বাংলাদেশের পোস্টে ৩১ শট নিয়ে ৫ গোল উত্তর কোরিয়ার

দ্বিতীয় ম্যাচে ৫-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। ছবি: সংগৃহীত
চীনের বিপক্ষে দেয়াল গড়েছিল বাংলাদেশের রক্ষণ। এশিয়ান কাপের সর্বোচ্চ চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে তাই ২ গোলের বেশি হজম করতে হয়নি। সেই প্রতিরোধ ভেঙে গেল উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে। সিডনির ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশকে গোলের মালা পরিয়ে উত্তর কোরিয়া জিতল ৫-০ গোলে। জোড়া গোল করেছেন কিম কিয়ং-ইয়ং। একটি করে গোল মিয়ং ইউ-ঝং, চায়ে উন-ইয়ং এবং কিম হায়ে-ইয়ংয়ের।
বিরতির আগে ভিএআরে তিন তিনটি গোল বাতিল হয়েছিল তাদের। নইলে ব্যবধান বাড়ত আরও। প্রথমার্ধে ২ গোল করা উত্তর কোরিয়া দ্বিতীয়ার্ধে করেছে আরও তিন গোল। ম্যাচজুড়ে উত্তর কোরিয়ার দখলে বল ছিল ৬৫.২ শতাংশ। তারা বাংলাদেশের পোস্টে শট নিয়েছে ৩১টি! লক্ষ্যে ছিল এর ১১টি। বিপরীতে বাংলাদেশ কোনো শটই নিতে পারেনি উত্তর কোরিয়ার পোস্টে।
এই পরিসংখ্যানই বলছে কতটা অসহায় ছিল বাংলাদেশ। পিটার বাটলার ম্যাচের আগে বলেছিলেন ‘উই হ্যাভ আ প্ল্যান’। কিন্তু সেই পরিকল্পনার ছিটেফোঁটা ছিল না ম্যাচে।
ফল
বাংলাদেশ ০ : ৫ উত্তর কোরিয়া
শক্তি, সামর্থ্য, ঐতিহ্য, র্যাংকিং- সবকিছুতেই উত্তর কোরিয়ার চেয়ে যোজন যোজন পিছিয়ে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এশিয়ান কাপে তিনবারের চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া। ফিফা র্যাংকিংয়ে তারা ৯ নম্বরে। সেখানে বাংলাদেশে আছে ১১২ নম্বরে। এই ফলটা তাই অপ্রত্যাশিতও নয়।
বাটলারের ‘এলভিস প্রিসলি’খ্যাত গোলরক্ষক মিলি আক্তার অসাধারণ ৫টি সেভ করেছেন। আরও কয়েকবার উত্তর কোরিয়ার আক্রমণের সামনে ঢালও হয়ে দাঁড়ান তিনি। মাঝমাঠ ও আক্রমণে ঠিকঠাক বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেননি ঋতুপর্ণা-মারিয়ারা। ম্যাচজুড়ে তাঁরা ছিলেন ছন্নছাড়া। তাই উত্তর কোরিয়ার পোস্টে কোনো শট নিতে পারেনি বাংলাদেশ।
ষষ্ঠ মিনিটে গোলরক্ষক মিলিকে একা পেয়ে গিয়েছিলেন ফরোয়ার্ড হান জিন হং। অসাধারণ দৃঢ়তায় নিশ্চিত গোলের হাত থেকে দলকে বাঁচান মিলি। ১১তম মিনিটে জিন হংয়ের আরেকটি আক্রমণ ঠেকান মিলি।
এরপর তিন তিনবার বল জালে জড়ালেও ভিএআরে বেঁচে যায় বাংলাদেশ। ১৪ মিনিটে প্রথম গোলের দেখা পেয়েছিল উত্তর কোরিয়া। তবে কিয়ং ইয়ং বল পাওয়ার আগে বক্সের ভেতরে কিম সং গিয়ংয়ের হাতে লাগায় ভিএআরে গোল বাতিল করেন রেফারি।
২৮তম মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলে জোরালো শটে জালে জড়ান হান জিন-হং। কিন্তু বল মিলি আক্তারের নিয়ন্ত্রণে থাকা অবস্থায় জোর করে শট নেওয়ায় ভিএআরে বাতিল হয় গোল। ৩০তম মিনিটে আবারও বাংলাদেশের জালে জড়ায় বল। তবে কিম কিয়ং–ইয়ং অফসাইড থাকায় গোল পায়নি উত্তর কোরিয়া। ভিএআর চেকেও লাভ হয়নি তাদের।
তিনবার বাঁচার পরও বাংলাদেশ ছিল ছন্নছাড়া। ৩৮ মিনিটে কিম কিয়ং–ইংয়ের হেড ফিরে আসে পোস্টে লেগে। আরও একবার রক্ষা পায় আফঈদা খন্দকারের দল।
চীনের বিপক্ষে ম্যাচের একাদশ থেকে আজ দুই পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার শিউলি আজিম ও ফরোয়ার্ড উমেহলা মারমার জায়গায় পিটার বাটলার নামিয়েছেন তহুরা খাতুন ও আইরিন খাতুনকে।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে তহুরা খাতুন, আইরিন খাতুন ও শামসুন্নাহার জুনিয়রকে তুলে নিয়ে পিটার বাটলার নামান স্বপ্না রানী, আনিকা রানিয়া ও উমেহলা মারমা। এরপরই ২ গোল হজম করে বাংলাদেশ।
বিরতির আগে যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে পেনাল্টি থেকে উত্তর কোরিয়াকে এগিয়ে দেন মিয়ং ইউ–ঝং। বক্সের ভেতর আফঈদা হং সংয়ের জার্সি ধরে টেনে ফেলে দিলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি করেন কিম কিয়ং–ইয়ং।
বিরতির আগে উত্তর কোরিয়া এগিয়ে যায় ২-০ গোলে। যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি করেন কিম কিয়ং–ইয়ং। চ্যা উন ইয়ংয়ের পাস থেকে বক্সের ডান প্রান্ত দিয়ে জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি।
বিরতির পর ৫২তম মিনিটে বক্সের মাঝখান থেকে চো ইল সনের বাঁ পায়ের শটটি সরাসরি গোলের মাঝ বরাবর ছিল। দুর্দান্ত সেভে তা ফিরিয়ে দেন মিলি আক্তার। ৬২ মিনিটে সেই মিলির ভুলে ব্যবধান ৩-০ করেন চ্যা উন ইয়ং। মিলির এগিয়ে আসার সুযোগ কাজে লাগান তিনি।
৬৪ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোল করেন কিম কিয়ং–ইয়ং। বক্সের ডান প্রান্ত থেকে নেওয়া তাঁর শট জড়ায় জালে। ৯০তম মিনিটে বাংলাদেশের জালে কোরিয়ার পঞ্চম গোলটি করেন কিম হাই ইয়ং। সং চুন-সিমের ক্রস থেকে হেডে বল জালে পাঠান তিনি। শেষ বাঁশির পর যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ একাদশ
গোলরক্ষক : মিলি আক্তার ; ডিফেন্ডার: আফঈদা খন্দকার (অধিনায়ক), নবীরন খাতুন, কোহাতি কিসকু, শামসুন্নাহার সিনিয়র; মিডফিল্ডার : মনিকা চাকমা, মারিয়া মান্দা, ঋতুপর্ণা চাকমা, আইরিন খাতুন; ফরোয়ার্ড : তহুরা খাতুন, শামসুন্নাহার জুনিয়র।

