অর্থমন্ত্রী
জনগণের অসুবিধার কথা ভেবে জ্বালানির মূল্য সামান্য বাড়ানো হয়েছে

শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী । ছবি : আগামীর সময়
জনগণের অসুবিধার কথা চিন্তা করে জ্বালানির মূল্য সামান্য বাড়ানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘তেলের সংকট নেই এ কথা বলার সুযোগ নেই। সংকট তো আছে। এটা বাংলাদেশের না, সারা বিশ্বের সমস্যা। আমরা একমাত্র দেশ যে খুব দেরি করে বৃদ্ধি করেছি জ্বালানির মূল্য।’
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় মন্দির হিসেবে নির্মিত ‘সরস্বতী জ্ঞান মন্দির’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন তিনি। মন্দিরটির উদ্বোধন হয় শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে। এ সময় মন্ত্রী দেশের চলমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়েও নানা প্রশ্নের জবাব দেন।
এসময় দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি বা শৃঙ্খলা নষ্টের চেষ্টা করলে কারও ছাড় নেই বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ‘যারা স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে, তারা যেই হোক, তাদের আইনের চোখে ছাড় নেই।’
লোডশেডিংয়ে গ্রাম ও শহরের বৈষম্যের বিষয়ে তিনি বললেন, ‘পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। আমাদের সামর্থ্যের একটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে যাতে লাইট বন্ধ না হয়, ফ্যাক্টরি বন্ধ না হয় সে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি আমরা।’
অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, ‘স্থিতিশীল, সংবেদনশীল একটি দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তারা যেই হোক কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
দেশে বিভিন্নস্থানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মুখোমুখি অবস্থান প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি মন্তব্য করেন, ‘সমাজে কিছু উচ্ছৃঙ্খল লোক থাকে। তাদের দল বলে কিছু নেই। দেশের আইন অনুযায়ী নেওয়া হবে ব্যবস্থা। আইনের বাইরে কেউ যাওয়ার সুযোগ নেই।’
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনীতি প্রসঙ্গে তার স্পষ্ট বক্তব্য, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররা-ছাত্রীরা লেখাপড়া করবে, এখানে দলীয়করণের কোনো সুযোগ নেই। বাইরের কেউ যাতে ঢুকতে না পারে, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে।’
অর্থমন্ত্রী ব্যাংক খাতের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন, ‘আপনারা দেখেছেন, ২৩০ বিলিয়ন ডলার নিয়ে গেছে দেশ থেকে। ব্যাংকগুলো প্রায় ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে লুটপাট করে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের দায়িত্ব এখন বিএনপির ওপর এসে পড়েছে। এমন এক অবস্থায় আমরা দায়িত্ব পেয়েছি, যখন ব্যাংকগুলো কার্যত খালি, শেয়ারবাজার ধ্বংসপ্রাপ্ত। অনেক মানুষ তাদের জমা টাকা ব্যাংক থেকে তুলতে পারছেন না— এর চেয়ে কষ্টের আর কিছু হতে পারে না।’
‘এ অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে সময় লাগবে। আমরা চেষ্টা করছি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে। বিএনপি সব সময় আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা বজায় রেখেছে। অতীতের প্রতিটি বিএনপি সরকারের সময়ই আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ছিল, শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা ছিল, সুশৃঙ্খল ছিল সামষ্টিক অর্থনীতিও। আমরা বিশ্বাস করি, এবারও তা সম্ভব হবে, তবে আমাদের একটু সময় দিতে হবে’— যোগ করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তার মতে, ‘হাটহাজারী একটি সম্প্রীতির এলাকা। এখানে মন্দির, মসজিদ,প্যাগোডা কিংবা গির্জা-যেকোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে কাজ করে। গত কয়েক দিনে যে শ্মশান বা মন্দির সংস্কারের প্রস্তাব পেয়েছি, সেগুলো কোনো নির্দিষ্ট কমিটি থেকে নয়, বরং সাধারণ এলাকাবাসীর কাছ থেকে এসেছে। এটাই প্রমাণ করে এই এলাকার মানুষ কতটা সম্প্রীতিময়।’
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান।



