চট্টগ্রাম
হাম-রুবেলা টিকার আওতায় ১১ লাখ শিশু

ছবি: আগামীর সময়
আজ সোমবার চট্টগ্রামে একযোগে শুরু হয়েছে বিশেষ ‘জরুরি হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) এলাকা ছাড়াও জেলার ১৫টি উপজেলায় চলছে এই বিশেষ কর্মসূচি।
সকালে নগরীর মেমন-২ চসিক জেনারেল হাসপাতালে মাসব্যাপী এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন। এর মাধ্যমে শহরের ৪১টি ওয়ার্ডে ৭টি জোনের মাধ্যমে টিকা দেয়া হবে ৩ লাখ ৩০০ শিশুকে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলবে টিকাদান। এছাড়াও কর্মজীবী মা-বাবার জন্য ১৪টি কেন্দ্রে বিশেষ ‘সন্ধ্যাকালীন সেশন’ চালু রাখার আশ্বাস সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মকর্তার।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ছিলেন চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা, ডা. হোসনে আরা, ডা. তপন কুমার, ডা. খাদিজা আহমেদ এবং ডা. আব্দুল মজিদ শিকদারসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।
অপরদিকে, সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এসএম পাইলট স্কুলে করা হয় জেলা পর্যায়ের টিকাদান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। ১০ মে পর্যন্ত উপজেলাগুলোতে টিকা পাবে ৭ লাখ ৬৭ হাজার ৯২৫ শিশু। এতে সভাপতি ছিলেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম।
১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে অনলাইনে নিবন্ধনের মাধ্যমে টিকা প্রদান করা হলেও, নিবন্ধন ছাড়াও শিশুর জন্য রাখা রয়েছে টিকার ব্যবস্থা। বিশেষ করে প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করতে জেলা ও মহানগরে একাধিক ‘মপ-আপ টিম’ মাঠে কাজ করছে। এমনটাই জানাচ্ছিলেন সিভিল সার্জন।
অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) নুসরাত সুলতানা, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ ফজলে রাব্বী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) দেওয়ান সাইদুজ্জামান পাঠান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু রোগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. মুসাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানাচ্ছে, চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত ৪৬৭টি নমুনা পরীক্ষার মধ্যে হাম-রুবেলা শনাক্ত হয়েছে ৪১ জন, যাদের মধ্যে মারা গেছে এক জন।
তবে হামের প্রকৃত চিত্র আরও
ভয়াবহ বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিটি হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের
ব্যক্তিগত চেম্বার থেকে হাম রোগীদের তথ্য সিভিল সার্জন কার্যালয়ে যাচ্ছে না বলেও তাদের
অভিযোগ।



