জব্বারের বলীখেলার মেলায় লাখ টাকার ঝাড়ু বিক্রি!

ছবি: আগামীর সময়
কক্সবাজারের পেকুয়ার মনজুরুল আলম। এবার মেলায় প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ঝাড়ু নিয়ে এসেছেন তিনি। সঙ্গে ছিল চারজন সহযোগী। ১৫ বছর ধরে এই মেলায় ঝাড়ু বিক্রি করতে আসেন মনজুরুল। এবার প্রায় সব মালপত্র তার বিক্রি হয়ে গেছে।
আনন্দের সঙ্গে মনজুরুল আলম বলেছেন, ‘আমরা সারা বছর এই মেলার অপেক্ষায় থাকি। দুই মাস আগে থেকেই বাড়তি প্রস্তুতি নিতে হয়। সারা বছর পাইকারি বিক্রি করলেও বলীখেলার মেলায় সরাসরি খুচরা বিক্রির আনন্দই আলাদা।’
প্রায় তিন বর্গকিলোমিটার আয়তনের বলীখেলার বৈশাখী মেলায় শতাধিক বিক্রেতা ঝাড়ু বিক্রি করেছেন। দক্ষিণ চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার থেকেই মূলত তারা মেলায় ঝাড়ু নিয়ে আসেন। মেলায় আগত দর্শনার্থীদের প্রথম পছন্দের তালিকায় থাকে গৃহস্থালি কাজে অতি ব্যবহার্য ঝাড়ু।
আব্দুল জব্বার বলীখেলা ও মেলা কমিটির সভাপতি হাফিজুর রহমানের ভাষ্য, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা ঝাড়ু বিক্রি করতে এখানে ছুটে আসেন। মেলার অন্যতম অনুষঙ্গ এই ঝাড়ু অত্যন্ত টেকসই হওয়ায় নগরবাসী বছর জুড়ে অপেক্ষায় থাকেন। আমার ধারণা, মেলা ঘিরে একশ থেকে দেড়শ শুধু ছোট-বড় ঝাড়ুর দোকান বসে। ঝাড়ুতেই কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়।
মান, আকার ও সৌন্দর্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতি জোড়া ঝাড়ু ১৫০, ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। তিন পার্বত্য এলাকাসহ লামা, আলীকদম ও চকরিয়ার পাহাড়ি এলাকা থেকে এসব ঝাড়ুর কাঁচামাল সংগ্রহ করা হয়। গ্রামের নারী-পুরুষ মিলে ঘরে বসে তৈরি করেন এসব নিপুণ ঝাড়ু। বিক্রেতারা জানান, এর মধ্যে বেত দিয়ে শক্ত করে বাঁধা ঝাড়ুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
নগরীর অক্সিজেন এলাকা থেকে মেলায় আসা হ্যাপী বড়ুয়া একাই কিনলেন ৪ জোড়া ঝাড়ু। মেলা থেকেই কেন ঝাড়ু কিনতে হবে—এমন প্রশ্নে তিনি জানান, সারা বছর এই মেলার জন্য অপেক্ষা করি। এখানকার ঝাড়ু টেকসই এবং গৃহস্থালির কাজে খুব আরামদায়ক। বিশেষ করে পাহাড়ি কাঁচামালের এসব ঝাড়ু অন্য কোথাও পাওয়া যায় না।
পেকুয়ার আরেক বিক্রেতা দিদার দুই লাখ টাকার ঝাড়ু নিয়ে মেলায় এসেছেন। তিনি জানান, মেলা দুই দিনের হওয়ায় কিছু ঝাড়ু রয়ে গেছে। তবে আজই সব বিক্রি হয়ে যাবে বলে আশা করছি।
আনুষ্ঠানিকভাবে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক আব্দুল জব্বারের বলীখেলার মেলা গত শনিবার রাতেই শেষ হয়েছে। এসএসসির পরীক্ষার কারণে মেলার মেয়াদ এক দিন কমে আসায় অনেক ব্যবসায়ীর আশানুরূপ বিক্রি হয়নি।
মেয়াদ শেষ হওয়ায় যান চলাচল স্বাভাবিক করতে আজ রবিবার সকালে রাস্তার ওপর থেকে দোকান সরিয়ে দেয় প্রশাসন। এর পরও লালদীঘি ও এর আশপাশের রাস্তার দুই পাশে পসরা সাজিয়ে বসে আছেন কয়েকশ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।



