‘শুধু শিরোপা জিতলেই উদযাপন করবে, আর না জিতলে কাঁদবে?’

ম্যানচেস্টার সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা।
আর্সেনালকে হারিয়ে ম্যানচেস্টার সিটির খেলোয়াড়দের বাঁধভাঙা উদযাপন নিয়ে ফুটবল মহলে চলছে তুমুল আলোচনা। গত রবিবার ইতিহাদ স্টেডিয়ামে আর্সেনালকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা লড়াই জমিয়ে তুলেছে সিটি। ম্যাচ শেষে সিটির খেলোয়াড়দের উল্লাস ছিল দেখার মতো। আর্লিং হলান্ড জার্সি খুলে ভোঁ দৌড় দিয়েছেন। আর জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা তো গ্যালারিতে দর্শকদের মাঝেই ঝাঁপিয়ে পড়েন।
সিটি খেলোয়াড়দের এই উদযাপন দেখে চটেছেন সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক ওয়েন রুনি ও সাবেক মিডফিল্ডার ড্যানি মার্ফি। ম্যাচ পরবর্তী বিশ্লেষণে ওয়েইন রুনি বলেন, ‘সিটির এই উদযাপন কিছুটা অপরিণামদর্শী ছিল। এখনো ছয়টি ম্যাচ বাকি। এই উদযাপন পরে বুমেরাং হয়ে ফিরতে পারে।’ অন্যদিকে ড্যানি মার্ফির মতে, খেলোয়াড়দের উদযাপন দেখে মনে হচ্ছিল তারা যেন শিরোপা জিতে নিয়েছে, যা আর্সেনাল সমর্থকদের জন্য ‘অপমানজনক’।
সমালোচকদের এমন মন্তব্যকে ‘বোকামি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা। বার্নলির বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘লোকজন যা খুশি আজেবাজে কথা বলতে পারে। আমার খেলোয়াড়রা উদযাপন করেছে কারণ তারা প্রতিপক্ষের সামর্থ্য জানে। আমরা জানতাম. আজ না জিতলে শিরোপার স্বপ্ন শেষ হয়ে যেত।’
গার্দিওলা আরও যোগ করেন, ‘কেন তারা উদযাপন করবে না? আমি খেলোয়াড়দের বলেছি প্রতিটি জয়ের পর সমর্থকদের কাছে যাও এবং মুহূর্তটি উপভোগ কর। শুধু কি শিরোপা জিতলেই উদযাপন করতে হবে? আর না জিতলে কি সারাক্ষণ কাঁদবে? এসব হতে পারে না। প্রতিপক্ষকে সম্মান জানিয়ে তোমরা যেভাবে খুশি উদযাপন করতে পার।’
চলতি মৌসুমে আর্সেনাল ২০০ দিনের বেশি সময় ধরে টেবিলের শীর্ষে থাকলেও ম্যানচেস্টার সিটি শীর্ষে ছিল মাত্র ৬ দিন। তবে গত রবিবারের জয়ে ব্যবধান এখন মাত্র ৩ পয়েন্টে নেমে এসেছে। আজ বুধবার রাতে বার্নলিকে হারাতে পারলেই ফের টেবিলের শীর্ষে উঠে আসবে গার্দিওলার শিষ্যরা। গার্দিওলার মতে, আর্সেনালের বিপক্ষে ম্যাচটি তাদের জন্য ছিল একটি ‘ফাইনাল’। আর ফাইনাল জয়ের পর এমন উদযাপনই তো স্বাভাবিক।



