আগামীর সময়

সামরিক শক্তিতে কে এগিয়ে, পাকিস্তান নাকি আফগানিস্তান?

সামরিক শক্তিতে কে এগিয়ে, পাকিস্তান নাকি আফগানিস্তান?

সংগৃহীত ছবি

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান সীমান্ত সংঘাত ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, সামরিক শক্তির বিচারের লড়াইয়ে কে এগিয়ে? ডুরান্ড লাইনের বিভিন্ন স্থানে কামান, মাল্টি ব্যারেল রকেট লঞ্চার ও সাঁজোয়া যান নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান দুই পক্ষের উত্তেজনাকে ‘উন্মুক্ত যুদ্ধ’-এর পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এমন প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্য বলছে, সামরিক সক্ষমতা, আধুনিক অস্ত্রভাণ্ডার ও কৌশলগত শক্তিতে পাকিস্তান স্পষ্টতই এগিয়ে।


গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে আফগানিস্তানের নঙ্গরহর ও পকতিকা প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর উত্তেজনার সূচনা হয়। ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে সীমান্তজুড়ে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে তা ব্যাপক আকার নেয়।

শুক্রবার সকালে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ ঘোষণা দেন, সীমান্তে শুরু হওয়া অভিযান তালেবানের বিরুদ্ধে ‘পূর্ণ যুদ্ধ’।


তিনি বলেন, ‘আমাদের ধৈর্য ফুরিয়ে গেছে। এখন সরাসরি যুদ্ধের সময়।’ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীও জানিয়েছেন, তার দেশের বাহিনী তালেবানকে গুঁড়িয়ে দিতে প্রস্তুত।


লন্ডনভিত্তিক ‘ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ’ (আইআইএসএস)-এর তথ্য বলছে, সামরিক শক্তি ও আধুনিক অস্ত্রের বিচারে পাকিস্তান আফগানিস্তানের তুলনায় অনেক এগিয়ে।


সেনা কর্মকর্তার সংখ্যা


পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনীতে বর্তমানে প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার সক্রিয় সদস্য রয়েছে। এর মধ্যে সেনাবাহিনীতে ৫ লাখ ৬০ হাজার, বিমানবাহিনীতে ৭০ হাজার এবং নৌবাহিনীতে ৩০ হাজার সদস্য কর্মরত। অন্যদিকে, আফগানিস্তানের তালেবান বাহিনীর সক্রিয় সদস্য সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার। তারা এই সংখ্যা ২ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে, তবে প্রশিক্ষণ ও আধুনিক সরঞ্জামের ঘাটতি বড় চ্যালেঞ্জ।


যুদ্ধযান ও কামান


পাকিস্তানের কাছে ৬ হাজারেরও বেশি সাঁজোয়া যুদ্ধযান এবং ৪ হাজার ৬০০-র বেশি কামান রয়েছে। চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ফলে দেশটি নিয়মিত তাদের স্থল, নৌ ও বিমান শক্তি আধুনিকায়ন করছে। আফগান তালেবান বাহিনীর কাছেও সোভিয়েত আমলের ট্যাঙ্ক, সাঁজোয়া পার্সোনেল ক্যারিয়ারসহ কিছু যুদ্ধযান রয়েছে। তবে এসবের সঠিক সংখ্যা ও কার্যক্ষমতা নিয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। তালেবানের হাতে তিন ধরনের কামান থাকলেও সেগুলোর অবস্থা স্পষ্ট নয়।


আকাশ শক্তি


বিমান সক্ষমতায় পাকিস্তান অনেকখানি এগিয়ে। দেশটির বিমানবহরে ৪৬৫টি যুদ্ধবিমান এবং ২৬০টিরও বেশি হেলিকপ্টার রয়েছে। এর মধ্যে আক্রমণাত্মক, বহুমুখী ও পরিবহন সক্ষমতাসম্পন্ন আধুনিক কপ্টার রয়েছে।

বিপরীতে, আফগানিস্তানের কার্যকর কোনো শক্তিশালী বিমানবাহিনী নেই। তাদের হাতে অন্তত ৬টি বিমান এবং ২৩টি হেলিকপ্টার রয়েছে বলে জানা যায়, যেগুলোর বেশ কয়েকটি সোভিয়েত আমলের। তবে সেগুলোর কতগুলো উড্ডয়নযোগ্য, তা নিশ্চিত নয়।


পারমাণবিক সক্ষমতা


পাকিস্তান একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। বর্তমানে তাদের কাছে প্রায় ১৭০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ধারণা। অন্যদিকে, আফগানিস্তানের কোনো পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার নেই।


সার্বিক মূল্যায়ন

সেনাসংখ্যা, আধুনিক অস্ত্রভাণ্ডার, বিমান শক্তি ও পারমাণবিক সক্ষমতার বিচারে পাকিস্তান স্পষ্টভাবে এগিয়ে। তালেবান ২০২১ সালে ক্ষমতা দখলের সময় যে বিদেশি সামরিক সরঞ্জাম জব্দ করেছিল, সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও দক্ষ ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি না পাওয়াও তাদের সামরিক আধুনিকায়নে বড় বাধা।

    শেয়ার করুন: