‘ইরান নিশ্চিতভাবেই বিশ্বকাপ খেলবে’

ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ছবি: সংগৃহীত
পেন্টাগন আর তেহরানের মধ্যে যখন যুদ্ধের উত্তেজনা তুঙ্গে, তখন ফুটবল বিশ্বকে চমকপ্রদ খবর দিলেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি দাবি করলোন, ইরান জাতীয় ফুটবল দল ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে যাবে। গতকাল বুধবার সিএনবিসির ‘ইনভেস্ট ইন আমেরিকা’ ফোরামে ইনফান্তিনো জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক বৈরিতা থাকলেও ইরানের বিশ্বকাপ যাত্রা কেউ রুখতে পারবে না।
এবারের বিশ্বকাপে ইরান পড়েছে গ্রুপ ‘সি’-তে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ মিসর, নিউজিল্যান্ড ও বেলজিয়াম। সূচি অনুযায়ী, ইরানের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে যুদ্ধের প্রধান প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ও সিয়াটলে। সম্প্রতি ইরান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর ফুটবল বিশ্বে প্রশ্ন উঠেছিল, ইরান কি আদৌ মার্কিন ভিসায় দেশটিতে খেলতে যাবে?
এ প্রসঙ্গে ইনফান্তিনো বলেছেন, ‘ইরান দল নিশ্চিতভাবেই বিশ্বকাপে আসছে। হ্যাঁ, আমরা অবশ্যই আশা করি যে খেলা শুরুর আগেই পরিস্থিতি শান্ত ও শান্তিপূর্ণ হয়ে যাবে। তবে পরিস্থিতি যাই হোক, ইরানকে আসতেই হবে। তারা তাদের দেশের সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে। তারা লড়াই করে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে এবং খেলোয়াড়রা মাঠে নামার জন্য মুখিয়ে আছে।’
দুই সপ্তাহ আগে তুরস্কের আনতালিয়াতে ইরান দলের অনুশীলনে গিয়েছিলেন ইনফান্তিনো। সেই সফরের স্মৃতি টেনে তিনি বলেন, ‘আমি তাদের খেলা দেখেছি, তারা দুর্দান্ত একটি দল। তারা সত্যিই খেলতে চায় এবং তাদের সেই সুযোগ দেওয়া উচিত। খেলাধুলা এখন রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকা প্রয়োজন।’
ফুটবল ও রাজনীতিকে আলাদা করার দাবি বহুদিনের। কিন্তু পরাশক্তিগুলোর ক্ষমতা প্রদর্শনের কারণে বাস্তবে সেটা সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে ফিফা প্রধানের মন্তব্য ছিল বেশ দার্শনিক, ‘আমরা তো আর চাঁদে বাস করি না, আমরা এই পৃথিবীতেই থাকি। কিন্তু দেখুন, যদি আর কেউ দেশগুলোর মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতে বিশ্বাস না-ও করে, ফিফা সেই কাজটি করে যাবে। আমরা চাই ফুটবলের মাধ্যমে ভাঙা সম্পর্কগুলো যেন আবার জুড়ে যায়।’
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপে ইরানের নিরাপত্তা উদ্বেগ চরমে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যেই নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ইরানকে এই আসরে না আসার জন্য পরোক্ষভাবে নিরুৎসাহিত করেছেন। এমনকি ইরান সরকারের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন সময় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে না চাওয়ার মতো বক্তব্য এসেছে। অনেকেই প্রকাশ করেছেন নিরাপত্তার শঙ্কা।
এবার ফিফা সভাপতির এমন বার্তার পর ফুটবলপ্রেমীরা আশা করছেন, আসন্ন গ্রীষ্মে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই ইরানকে বিশ্বকাপ খেলতে দেখা যাবে। সেক্ষেত্রে ইরানের সমর্থক এবং সাংবাদিকরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাবেন কি না- সেটাও একটা বড় প্রশ্ন হয়ে আছে। তাই ইনফান্তিনোর এমন বক্তব্যের পরও অনেক বিশ্লেষকই আশাবাদী হতে পারছেন না।



