দেশে তেল-গ্যাসের সংকট, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ভরসা কয়লা

সংগৃহীত ছবি
গ্যাস ও পানির সংকটে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদন। জ্বালানি সংকটে ঝুঁকির মুখে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোই ভরসা।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ চাহিদার চেয়ে ৪৭ শতাংশ বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে কয়লাভিত্তিক দুইটি ইউনিট।
পিডিবির চট্টগ্রামের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পরিচালন ও সংরক্ষণ সার্কেল) একেএম মামুনুল বাশরী জানান, গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক কেন্দ্রই পুরো সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। তেলভিত্তিক কেন্দ্র চালানোও সীমিত রাখা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোই মূল ভরসা।
দেশে তেল ও গ্যাস আমদানি করা হয় কাতার, ওমান, কুয়েত, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে। সেখানে এখন চলছে যুদ্ধ। কয়লা আমদানি হয় দক্ষিণ আফ্রিকা, ইন্দোনেশিয়া ও ভারত থেকে। অর্থাৎ দেশে সচল ও সক্রিয় আছে কয়লা সরবরাহ ব্যবস্থা।
পিডিবি কর্মকর্তারা জানান, গত রবিবার চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ৫৯৫ মেগাওয়াট। চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে ২৮টি। ২২টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদন করেছে ৩ হাজার ৪০৮ মেগাওয়াট। এরমধ্যে দুইটি কয়লা ভিত্তিক কেন্দ্র উৎপাদন করেছে ২ হাজার ৩৫৯। যা মোট উৎপাদনের ৬৯ শতাংশ। এছাড়া বাকি ছয়টি কেন্দ্র গ্যাস ও পানি সংকটে বন্ধ রয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যাচ্ছে ১ হাজার ৮১২ মেগাওয়াট। চট্টগ্রামে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ৪৩ মেগাওয়াট।
কয়লাভিত্তিক দুইটির একটি এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট। এসআলম গ্রুপ ও চীনের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় অবস্থিত এটি। অন্যটি মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র। এটি কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় অবস্থিত।
এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ২২৪ মেগাওয়াট। গত রবিবার এ কেন্দ্রটি উৎপাদন করেছে পূর্ণ সক্ষমতার বিদ্যুৎ। মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা ১ হাজার ১৫০ মেগাওয়াট। একইদিন এটি উৎপাদন করেছে ১ হাজার ১৩৫ মেগাওয়াট।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে কয়লা আমদানি করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন টন। এর বড় অংশ এসেছে ইন্দোনেশিয়া থেকে। এছাড়াও উল্লেখযোগ্য অংশ এসেছে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে। তাই ইরান যুদ্ধের কারণে কয়লা আমদানিতে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই বলে আশ্বস্ত করলেন পিডিবির কর্মকর্তারা।
গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো এলএনজি নির্ভর যার সরবরাহ যুদ্ধের সংকটের মুখে। ফলে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্রই পাচ্ছে না গ্যাস। এ সংকটে বন্ধ থাকা বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো হলো- রাউজানের দুইটি তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিকলবাহা ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বাড়বকুণ্ড ২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র।
এছাড়া শিকলবাহা অন্য আরেকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ৭৩ ঘনফুট গ্যাসের বিপরীতে পাচ্ছে মাত্র ৩৭ ঘনফুট। যার কারণে কমিয়ে দিয়েছে উৎপাদন।
হ্রদের পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া কাপ্তাই জল বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে তিনটিই বন্ধ। অন্য দুইটি উৎপাদন করছে ৪০ করে ৮০ মেগাওয়াট।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ অনিশ্চয়তায় তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন পিডিবির কর্মকর্তারা। তাই উৎপাদন সীমিত রাখা হচ্ছে এসব কেন্দ্রে। ইরান যুদ্ধ লম্বা সময় ধরে চললে এসব কেন্দ্র বন্ধ হওয়ারও আশঙ্কা আছে।



