সাফ কোটা নিয়ে ফুটবলারদের সুর নরম

সাফ কোটা নিয়ে খেলোয়াড়দের সঙ্গে বৈঠকে বাফুফে কর্তারা। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ ফুটবল লিগ থেকে সাফ কোটা বাতিলের দাবি জানিয়েছিল ফুটবল খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতি। সেই দাবি প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন একটি বিশেষ কমিটিকে দায়িত্ব দেয় ফুটবলারদের সঙ্গে আলোচনার। দুই সদস্যের সেই কমিটি রবিবার বসেছিল স্থানীয় ফুটবলারদের সঙ্গে। বৈঠক শেষে সাফ কোটা পুরোপুরি বাতিলের দাবি থেকে সরে এসেছেন ফুটবলাররা। সাফ কোটায় দুইজন এবং বিদেশি কোটায় দুইজন নিবন্ধনের নতুন দাবি জানিয়েছেন ফুটবলাররা।
চলতি মৌসুমে একেকটি দল সাফ কোটায় পাঁচজন ও বিদেশি কোটায় চারজন ফুটবলার রেজিস্ট্রেশন করার সুযোগ পেয়েছিল। সাফ কোটার ফুটবলারদের স্থানীয় হিসেবে খেলানোর অবাড়িত সুযোগ দেওয়া হয়েছে ক্লাবগুলোকে। একাদশে চারজন খেলানোর সে সুযোগ ব্রাদার্সের মতো কয়েকটা ক্লাব কাজেও লাগাচ্ছে। এছাড়া অনূর্ধ্ব-১৯ বয়সি একজনকে একাদশে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়।
এসব কারণে স্থানীয়দের খেলার সুযোগ কমেছে। বেড়েছে হতাশা। খেলার সুযোগ পেতে বাধ্য হয়ে ক’দিন আগে বাফুফে ভবনে উপস্থিত হয়েছিলেন বিএফএল’এর বিভিন্ন ক্লাবের শ’খানেক ফুটবলার। তারা তখন এসেছিল ফুটবল খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির ব্যানারে। বাফুফের কাছে ছয়টি দাবি জানিয়ে একটা চিঠিও দিয়েছিলেন তারা। তবে রবিবার কোনো ব্যানারে আসেননি। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মামুনুল ইসলামের নেতৃত্বে বিশেষ কমিটির সঙ্গে বৈঠকে আসেন বেশ কয়েকজন ফুটবলার।
বিশেষ কমিটির দুই সদস্য আমিরুল ইসলাম বাবু এবং সাখাওয়াৎ হোসেন ভুঁইয়া শাহীন খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা করেন, তাদের দাবি-দাওয়া জানতে চান। ফুটবলাররাই আগের কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসে আস্থা রাখতে চাইছে অভিভাবক সংস্থা বাফুফের ওপর।
সভা শেষে সবার পক্ষে মামুনুল ইসলাম বলেছেন, বাফুফে যাতে তাদের ভালোমন্দের দিকটা খেয়াল রেখে সামনের মৌসুমের জন্য সিদ্ধান্ত নেয়, ‘আমরা ফেডারেশনের কাছে দুইজন সার্ক ও বিদেশি কোটা দাবি রেখেছি। আশা করি ফেডারেশন আমাদের দাবি বিবেচনা করবে। আমরা চাই ফুটবলার, ক্লাব ও ফেডারেশন—সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকুক। সাফের যেহেতু একটি সিদ্ধান্ত আছে, এই অঞ্চলের ফুটবলাররা একে অপরের দেশে স্থানীয় হিসেবে খেলতে পারবে। আমরাও চাই সার্কভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের ভালো সম্পর্ক থাকুক।’
বাফুফের নির্বাহী সদস্য ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বাবু জানিয়েছেন, খেলোয়াড়দের দাবিগুলো নির্বাহী কমিটির সভায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সাখাওয়াৎ হোসেন ভুঁইয়া শাহীন ফুটবলারদের অবস্থানে ভুল দেখছেন না। তবে বাফুফেকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে সব পক্ষের স্বার্থ দেখেই, ‘ফুটবলাররা তাদের অবস্থান থেকে এই দাবিটা করতেই পারেন। আমরাও চাই স্থানীয় ফুটবলাররা যাতে বেশি খেলার সুযোগ পায়। তবে একই সঙ্গে ক্লাবের স্বার্থও বাফুফেকে দেখতে হবে। তাদের কথা আজ আমরা শুনেছি। এর সঙ্গে আমাদের পর্যবেক্ষণ যোগ করে নির্বাহী কমিটির কাছে সুপারিশ আকারে দেবো। সেখানেই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।’



