জামালপুর
৭৮ লাখের সিসি ক্যামেরা বছরেই নষ্ট, বেড়েছে অপরাধ

ছবিঃ আগামীর সময়
সড়কে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থাপন করা হয়েছিল সিসি ক্যামেরা। কিন্তু জামালপুর শহরে প্রায় ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বসানো এসব ক্যামেরা এক বছরের মধ্যেই হয়ে পড়েছে অকেজো। ফলে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে।
চার বছর আগে শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, যানজট ব্যবস্থাপনা ও অপরাধ শনাক্তের উদ্দেশ্যে পৌরসভার উদ্যোগে স্থাপন করা হয় ১২৬টি সিসি ক্যামেরা। ২০২১-২২ অর্থবছরে নেওয়া এই প্রকল্পের জন্য ২০২২ সালের ২২ জুন দরপত্র আহ্বান করা হয়। পরে ২৭ জুলাই প্রায় ৭৮ লাখ টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয় মেসার্স মামীম এন্টারপ্রাইজকে। প্রতিষ্ঠানটি একই বছরের ৩০ আগস্ট কাজ শেষ করে।
পৌরসভার তথ্যমতে, ১২৬টি ক্যামেরার মধ্যে ২২টি পৌরসভা কার্যালয়ে এবং বাকি ১০৪টি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপন করা হয়। যার মধ্যে তমালতলা মোড়, ফৌজদারী মোড়, দেওয়ানপাড়া মোড়, বকুলতলা মোড়, বুড়ির দোকান মোড় ও পাঁচরাস্তার মোড় উল্লেখযোগ্য।
তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ ক্যামেরাই বর্তমানে অচল। কোথাও তার বিচ্ছিন্ন, কোথাও ক্যামেরা ভেঙে নিচে ঝুলছে, আবার কিছু ক্যামেরা হয়ে গেছে চুরি। শহরের প্রাণকেন্দ্র তমালতলা মোড়ে স্থাপিত তিনটি ক্যামেরার একটিও সচল নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও তদারকির ঘাটতির কারণে এত বড় প্রকল্পটি কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। ফলে অপরাধ দমনে কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না এসব ক্যামেরা।
শহরের বাসিন্দারা জানান, সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ছিনতাই, ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বেড়েছে। গত ৮ মার্চ চামড়াগুদাম এলাকায় এক সাংবাদিকের বাসায় দিনের বেলায় চুরি হয়। এছাড়া ৪ এপ্রিল বোষপাড়া শান্তিবাগ এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনে ঢুকে বৈদ্যুতিক তার ও মালামাল চুরির ঘটনাও ঘটে।
জেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম বলেছেন, ‘বড় অঙ্কের টাকা খরচ করে বসানো ক্যামেরাগুলো জনগণের কোনো কাজে আসছে না। সঠিক তদারকি না থাকায় এগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। দ্রুত মেরামত ও নতুন ক্যামেরা স্থাপন জরুরি।’
এ বিষয়ে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল হক জানান, গত ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় কিছু ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়, আবার অনেক ক্যামেরা নষ্ট হয়ে গেছে। দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াহিয়া আল মামুন বলেছেন, ‘সিসি ক্যামেরাগুলো পৌরসভা নিয়ন্ত্রণ করত। প্রয়োজনে আমরা সেগুলোর সহায়তা নিতাম। এখন ক্যামেরা অচল থাকায় সেটি সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি জানানো হয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষকে।’
পৌর প্রশাসক মৌসুমী খানম জানিয়েছেন, এই ক্যামেরাগুলো আমার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই স্থাপন করা হয়েছিল। বর্তমানে টেকনিশিয়ান দিয়ে সার্ভে করা হয়েছে। দ্রুত মেরামত বা নতুন করে স্থাপনের কাজ শুরু করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।



