‘উই হ্যাভ আ প্ল্যান’

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের কোচ পিটার বাটলার। ছবি: বাফুফে
চীনকে চমকে দিয়েছে বাংলাদেশ। নারী এশিয়ান কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ ২-০ গোলে হারলেও তৃপ্তির ঢেকুর তুলেছে আফঈদার খন্দকাররা। সামনে এবার আরেক শক্তিশালী উত্তর কোরিয়া। চীন ম্যাচের আত্মবিশ্বাস বাড়তি জ্বালানি যোগ করছে। কোচ পিটার বাটলারও আশাবাদী, সাজাচ্ছেন রণকৌশল। সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েও গেলেন, “উই হ্যাভ আ প্ল্যান”।
উত্তর কোরিয়া এশিয়ান কাপ শুরু করে উজবেকিস্তানকে ৩-০ গোলে হারিয়ে। স্বাভাবিকভাবেই উত্তর কোরিয়াও আত্মবিশ্বাসী। বাংলাদেশকে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান সুসংহত করতে চায় তারা। অন্যদিকে বাংলাদেশের লক্ষ্য, তাদের চমকে দেওয়া। চীন ম্যাচে পিটার বাটলারের দল পেরেছে, সামনের ম্যাচে পারবে?
বাংলাদেশ কোচ জানাচ্ছেন, উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে তার কৌশল প্রস্তুত, “আমাদের গেম প্ল্যান আছে। আমার মনে হয়, আমাদের পরিকল্পনাটি বেশ কার্যকর হবে। দিনশেষে নিশ্চয় আমরা শুধু বসে থেকে প্রতিপক্ষের আক্রমণ দেখব না। তাছাড়া যদি আমরা গোল খাই-ও, সেটা হতেই পারে। কিন্তু আমি চাই আমাদের দল ম্যাচে সক্রিয়ভাবে খেলুক। কোরিয়া বা চীনের মতো শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে আমাদের খুব সুশৃঙ্খল থাকতে হবে। উই হ্যাভ আ প্ল্যান। উই হ্যাভ আ প্ল্যান।”
বাংলাদেশ এই প্রথম বড় কোনও প্রতিযোগিতায় খেলছে। চীন কিংবা উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে মাঠের অভিজ্ঞতা ছিল না। ভিডিও অ্যানালাইসিসও ঠিকঠাক করতে পারেনি। তাহলে এশিয়ার পরাশক্তিদের বিপক্ষে কীভাবে কৌশল সাজাচ্ছেন বাংলাদেশ কোচ?
বাটলারের মতে, ভিডিও দেখে কৌশল সাজানো যায় না, “গ্রুপের এই দুই প্রতিপক্ষকে (চীন ও উত্তর কোরিয়া) দেখার সুযোগ আমাদের ছিল না। বলতে গেলে কিছুই পাচ্ছিলাম না। তবে আপনি যতই গবেষণা বা ভিডিও অ্যানালাইসিস করেন না কেন, বাঁশি বাজার আগে আসলে বোঝা যায় না মাঠে কী হতে চলেছে। খেলোয়াড়রাই সিস্টেম তৈরি করে, সিস্টেম খেলোয়াড় তৈরি করে না। মাঠের লড়াইটাই দিনশেষে মূখ্য।”
এবারের নারী এশিয়ান কাপে তিন গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলছে ১২ দল। তিন গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স-আপের সঙ্গে সেরা তৃতীয় দুই দল নিশ্চিত করবে কোয়ার্টার ফাইনাল। ফলে ‘বি’ গ্রুপে তৃতীয় হয়ে শেষ আটে যাওয়ার সুযোগ আছে বাংলাদেশের।
পিটার বাটলার অবশ্য পরের রাউন্ড নিয়ে ভাবছেন না। চীন ম্যাচে যেভাবে লড়াই করেছে, সেভাবেই মাথা উঁচু রাখতে চান। হার-জিত না ভেবে উপভোগের মন্ত্রে নতুন কিছু শেখার আশায় বাংলাদেশ।

