দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় শিরীন শারমিন অসুস্থ : আইনজীবী

সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর লালবাগ থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে রিমান্ড ও জামিন উভয় নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) শুনানি চলাকালে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন, দীর্ঘদিন পলাতক অবস্থায় থাকায় সাবেক এই স্পিকার বর্তমানে শারীরিকভাবে অসুস্থ।
আদালতে শিরীন শারমিনের পক্ষে রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন আইনজীবী ইবনুল কাওসার এবং এ বি এম হামিদুল মেজবাহ।
শুনানিতে তারা বলেছেন, এই মামলায় ১৩০ জন আসামির মধ্যে শিরীন শারমিনকে ৩ নম্বর আসামি করা হলেও তার বিরুদ্ধে নেই কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ। মামলাটিও করা হয়েছে প্রায় ঘটনার ১০ মাস পর।
আইনজীবীরা আরও দাবি করেন, সাংবিধানিকভাবে স্পিকার হিসেবে তিনি ছিলেন নিরপেক্ষ। বিগত সরকারের আমলে কোনো দুর্নীতি বা অন্যায়ের সঙ্গে তার ছিল না কোনো সম্পৃক্ততার অভিযোগ। তিনি একজন ক্লিন ইমেজের ব্যক্তি। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংক্রান্ত মামলা ছাড়া তার বিরুদ্ধে নেই কোনো মামলাও। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকায় অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে রিমান্ডে না নেওয়ার জন্য তারা আদালতের কাছে সওয়াল করেন।
এদিন দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে কড়া পুলিশ পাহারায় তাকে আনা হয় সিএমএম আদালতের হাজতখানায়। পরে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে তোলা হয় কাঠগড়ায়। অন্য উচ্চপদস্থ আসামিদের মতো তার মাথায় হেলমেট বা গায়ে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ছিল না। শুনানিকালে তিনি কাঠগড়ার রেলিং ধরে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে ছিলেন।
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে লালবাগ আজিমপুর সরকারি কলোনির সামনে মিছিলে গুলি চালানোর ঘটনায় করা হয় এই মামলাটি।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আদেশে এবং ওবায়দুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অন্যদের পরিকল্পনায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে।
ওই ঘটনায় মো. আশরাফুল ওরফে ফাহিম নামে এক যুবক গুরুতর আহত হন। তার বাম চোখ ভেদ করে একটি গুলি ঢুকে যায়। শরীরের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১২০-১৪০টি গুলি বিদ্ধ হয়।
দীর্ঘ চিকিৎসা ও একাধিক অপারেশনের পর তিনি প্রাণে বেঁচে ফিরলেও দৃষ্টিশক্তি সংকটে পড়েন। এই ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই ভুক্তভোগী আশরাফুল বাদী হয়ে লালবাগ থানায় হত্যাচেষ্টা মামলাটি দায়ের করেন। বর্তমানে ওই মামলায় সাবেক স্পিকারকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে চালানো হচ্ছে আইনি প্রক্রিয়া।



