সরবরাহ সংকটে চড়া মাছের বাজার, বিক্রি নেমেছে অর্ধেকে
- কেজিতে বেড়েছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা
- বিক্রি কমায় লোকসানে ব্যবসায়ীরা

ছবি: আগামীর সময়
প্রজনন মৌসুমের কারণে ৫৮ দিনের জন্য মাছ ধরা বন্ধ রয়েছে বঙ্গোপসাগরে। ফলে বাজারে কমেছে সামুদ্রিক মাছের জোগান। এতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে সামুদ্রিক মাছের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা।
চট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউড়ি বাজারে গিয়ে দেখা যায়, এক সপ্তাহ আগে কেজি ৭৫০ টাকায় বিক্রি হওয়া লাল কোরাল বিক্রি হচ্ছে ৮০০-৯০০ টাকায়। ৬৫০ টাকার কালো চান্দা বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকায়। ছোট রূপচাঁদা ১২০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৩০০ টাকা ও বড় সাইজের রূপচাঁদা ঠেকেছে ১৫০০ টাকায়। কেজিতে ১০০ টাকা বেড়ে মাঝারি বাগদা চিংড়ি ৯০০ ও বড় চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ১৩০০ টাকায়। এছাড়া সুরমা ও তাইল্লা মাছের দামও কেজিতে বেড়েছে ৫০ থেকে ১০০ টাকা।
সাগরের মাছের সরবরাহ কম থাকায় এর প্রভাব পড়েছে পুকুর ও নদীর মাছের দামেও। কেজিতে ৩০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে এসব মাছের দাম। বাজারে রুই ও কাতলা মানভেদে ৪৫০-৮০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৮০ টাকা এবং পাঙ্গাস বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকায়। নদীর মাছের মধ্যে টেংরা ৮৫০ টাকা, বাইলা ৭৫০ টাকা এবং আইড় ঠেকেছে ১২০০ টাকায়। এছাড়া বাটা ৬০০ টাকা, পাবদা ৪৫০ টাকা, কাজলী ৮০০ টাকা, গুইল্লা ৯০০ টাকা, ছোট মোলা মাছ ৫০০ টাকা এবং শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৬০০-১০০০ টাকায়।
ফরিদা ইয়াসমিন নামের এক ক্রেতা বলেছেন, ‘কিছুদিন আগেও যে মাছ ৬০০ টাকায় কিনেছি, সেটি এখন আজ চাচ্ছে ৭৫০ টাকা। বিশেষ করে সমুদ্রের মাছের দাম অনেক বেশি।’
মাছের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাজারে ক্রেতা কমে গেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতা আব্দুল আলিম। তিনি বলছিলেন, ‘মাসখানেক আগে প্রতিদিন দেড়-দুই লাখ টাকা বিক্রি হতো, এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ হাজার টাকার মাছ। সাতজন কর্মচারীর বেতন ও দোকান ভাড়া দিয়ে লোকসান গুনতে হচ্ছে এখন।’
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, একদিকে মাছ ধরা বন্ধ, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় সংকটে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। এরপরও ভবিষ্যতে বাজার স্বাভাবিক হওয়ার আশায় দোকান খোলা রাখছেন তারা।
এদিকে, আগামীকাল শুক্রবার থেকে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে মাছধরাও বন্ধ হতে যাচ্ছে তিন মাসের জন্য। চট্টগ্রামের বাজারে মাছে বড় জোগান আসে এই লেক থেকে। শুক্রবার থেকে সেখানে মাছ ধরা বন্ধ হলে মাছের দাম আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।



