রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে রিয়ালকে কাঁদিয়ে শেষ চারে বায়ার্ন

৭ গোলের থ্রিলার জিতল বায়ার্ন। ছবি: সংগৃহীত
ফুটবল সুন্দর। ফুটবল হাসায়, কাঁদায়ও। সেই সৌন্দর্য, কান্না, হাসি মিলে মিশে একাকার আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায়। দমবন্ধ করা সেই ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদকে ৪-৩ গোলে হারিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ।
এই জয়ে দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ অগ্রগামিতায় চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করল বায়ার্ন। শেষ চারে তারা খেলবে পিএসজির বিপক্ষে।
ফল
বায়ার্ন ৪ : ৩ রিয়াল
দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ অগ্রগামিতা বায়ার্নের
বায়ার্নের হয়ে একটি করে গোল পাভলোভিচ, হ্যারি কেইন, লুইস দিয়াস আর ওলিসের। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে জোড়া গোল আরদা গুলেরের। অপর গোলটি কিলিয়ান এমবাপ্পের।
কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে ২-১ ব্যবধানে হারা রিয়াল লড়াই করছিল শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে। তবে ৮৬ মিনিটে এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা লাল কার্ড দেখার পর বদলে যায় ম্যাচের ছবিটা।
তখন পর্যন্ত ম্যাচে রিয়াল এগিয়ে ছিল ৩-২ গোলে। দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৪ সমতা থাকায় মনে হচ্ছিল খেলা গড়াবে অতিরিক্ত সময়ে। কিন্তু কামাভিঙ্গার লার কার্ডের তিন মিনিট পরই বায়ার্ন সমতা ফেরায় ৩-৩’এ। ইনজুরি টাইমে আরও এক গোল করে বিদায় করে দেয় ১৫ বারের চ্যাম্পিয়নদের।
৬৮.৬ শতাংশ বলের দখল রেখে খেলে গোলের জন্য পোস্টে ২১টা শট নিয়েছিল বায়ার্ন। লক্ষ্যে ছিল ৯টি। রিয়ালের ১২ শটের ৫টি ছিল লক্ষ্যে।
প্রথম লেগে পিছিয়ে থাকায় মিউনিখে জিততেই হতো রিয়ালকে। সেই তাড়নায় ৩৫ সেকেন্ডেই গোল পেয়ে যায় তারা। গোলরক্ষক মানুয়েল নয়্যারের ভুল পাস থেকে গুলেরের বাঁ পায়ের অসাধারণ শটে এগিয়ে যায় রিয়াল।
বার্নাব্যুতে ম্যাচ সেরা হওয়া নয়্যার সতীর্থের ব্যাকপাস পেয়ে পোস্ট ছেড়ে এগিয়ে বল তুলে দেন গুলের পায়ে। তার বাঁকানো জড়ায় জালে। চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়ালের দ্রুততম গোল এটাই।
পাঁচ মিনিট পর রিয়াল গোলরক্ষক আন্দ্রে লুনিনের ভুলে সমতা ফেরায় বায়ার্ন। জসুয়া কিমিচের কর্নারে আলেকসান্দার পাভলোভিচের হেড জড়ায় জালে। উড়ে আসা বলের গতি বুঝতে পারেননি লুনিন।
২৯তম মিনিটে অসাধারণ ফ্রি–কিকে দ্বিতীয় গোল পেয়ে যান গুলের। ডি-বক্সের বাইরে ব্রাহিম দিয়াস ফাউলের শিকার হলে ফ্রি কিক পেয়েছিল রিয়াল। নয়্যার বলে হাত লাগালেও ঠেকাতে পারেননি সেটা।
৩৮তম মিনিটে উপামেকানোর পাস ডি-বক্সে ফাঁকায় পেয়ে কোনাকুনি শটে জালে জড়ান কেইন। এটা এই মৌসুমে তার ৫০তম গোল। অবিশ্বাস্য প্রথমার্ধে ৪২ মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় রিয়াল। ভিনিসিয়ুসের পাস ডি-বক্সে পেয়ে প্লেসিং শটে জালে জড়ান কিলিয়ান এমবাপ্পে। এর আগের মিনিটে ভিনিসিয়ুসের শট ফিরে এসেছিল ক্রসবারে লেগে।
৮৬তম মিনিটে ১০ জনের দলে পরিণত হয় রিয়াল। ব্রাহিম দিয়াসের বদলি হয়ে নামার ১০ মিনিটের মাথায় প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন কামাভিঙ্গা। এরপর কেইনকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন তিনি। ১০ জন নিয়ে শেষ দিকে আর পেরে উঠেনি রিয়াল।
৮৯তম মিনিটে দিয়াসের শটে একজনের পা ছুঁয়ে জড়ায় জালে। যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে ওলিসের গোলে শেষ হয় রুদ্ধশ্বাস থ্রিলার।



