গরমে শান্তি কক্সবাজারের নোনা জলে

ছবিঃ আগামীর সময়
চৈত্রের বিকেল। তখনো কমেনি সূর্যের তেজ। লাল আলো এসে পড়েছে সৈকতে। প্রকৃতিতে কড়া নাড়ছে বৈশাখ। দাবদাহের কারণে বেশ অস্বস্তি। স্বস্তির আশায় বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের নোনাজলে নেমেছে পর্যটকের ঢল।
কক্সবাজারের কলাতলী সৈকতে দেখা হয় ঢাকা থেকে আসা চার বন্ধুর সঙ্গে। তপ্ত বালুকাবেলায় দ্রুত পায়ে হেঁটে সাগরে নামছেন তারা। উদ্দেশ্য, লোনাজলে গা ভিজিয়ে স্বস্তির আবেশ নেওয়া। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিজীবী চার বন্ধু। তাদের একজন আবুল ইনসান। তার ভাষ্য, ঢাকায় তীব্র গরম। কক্সবাজারের পাহাড় সাগরের মিতালিতে স্বস্তি পেতে আমাদের এ ভ্রমণ। বন্ধুদের সঙ্গে পুরোবেলা সাগরের ঢেউয়ে মেতে খুব আনন্দ পেয়েছি।
আজ রবিবার সকাল থেকে সৈকতের সুগন্ধা, লাবনী ও কলাতলী পয়েন্টজুড়ে মানুষের ভিড়। বালুচর যেন আগুনের মতো গরম, তবুও তা উপেক্ষা করে নারী, পুরুষ ও শিশুরা দৌড়ে নেমে পড়ছেন সাগরের জলে। ঢেউয়ের সঙ্গে লাফালাফি, টিউবে ভেসে থাকা কিংবা জেট স্কিতে ছুটে চলা। সব মিলিয়ে সৈকতজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ।
দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের ভাষায়, তীব্র গরমের মধ্যেও সমুদ্রের ঠান্ডা বাতাস আর নোনাজলের স্পর্শে মিলছে ভিন্নরকম প্রশান্তি। কুমিল্লা থেকে আসা সাইফুল করিমের ভাষ্য, ‘বাচ্চারা সবসময় সমুদ্র ভালোবাসে। খোলা পরিবেশ আর ঢেউয়ের মধ্যে তারা অন্যরকম আনন্দ পায়।’
ঢাকার বাড্ডা থেকে আসা হায়দার আলীর মতে, ‘শহরের গরম থেকে একটু স্বস্তি পেতেই এখানে আসা। সমুদ্রের পানিতে নামলেই গরম ভুলে যাই।’
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদের পরে পহেলা বৈশাখকে ঘিরে পর্যটক বাড়ায় চাঙ্গা হয়ে উঠেছে সৈকতপাড়ের অর্থনীতি। ফটোগ্রাফার, বিচ বাইক চালক, ঘোড়াওয়ালা ও জেট স্কি ব্যবসায়ীদের মুখে ফুটেছে হাসি।
ঈদের সময়ের মতো ভিড় না হলেও এখনও পর্যটক আছে মন্তব্য করে ফটোগ্রাফার আফাজ উদ্দিন জানান, এতে আমাদের আয় ভালো হচ্ছে। বিচ বাইক চালক মো. মনির জানান, পহেলা বৈশাখের দিন আরও বাড়বে ভিড়। পর্যটক বাড়ায় ভালো চলছে ব্যবসা।



