হরমুজে ব্যর্থতার মধ্যে মার্কিন নৌমন্ত্রী বরখাস্ত

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সচিব জন ফেলান
হরমুজ প্রণালিতে ব্যর্থতার মধ্যে চাকরি হারিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সচিব জন ফেলান। বুধবার ট্রাম্প প্রশাসন থেকে পদত্যাগ করেছেন তিনি।
সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল বলেছেন, অবিলম্বে কার্যকর হবে তার পদত্যাগ।
তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন নৌবাহিনীর আন্ডারসেক্রেটারি হাং কাও।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের পদত্যাগের ধারাবাহিকতায় ফেলানই সর্বশেষ সংযোজন। তার এই পদত্যাগ এমন এক সময়ে হলো, যখন ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে অব্যাহত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ।
তবে ফেলানের পদত্যাগের কারণ জানানো হয়নি। পারনেল বলেছেন, সচিব ফেলানের সেবার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। শুভকামনা জানাই তার ভবিষ্যতের জন্য।
এর আগে সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ র্যান্ডি জর্জকে পদত্যাগ করতে বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। সম্প্রতি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে জেনারেল ডেভিড হডনে ও মেজর জেনারেল উইলিয়াম গ্রিনসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তাকে। পেন্টাগনে যোগ দেওয়ার পর থেকে এক ডজনেরও বেশি শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে অপসারণ করেছেন হেগসেথ।
ফেলান ২০২৫ সালের মার্চে দায়িত্ব নেন, তাকে ২০২৪ সালে মনোনীত করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামরিক বাহিনীতে পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও তিনি ছিলেন একজন ব্যবসায়ী এবং ট্রাম্পের প্রচারণার বড় দাতা।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কূটনীতিক অ্যান্ড্রু পিক মনে করেন, প্রেসিডেন্ট পরিষ্কারভাবে দেশের বাণিজ্য ও বেসামরিক নৌবহর সম্প্রসারণে আগ্রহী। অবশেষে কাউকে এই লক্ষ্যে অগ্রগতির অভাবের দায় নিতে হবে। ফেলানের পদত্যাগে তার একটি ভূমিকা থাকতে পারে। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন কাউকে দায়িত্বে আনার পরিকল্পনাও এর পেছনে কাজ করেছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কারোলিন লেভিট বলেন, প্রেসিডেন্ট এই অবস্থানে ‘সন্তুষ্ট’ এবং মনে করেন ইরান বর্তমানে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের’ কারণে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা ‘সম্ভব নয়’।
সূত্র: বিবিসি



