‘নিজেরাই তেল জোগাড় করুন’ ব্রিটেনকে খোঁচা ট্রাম্পের

সংগৃহীত ছবি
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে যোগ না দেওয়ায় যুক্তরাজ্যের ওপর ক্ষিপ্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ব্রিটেনকে ‘নিজেদের জ্বালানি নিজেরাই জোগাড় করতে হবে’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া একাধিক পোস্টে যুক্তরাজ্য নিয়ে ক্ষোভ ঝাড়ছিলেন ট্রাম্প। ‘তেহরানের বিরুদ্ধে হামলায় অংশ না নেওয়া দেশগুলোর উচিত হয় যুক্তরাষ্ট্র থেকে জেট ফুয়েল কেনা, নইলে হরমুজ প্রণালিতে গিয়ে নিজেদের প্রয়োজনীয় জ্বালানি নিয়ে আসা।’
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময়ে এলো যখন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য কোনো স্থল অভিযানে জড়াবে না যুক্তরাজ্য। একই সময় উপসাগরীয় সংকটের অর্থনৈতিক অভিঘাত মোকাবিলার প্রস্তুতিও শুরু করেছে ব্রিটিশ সরকার।
ট্রাম্প লিখেছেন, ‘হরমুজ প্রণালির কারণে যেসব দেশ জেট ফুয়েল পাচ্ছে না, যেমন যুক্তরাজ্য, যারা ইরানের ‘শিরচ্ছেদ’ অভিযানে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, তাদের জন্য আমার পরামর্শ আছে। এক, যুক্তরাষ্ট্র থেকে কিনুন, আমাদের কাছে প্রচুর আছে। আর দুই, একটু দেরিতে হলেও সাহস দেখান, প্রণালিতে যান, আর সেটা নিয়ে নিন।’
‘আপনাদের নিজেদের জন্য লড়তে শেখা লাগবে, যুক্তরাষ্ট্র আর আপনাদের সাহায্য করবে না, যেমন আপনারা আমাদের পাশে ছিলেন না। ইরান কার্যত গুঁড়িয়ে গেছে। কঠিন কাজ শেষ। নিজেদের তেল নিজেরাই জোগাড় করুন।’
ট্রাম্পের এমন মন্তব্যে ওয়াশিংটন ও লন্ডনের মধ্যে কূটনৈতিক অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে এমন সময়ে তিনি এ কথা বললেন যখন বাকিংহাম প্যালেস ঘোষণা করেছে, রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানি ক্যামিলা এপ্রিলের শেষ দিকে রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরান হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ অব্যাহত রাখলে ট্রাম্প সামরিক অভিযান থামাতে প্রস্তুত হতে পারেন। বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ।
হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। জলপথে ইরানের বাছাই করা অবরোধ, জাহাজ ও উপসাগরীয় লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জেরে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। এতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
ব্রিটেনে এ পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় মন্ত্রিপরিষদ কমিটির বিশেষ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন বলে জানা গেছে। সেখানে পরিবার, জ্বালানি সরবরাহ ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর এ সংকটের প্রভাব খতিয়ে দেখা হবে। স্টারমারের ভাষ্য, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘যা যা দরকার, সেগুলো যেন প্রস্তুত থাকে’, সেদিকেই গুরুত্ব দেবে সরকার।
জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব দ্রুত পড়তে শুরু করেছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কর্নওয়াল ইনসাইট জানিয়েছে, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে গৃহস্থালি জ্বালানির মূল্যসীমা সাধারণ পরিবারের ক্ষেত্রে ১ হাজার ৯২৯ পাউন্ডে পৌঁছাতে পারে। এপ্রিলের ১ হাজার ৬৪১ পাউন্ডের তুলনায় তা ২৮৮ পাউন্ড বা ১৮ শতাংশ বেশি।

