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারাড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে অস্বীকার করেছেন এই অভিযোগ। তার দাবি হাসপাতালে নয়, কাবুল ও নানগারহার প্রদেশের সুনির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তু ও অস্ত্রাগারে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী।
মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে চালানো এই হামলায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন রশিদ খান, মোহাম্মদ নবী, আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের মতো আফগান ক্রিকেটাররা। রশিদ এক্সে হামলার কিছু ছবি দিয়ে লিখেছেন,‘পাকিস্তানের হামলায় আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষের মৃত্যুতে আমি স্তম্ভিত। সাধারণ মানুষের বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতালে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত যে কোনও হামলাই অপরাধ। রমজানের পবিত্র মাসে এ রকম হত্যালীলা খুবই আতঙ্কের।’
জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চেয়ে রশিদ লিখেছেন,‘জাতিসংঘ ও অন্য মানবাধিকার সংস্থার কাছে আমার অনুরোধ, হস্তক্ষেপ করুন। এই কঠিন সময়ে আফগান ভাইবোনদের পাশে আছি। আমরা নিশ্চয়ই এই কঠিন সময় কাটিয়ে উঠব।’
আফগান সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ নবী লিখেছেন,‘আশার মৃত্যু ঘটল কাবুলের হাসপাতালে । সন্তানের নাম ধরে মায়েরা চিৎকার করছিলেন। রমজানের ২৮তম দিনে তাঁদের জীবন চলে গেল।”
পাকিস্তানের এই হামলাকে ইসরায়েলি হামলার সঙ্গে তুলনা করে আফগান আরেক ক্রিকেটার নাভিন উল হক লিখেছেন,‘ইসরায়েল আর পাকিস্তানের সেনা শাসনের মধ্যে তাহলে আর কী পার্থক্য রইল।’

