আগামীর সময়

ইরানি বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি ট্রাম্পের, তেহরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি

ইরানি বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি ট্রাম্পের, তেহরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি

হরমুজ প্রণালী

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার হুমকি দিয়েছেন যে, তেহরান ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে না দিলে তিনি ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ‘ধ্বংস করে দেবেন’। যুদ্ধের পরিধি কমিয়ে আনার কথা বলার পর দিন এই হুমকি পরিস্থিতি আরও ঘোলাটো করে তুলল।

এদিকে ইরানও দমে যাওয়ার পাত্র নয়। দেশটি মার্কিন ও ইসরায়েলি স্থাপনায় পাল্টা আঘাতের হুমকি দিয়েছে।

আজ রোববার সকাল ছয়টার দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বলেছেন, যদি ইরান ঠিক এই মুহূর্ত থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো হুমকি ছাড়াই হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণরূপে খুলে না দেয়, তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত হেনে সেগুলোকে নিশ্চিহ্ন করে দেবে, এবং শুরুটা হবে সবচেয়ে বড়টি দিয়ে!

ট্রাম্পের এ হুমকি বোঝায় যে, ইরানের দৈনন্দিন বেসামরিক জীবনকে প্রভাবিত করে এমন অবকাঠামো পর্যন্ত মার্কিন হামলার পরিধি প্রসারিত হবে।

ইরানি হামলার হুমকির কারণে বেশিরভাগ জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেতে পারছে না। এই সংকীর্ণ জলপথটি বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের পথ হিসেবে কাজ করে। এটি একটি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে।

এটি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত সপ্তাহে ইউরোপীয় গ্যাসের দাম ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছিল।

ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সামরিক কমান্ড সদর দপ্তর রবিবার বলেছে যে, যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি ও শক্তি অবকাঠামোতে হামলা করে, তাহলে ইরান এই অঞ্চলে থাকা সমস্ত মার্কিন জ্বালানি, তথ্য প্রযুক্তি এবং লবণাক্ত পানি পরিশোধন অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করবে।

গত সপ্তাহে জ্বালানির দাম বেড়ে যায়, কারণ ইরান তার প্রধান গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলি হামলার জবাবে কাতারের রাস লাফান শিল্প শহরে হামলা চালায়। এই শহরটি বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস প্রক্রিয়াজাত করে এবং এতে এমন ক্ষতি হয় যা মেরামত করতে কয়েক বছর সময় লাগবে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের অবকাঠামোর ওপর এই হুমকি এমন এক সময়ে আসে যখন সংঘাতটি এক বিপজ্জনক নতুন দিকে মোড় নেয়।

সূত্র: রয়টার্স

    শেয়ার করুন: