টানা ষষ্ঠ জয়ে বসুন্ধরাকে ছুঁয়ে ফেলেছে আবাহনী

ফর্টিসকে হারিয়েছে আবাহনী। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ ফুটবল লিগে টানা ষষ্ঠ জয়ে শীর্ষে থাকা বসুন্ধরা কিংসকে ছুঁয়ে ফেলেছে আবাহনী। কুমিল্লার ভাষা সৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত স্টেডিয়ামে শুরুর বাঁশির ৩২ সেকেন্ডে আবাহনীকে গোল উপহার দেন ফর্টিসের শ্রীলঙ্কান গোলকিপার সুজন পেরেরা ও ডিফেন্ডার মিঠু চৌধুরী। তাদের ভুল বোঝাবুঝিতে হয় আত্মঘাতী গোল। সেই ভুলের চড়া মাশুল দিতে হয়েছে ফর্টিসকে। ১-০ ব্যবধানে হেরে নিজেদের শিরোপার অঙ্কটা জটিল করে তুলেছে তারাই।
ফল
আবাহনী ১-০ ফর্টিস
ফর্টিসের লিগের প্রথম পর্ব কেটেছিল স্বপ্নের মত। কিংসের সঙ্গে শীর্ষস্থান ভাগাভাগি করেছিল তারা। তবে দ্বিতীয় পর্বে ছন্দ পতন ঘটে। ছয় ম্যাচে তিন জয়ের বিপরীতে তারা দুই ম্যাচে হারে ও এক ম্যাচ ড্র করে। গত রাউন্ডে আরামবাগকে হারাতে না পারা ছিল বড় ক্ষতি৷ এরপর আবাহনীর কাছে হারে অনেকটাই পিছিয়ে পড়ল তারা, তাদের সংগ্রহে এখন ২৫ পয়েন্ট।
কিক-অফের পর প্রথম আক্রমণেই আবাহনী সফলতা পায় ভাগ্যজোড়ে। ডানদিক থেকে সুলেমান দিয়াবাতের উদ্দেশ্যে ক্রস দিয়েছিলেন মিরাজুল ইসলাম। তা দিয়াবাতের কাছে পৌঁছানোর আগেই বিপদমুক্ত করতে গিয়েছিলেন সুজন পেরেরা ও মিঠু চৌধুরী। তবে তখনই ঘটে যায় বড়সট ভজঘট। দুজনের ভুল বোঝাবুঝিতে বল মিঠুর শরীরে লেগে বল চলে যায় জালে।
শুরুর ধাক্কা সামলে নিতে ফর্টিস পুরো ম্যাচ জুড়েই চেষ্টা চালিয়েছে। পুরো ম্যাচেই তাদের ছিল আধিপত্য। সেরা সুযোগটি তারা তৈরি করে ৪২ মিনিটে। বাইলাইনের উপর থেকে দাওয়া শেরিংয়ের আড়াআড়ি ক্রস আটকাতে পারেননি আবাহনী কিলার মিতুল মারমা। বল চলে যায় ফাঁকায় থাকা ইসা জালোর কাছে। তবে তার হেড ক্রসবারের উপর দিয়ে গেলে হতাশ হতে হয় তাদের।
পরের মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে নিজে শট না নিয়ে ইসা জালো বাড়ান বাঁ-দিকে ফাঁকায় থাকা ওনিয়েকাচি ওকাফোরককে। এই নাইজেরিয়ানের শট এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে অল্পের জন্য পোস্টে বাইরে চলে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার মরিয়া চেষ্টা করেও পারেনি ফর্টিস। আবাহনীর গোল দরজা সুরক্ষিত রাখতে গোলকিপার মিতুল এ ম্যাচে ছিলেন নিখুঁত ও দৃঢ়চেতা। তাতেই গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট পেয়ে আবাহনী এখন শিরোপার বড় দাবিদার।
মানিকগঞ্জে লিগের অপর ম্যাচে রহমতগঞ্জকে ১-০ গোলে হারিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট পেয়েছে অবনমন ঝুঁকিতে থাকা আরামবাগ। ঘানাইয়ান সাল্টেচ মিলসের ৪১ মিনিটের গোলে জয় পেয়ে রেলিগেশন জোন থেকে আপাতত বের হয়েছে আরামবাগ। ১৪ ম্যাচে তিন জয়, চার ড্র এবং ৭ হারে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে অষ্টম স্থানে তারা। ১৯ পয়েন্টে টেবিলের চারে রহমতগঞ্জ।



