ভিনির ‘কান্না’ ও আরবেলোয়ার ছোঁয়ায় বদলে যাওয়া

বাচ্চাদের কান্নার ভঙ্গিতে ভিনিসিয়ুস। ছবি: সংগৃহীত
গোলের পর নাচ ছিল ভিনিসিয়ুসের ট্রেডমার্ক উদযাপন। সেই ভিনি এবার উল্লাসে না ভেসে ‘কান্না’ করলেন! ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ২-১ গোলে জেতা ম্যাচে রিয়ালের দুটি গোলই তার।
প্রথম গোলের পর মুখে আঙুল দিয়ে চুপ করিয়েছেন ইতিহাদের গ্যালারি। এরপর উদযাপন করেন কর্নার স্ট্যান্ডের সঙ্গে হেলান দেওয়ার মতো করে দাঁড়িয়ে। মাঠে ফিরে যাওয়ার আগে গ্যালারির দিকে মুখ করেই করলেন বাচ্চাদের কান্নার মতো ভঙ্গি!
এর কারণ জানিয়েছেন ভিনি নিজেই। ম্যাচ শেষে ব্যাখ্যা দিয়েছেন নিজেই, ‘গতবার আমরা এখানে এসেছিলাম, তখন ম্যানচেস্টার সিটির সমর্থকেরা একটি ব্যানার দেখিয়েছিল, যেখানে লেখা ছিল কান্না করো না। কারণ, রদ্রি ২০২৪ সালে ব্যালন ডি’অর জিতে আমাকে হারিয়েছিল। আজকে আমি সিটির সমর্থকদের অসম্মান করিনি। তবে এটা ছিল তাদের কাছে নিজেকে এক ধরনের প্রমাণ করতে পারার ব্যাপার।’
২০২৪ সালে ব্যালন ডি’অর জয়ে ফেভারিট ছিলেন ভিনিসিয়ুস। সব অঙ্ক বদলে পুরস্কারটা জেতেন ম্যানচেস্টার সিটির রদ্রি। এর প্রতিবাদে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান বয়কট করেছিল রিয়াল।
সেই রিয়ালের কাছে এবার দুই লেগ মিলিয়ে ৫-১ গোলে হারল সিটি। দ্বিতীয় লেগে জোড়া গোল করে এর অন্যতম নায়ক ভিনিসিয়ুস। তার প্রথম গোলটা ছিল পেনাল্টি থেকে। অথচ প্রথম লেগে পেনাল্টি মিস করেছিলেন তিনি। তারপরও অধিনায়ক ফেদে ভালভের্দে পেনাল্টি নিতে আমন্ত্রণ জানান ভিনিকেই।
এজন্য ভালভের্দের প্রতি ভিনির কৃতজ্ঞতা,‘গত সপ্তাহে চেয়েছিলাম ফেদে পেনাল্টি নিক। আজকেও আমি ওকে বলেছি পেনাল্টি নিতে। কিন্তু ও আবার বলেছে আমাকেই নিতে। আমাকে প্রেরণা জুগিয়েছে অধিনায়ক হিসেবে। ফেদে আমাক আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে আর গোল করতে পেরে খুবই খুশি আমি।”
জাবি আলোনসোর অধীনে নিজের ছায়া হয়ে পড়েছিলেন ভিনিসিয়ুস। ৩৪ ম্যাচে করেছিলেন কেবল ৭ গোল। ম্যাচ প্রতি গোল ০.২০। জাবির প্রতি রাগও দেখিয়েছিলেন প্রকাশ্যে। তবে আলভারো আরেবেলোয়া বদলে দিয়েছেন ভিনিকে।
ফিরিয়ে এনেছেন আত্মবিশ্বাস। এজন্যই আরবেলোয়ার অধীনে ১৬ ম্যাচে তার গোল ৯টি। ম্যাচ প্রতি যা ০.৫৬। তাই কোচের প্রতি ভিনির কৃতজ্ঞতা,‘মৌসুমের শুরু থেকে আমরা বেশ কিছু ম্যাচে ভালো খেলেছি, তবে ম্যান সিটির বিপক্ষে ম্যাচ দুটির মতো এতটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। আরবেলোয়ার কোচিংয়ে নিজেদেরকে ভালোভাবে চিনতে শুরু করেছি আমরা। ভালোও খেলছি আগের চেয়ে।’

