এমপি আবু সুফিয়ানের প্রত্যাশা : আগামীর সময় বাংলাদেশকে নতুন কিছু দেবে

ছবি: আগামীর সময়
বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের বিকালে আগামীর সময় অফিসে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছিলেন চট্টগ্রামের ‘মর্যাদার আসন’ হিসেবে বিবেচিত চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থেকে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। প্রকাশিতব্য ‘আগামীর সময়’ বাংলাদেশকে নতুন কিছু দেবে— এমন প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।
বিএনপির একদল নেতাকর্মী ও ব্যবসায়ী আবু জাফরকে সঙ্গে নিয়ে সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান আসেন নগরীর আসকার দীঘিরপাড়ে কর্ণফুলী টাওয়ারে আগামীর সময় অফিসে। যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল বাহারের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় শেষে অফিসের প্রতিটি কক্ষে গিয়ে প্রত্যেক সংবাদকর্মীর কুশল জানতে চান তিনি।
হাসিঠাট্টায় কিছু সময় পার করে আবু সুফিয়ান মিটিং টেবিলে সংবাদকর্মীদের নিয়ে বসেন আলাপনে। সাংবাদিকতা, সংবাদমাধ্যম, গণতন্ত্র, রাজনীতি নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন ছাত্রদলের মাঠের কর্মী থেকে বিএনপি নেতা হয়ে সংসদে প্রবেশ করা সুফিয়ান।
মুক্ত গণমাধ্যম আর গণতন্ত্রের নিবিড় সম্পর্কের কথা তুলে ধরলেন তিনি, ‘মুক্ত সংবাদপত্র ছাড়া, মুক্ত সংবাদমাধ্যম ছাড়া, মুক্ত সাংবাদিকতা ছাড়া কিন্তু গণতন্ত্র অচল। এটা যদি অন্তরে ধারণ করি, আমাদের জন্য ভালো। দেশের জন্য ভালো, গণতন্ত্রের জন্য ভালো।’
সংবাদমাধ্যমকে সরকারের ভ্যানগার্ড বা অগ্রসেনানী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সত্যটা জানার একমাত্র জায়গা হচ্ছে সংবাদমাধ্যম। আমার বিরুদ্ধে একটা সংবাদ হলো, সেটাকে আমি নেগেটিভলি নিলে হবে না। কেউ যদি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগও করে, সেখান থেকেও আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। বিবেচনায় নিতে হবে যে, এটা আমার বিরুদ্ধে কেন হলো !’
এ সময় ব্যবসায়ী আবু জাফর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে হওয়া মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং কারাবন্দি সাংবাদিকদের মুক্তি দেওয়ার পক্ষে মত তুলে ধরেন। বিষয়টি গ্রহণ করে রফিকুল বাহার সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষার বিষয়ে সোচ্চার হওয়ার জন্য সংসদ সদস্যের প্রতি অনুরোধ জানান।
জবাবে আবু সুফিয়ান সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিতের আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, ‘সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, চাকরির সুরক্ষা— এসব বিষয়ে আমি অবশ্যই সংসদে কথা বলব। সাংবাদিক সমাজকে সুরক্ষা দিতে না পারলে গণতন্ত্র থাকবে না।’
দীর্ঘ অবরুদ্ধ সময় পার করে দেশ গণতন্ত্রে ফেরার প্রসঙ্গও উল্লেখ করলেন সুফিয়ান, ‘একটা দীর্ঘ গণতন্ত্রহীনতার পর আমরা একটা নির্বাচন পেয়েছি। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনরায়ে আমাদের দল বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। আমরা জনগণের ভোটে, জনগণের জন্য কাজ করার জন্য নির্বাচিত হয়েছি।’
গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার পক্ষেই সবসময় থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেছেন, ‘গণতন্ত্র এবং এর ধারাবাহিকতা এটা অবশ্যই দরকার। একজন গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি এর বাইরে যেতে পারি না। একটা দল, যাদের দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে, তারা যদি এটা বুঝত, তাহলে আমাদের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে এই গ্যাপটা তৈরি হতো না। তাদের পরিণতিও এমন হতো না। ক্ষমতায় থেকে কাউকে ন্যূনতম স্পেস না দেওয়ার পরিণতি এটাই।’
‘কোনো রাজনৈতিক দলের পালিয়ে যাওয়া, চলে যাওয়া এটা আমরা চাই না। আমরা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় গেছি। অবশ্যই গণতন্ত্র ফিরেছে। কিন্তু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একটা গ্যাপ থেকে গেল বলে মনে করি। আমরা চাই, সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ধারা চলমান থাকুক। মানুষ ফাইনালি যে রায় দেয়, সেটা মেনে নেওয়ায় গণতন্ত্র। সরকারি দলে থাকি আর বিরোধী দলে থাকি, মানুষের রায় মেনে নিতে হবে।’
আক্ষেপ করে বললেন সুফিয়ান, ‘১৯৯১ সালের নির্বাচন-পরবর্তী পরিবেশের মতো গণতন্ত্রের যে আনন্দ বা স্পিরিট, পরে আর সেটা সেভাবে পাওয়া যায়নি।’
দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনের এ সংসদ সদস্য বলেছেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না, আপনারা সবাই জানেন। নানা সীমাবদ্ধতা আছে। এগুলোর মধ্যেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’
আগামীর সময়ের কাছে নতুন কিছু পাওয়ার আশা করে বলেছেন, ‘সাংবাদিকতা জগতের অনেক মেধাবী, চেনা মুখ এখানে এক জায়গায় জড়ো হয়েছেন। আশা করি, আগামীর সময় ভালো কিছু করবে। চট্টগ্রাম এবং বাংলাদেশকে নতুন কিছু দেবে।’




