বায়ার্ন-পিএসজির ফাইনালের আগের ফাইনাল

আজ আরেকটি মহাকাব্যিক ম্যাচের প্রতীক্ষায় বায়ার্ন-পিএসজি। ছবি: সংগৃহীত
চ্যাম্পিয়নস লিগের হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বায়ার্ন মিউনিখ আর প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি)। অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় আজ বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামবে দুই জায়ান্ট দল। সেমিফাইনালের প্রথম লেগ শেষে ৫-৪ ব্যবধানে এগিয়ে আছে ফরাসি জায়ান্টরা। কিন্তু ঘরের মাঠে বায়ার্নের মতো দলকে অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। পরিসংখ্যানও তাদের পক্ষেই কথা বলছে। বরং বায়ার্নের মাঠ থেকে জয় ছিনিয়ে আনা হবে লুইস এনরিকের দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রথম লেগে হারের পর এখন ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া ভিনসেন্ট কোম্পানির বায়ার্ন। পিএসজির মাঠে প্রথম লেগের ৫৮তম মিনিটে যখন বায়ার্ন ৫-২ গোলে পিছিয়ে ছিল, তখন স্বাগতিক সমর্থকরা উৎসবে মেতেছিল। কিন্তু ম্যাচের শেষ দিকে দৃশ্যপট পাল্টে যায়। বায়ার্ন অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ব্যবধান ৪-৫ এ নামিয়ে আনে। বায়ার্নের এই কামব্যাক দ্বিতীয় লেগে তাদের আত্মবিশ্বাস জোগাবে। গত শনিবার বুন্দেসলিগায় হাইডেনহেইমের বিপক্ষে ৩-৩ গোলে ড্র করলেও তাদের আক্রমণভাগ দুর্দান্ত ছন্দে ছিল।
সবচয়ে বড় কথা, চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের মাঠে বায়ার্নের রেকর্ড বরাবরই ঈর্ষণীয়। এর আগে পিএসজির বিপক্ষে ঘরের মাঠে খেলা ৭ ম্যাচের ৫টিতেই জিতেছে তারা। তাই ফাইনালের আগে সংবাদ সম্মেলনে বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানির কণ্ঠে আত্মবিশ্বাসের সুর,‘ মৌসুমের শুরুতে খুব কম লোকই বিশ্বাস করেছিল যে, ঘরের মাঠে শেষ ম্যাচ খেলে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে পৌঁছানোর সুযোগ পাব আমরা। এখন সমর্থকরা বিশ্বাস করে, আমরা সফল হব। আমরা সবাই মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে চাই।’
অন্যদিকে, লিগ ওয়ানে লরিয়েন্টের সাথে ২-২ ড্র করা ম্যাচে নিজেদের মূল খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দিয়েছিলেন লুইস এনরিকে। প্রথম লেগের লিড ধরে রাখতে পিএসজি হয়তো আজ কিছুটা রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলবে এবং প্রতি-আক্রমণে বায়ার্নকে ঘায়েল করার চেষ্টা করবে। নক-আউট পর্বে পিএসজির অ্যাওয়ে রেকর্ড চমৎকার এবং টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠাই এখন তাদের লক্ষ্য। তবে অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনার দর্শকরা আশা করছেন, প্রথম লেগের শেষ ৩০ মিনিটের সেই বিধ্বংসী বায়ার্নকে এবার তারা শুরু থেকেই দেখতে পাবেন। আর মিউনিখের রাতটি প্যারিসের জন্য দুঃস্বপ্নের করে তুলতে পারে খেলোয়াড়দের চোট।
প্রথম লেগে ইনজুরিতে পড়া আশরাফ হাকিমিকে ছাড়াই মাঠে নামতে হবে প্যারিসকে। এছাড়া আগে থেকেই মাঠের বাইরে আছেন কুয়েন্টিন এনজান্তু। অন্যদিকে স্বাগতিকরা আজ পাচ্ছে না গোলরক্ষক সভেন উলরাইখ, রাফায়েল গেরেরো এবং সার্জ জিনাব্রিকে। তবে সুখবর হলো, টম বিশপ স্কোয়াডে ফিরেছেন এবং লেনার্ট কার্ল সময়মতো সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও একটি পরিসংখ্যানে পিএসজির চেয়ে এগিয়ে বায়ার্ন। সেমিফাইনালে বায়ার্নের সম্ভাব্য একাদশের খেলোয়াড়রা এই মৌসুমে মোট ৩৪ হাজার ১৫৩ মিনিট মাঠে কাটিয়েছেন। বিপরীতে পিএসজির একাদশের খেলোয়াড়দের মাঠে থাকার সময় মাত্র ২৯ হাজার ৪৬৩ মিনিট।
দুই দলের আক্রমণভাগের যে ধার, তাতে আজ গোলবন্যার সম্ভাবনা প্রবল। বায়ার্ন ঘরের মাঠে নিঃসন্দেহে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলবে। তবে পিএসজির প্রতি আক্রমণ তাদের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। প্রথম লেগের লিড থাকায় ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে পিএসজি কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। সাধারণত বেশি খেললে ক্লান্তি আসা স্বাভাবিক। কিন্তু বায়ার্নের আক্রমণভাগ যেন উল্টো পথে হাঁটছে।
লুইস দিয়াজ (৩,৭৬০ মিনিট), মাইকেল অলিস (৩,৭১৬ মিনিট) এবং হ্যারি কেইন (৩,৬৯০ মিনিট) প্রায় প্রতিটি ম্যাচ খেললেও তাদের পারফরম্যান্সে বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। অন্যদিকে পিএসজির দেজিরে দুয়ে বা উসমান দেম্বেলে অনেক কম সময় খেললেও তাদের ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে থাকা পিএসজির জন্য তাই কঠিন পরীক্ষাই অপেক্ষা করছে।




