আগামীর সময়

দেশের মাঠে দ্রুতই দেখা যাবে সাকিবকে: বিসিবি পরিচালক

দেশের মাঠে দ্রুতই দেখা যাবে সাকিবকে: বিসিবি পরিচালক

সংগৃহীত ছবি

আওয়ামী লীগ সরকারের এমপি হওয়ায় চব্বিশের আগস্টে রাজনীতির মাঠ তো বটেই, জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে ছাড়তে হয়েছিল ক্রিকেটের মাঠও। দেশে ফেরার ইস্যুতে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সঙ্গে তার বিরোধও এসেছিল প্রকাশ্যে। 

তবে ক্ষমতার পালাবদলে এবার তার ফেরার পথ সুগম হচ্ছে। দ্রুতই তাকে দেশের মাঠে দেখা যাবে- এমন বার্তা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক আসিফ আকবরের।

‘সাকিবের যে আইনগত বিষয়গুলো নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, সেগুলো সমাধানে মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড একসঙ্গে কাজ করছে। আমরা আশাবাদী, খুব দ্রুতই তাকে আবার মাঠে দেখা যাবে।’

কক্সবাজার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ইয়াং টাইগার্স অনূর্ধ্ব-১৮ জাতীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন আসিফ আকবর। এরপর কথা বলেন সাংবাদিকদের সঙ্গে। 

সে সময় সাকিব প্রসঙ্গ উঠতেই তাকে ফেরানোর বার্তাটি দিলেন বিসিবি পরিচালক।

সাকিবকে ফেরানোর ইঙ্গিত অবশ্য গত জানুয়ারিতেই দিয়েছিল বিসিবি।

২৪ জানুয়ারি বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের দীর্ঘ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিচালক আমজাদ হোসেন বলেছিলেন, ‘সর্বসম্মতিক্রমে বোর্ড গ্রহণ করেছে যে, সাকিব আল হাসানের অ্যাভেইলঅ্যাবিলিটি, ফিটনেস এবং অ্যাকসেসিবিলিটির ওপর ভিত্তি করে এবং পাশাপাশি যেখানে খেলা হবে ভেন্যুতে, সেখানে যদি উপস্থিত থাকার মতো ক্যাপাসিটি থাকে, অবশ্যই বোর্ড বা নির্বাচক কমিটি সাকিবকে পরবর্তীতে নির্বাচনের জন্য বিবেচিত করবে।’

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় কানাডায় ছিলেন তৎকালীন সরকারের এমপি সাকিব আল হাসান। আগস্টে সরকার পতনের পর আর দেশে ফিরতে পারেননি তিনি। নাম উঠেছে জুলাইয়ের হত্যা মামলাতেও। 

পরে শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারি, জুয়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততাসহ বেশকিছু অভিযোগে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামে দুদক।

অন্তবর্তী সরকারের আমলে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের সঙ্গে সাকিবের বিরোধ প্রকাশ্যে আসে ফেসবুকের মাধ্যমে। পতিত সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার জন্মদিনে সাকিবের শুভেচ্ছা জানানোর পোস্টের জেরে দুজনই দেন পাল্টাপাল্টি ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট।

আসিফ মাহমুদ তার পোস্ট জানান দেন, সাকিবকে তিনিই ‘পুনর্বাসনের’ সুযোগ দেননি। পাল্টা পোস্টে সাকিব বলেছিলেন, আসিফের জন্যই তিনি বাংলাদেশের জার্সি গায়ে দিতে পারেননি।

এর মধ্যে আবার গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর দুদক কার্যালয়ে গিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা দেয় সাকিব আল হাসানের একদল ভক্ত।

পরদিন সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে কথা বলেছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা আসিফ মাহমুদ।

সাকিবের সমর্থকরা দুদকে মব সৃষ্টি করে অভিযোগ করেছে বলে দাবি ছিল তার।

‘আন্দোলনের সময় আমি দায়িত্বে থাকাকালীন সাকিব জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে এবং শেখ হাসিনাকে সমর্থন করার কারণে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, বাংলাদেশের জার্সি পড়ে দেশের পতাকা বহন করার কোনো নৈতিক অধিকার সাকিবের নেই। এখন সেটা যদি দুর্নীতি হয়, কাউকে খেলতে না দেওয়া যদি দুর্নীতি হয়, তাহলে সেটার জন্য আমার শাস্তি হোক আমার কোনো সমস্যা নেই’- বলেছিলেন আসিফ মাহমুদ।

    শেয়ার করুন: